মানুষ মরণশীল। জন্মিলে মরিতে হবে-  এ অমোঘ সত্য জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন। মহান আল্লাহ বলেন , “ প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” মানুষসহ যে কোন প্রাণী মৃত্যু বরণ করে। জন্ম হতে মৃত্যু অবধি মানুষের জীবন বিভিন্ন বর্ণিল কাজের সমাহারে সমাদৃত থাকে। সে মানুষ মহান ও চীরঞ্জীব যার কৃর্তী মানুষের কল্যানে সাধিত হয়।  মানুষের মৃত্যুকে মানুষ মনে রাখে, স্মরণ করে মানুষের কৃর্তী। তাই বলা হয়ে থাকে কৃর্তীমানের মৃত্যু নেই।

মানুষ সৃষ্টির মহান রহস্য আল্লাহপাক প্রকাশ করেছেন এভাবে, “ নিশ্চয় আমি মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার এবাদতের উদ্দেশ্যে।” সুতরাং যে মানুষ মহান আল্লার এবাদতকে তার একমাত্র উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয় তিনিই সেই মহান আল্লাহর দিদার লাভের সর্বাধিক হক্বদার।

নবী রাসুলগণের আগমণের ধারাবাহিকতার পরিসমাপ্তীতে ওলী-আওলিয়া তথা নবিগণের ওয়ারিশ তথা আলেমসমাজের আগমণ কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। অন্ধকার হতে আলোর পথে পথহারা যাত্রীদের সঠিক পথ দেখানের যে নব্যুওয়াতি দায়িত্ব তা মহান আল্লাহ তার কিছু খাছ খাছ বান্দাদের দ্বারা আদায় করে নিবেন কেয়ামত পর্যন্ত। এমনি একজন আল্লাহওয়ালা অন্ধকার হতে আলোর পথে ডাকনেওয়ালা, দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম হযরত মাওঃ আল্লামা আহমদ শফি (রহ.), পরিচালক- মঈনুল ইসলাম হাটহাজারি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় । যতদিন আল্লার হুকুম ছিল ততদিন ছিলেন, আবার মহান আল্লাহর হুকুমে তার মেহমান হয়ে গত শুক্রবার আমাদের শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। দেশে ও বিদেশে লক্ষ লক্ষ আলেম ওলামার উস্তাদ ও হক্বের রাহবার এই মানুষটি আজীবন দ্বীনের খেদমত করে গেছেন। দিনভর হাদিসের দরস আর তালিম ব্যস্ত থেকে রাতভর মহান প্রভুর দরবারে রোনাজারি করা এই মানুষটি সারাজীবন ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে থেকে ইসলামের স্বার্থে যে কাজ করেছেন তা নজির বিহীন।  আমি তার বিয়োগ ব্যাথায় শোক জানাচ্ছি। মহান আল্লাহর দরবারে কায়মোনবাক্যে প্রার্থনা করি সকল জ্ঞান পিপাসুদের যেন তিনি শোক কাটিয়ে উঠার তাওফিক দেন। যে ক্ষতি হয়ে গেল তা হয়তো কখনো পূরণ হবার নয়। আল্লাহ হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। তার কবরবে রাসুল স. এর নূরে নূরান্বিত করে দিন। তার সকল ছোট-বড় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন। আমিন ।

 

২০২জন ৪২জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

  • তৌহিদ

    মানুষ মাত্রই মরণশীল, একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। শফি সাহেবের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাচ্ছি।
    তবে কে জান্নাতি আর কে বেহেশতি একথা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আপনি আমি বলতে পারি কি? এমনভাবে লেখায় বললেন যেন- আল্লাহর দিদার লাভ করাটা শফি হুজুরের কাছে ওয়ান টুর বিষয়!

    শফী সাহেব নারীদের নিয়ে যত অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন কই সেসব নিয়েতো কিছু লিখলেন না? মতিঝিল চত্বরে হেফাজতের তান্ডব এদেশের মানুষ এত সহজে ভুলে যাবেনা নিশ্চিত।

    বাবুনাগরী যে এত কান্ড করলো গত ক’দিনে তার জান্নাত জাহান্নাম নিয়েও কিছু লিখুন ভাই। নাকি সাহস পাচ্ছেননা?

    দেশের জন্য শফি হজুরের অবদান কি বলবেন? নাকি সবাইকে বেহেশতে নিয়ে যাবার তারিকা দিয়েছেন তিনি?

    আপনি তাকে পছন্দ করতেই পারেন। তবে ব্লগে
    শফি হুজুরের মত নারী বিদ্বেষী একজনকে নিয়ে এধরনের পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    মন্তব্যকে ব্যক্তিগতভাবে নেয়ার কিছু নেই। আপনি আপনার বক্তব্য লেখায় বলেছেন, আমি আমার মন্তব্য বললাম। ☺

    আল্লাহ সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।

      • তৌহিদ

        আমি কি কোথাও বলেছি যে লেখক বলেছেন শফি সাহেব জান্নাতি? আমি বলেছি যিনি নারী বিদ্বেষী এমন সব বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে তাকে লেখায় এমনভাবে উপস্থাপন করলেন যেন তিনি বেহেশতি হয়েই বসে আছেন।

        তিনি লিখেছেন- “দিনভর হাদিসের দরস আর তালিম ব্যস্ত থেকে রাতভর মহান প্রভুর দরবারে রোনাজারি করা এই মানুষটি সারাজীবন ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে থেকে ইসলামের স্বার্থে যে কাজ করেছেন তা নজির বিহীন।”

        তারমানে কি দাঁড়ালো?

        তিনি ইসলামের হেফাজত করার জন্য তার দল সেদিন তান্ডব চালিয়েছেন?

        মানুষ মরে গেলে সমালোচনার উর্ধে চলে যায়? তাই যদি হয় তাহলে আর কিছু বলার নেই।

        আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি। আপনি লেখার স্বপক্ষে আপনার মন্তব্য দিন। আমার মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য না এলেও সমস্যা নেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। যে যার বুঝ নিয়ে থাকুন।

    • মোঃ মজিবর রহমান

      আল্লাহ হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। তার কবরবে রাসুল স. এর নূরে নূরান্বিত করে দিন। তার সকল ছোট-বড় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন। আমিন । লেখক এটা বলেছে। লেখক বলেনি শফি হুজুর জান্নাতি হয়েছে। কিন্তু আপনি বলেন ,” এমনভাবে লেখায় বললেন যেন- আল্লাহর দিদার লাভ করাটা শফি হুজুরের কাছে ওয়ান টুর বিষয়!” পোষ্টে নাই।

      কিন্তু লেখক কামনা করেছেন,” আল্লাহ হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। তার কবরবে রাসুল স. এর নূরে নূরান্বিত করে দিন। তার সকল ছোট-বড় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন। আমিন। ‘।

    • মোঃ খুরশীদ আলম

      মানুষের ভুলত্রুটি থাকে। দুনীয়ার শুরু হতে আজ পর্যন্ত এমন কোন মানুষ (নবী-রাসুলগণ ব্যতীত) নেই যার কোন ভুলত্রুটি নেই। মানুষ ভুল করে আবার আল্লাহর দরবারে ক্ষমাও চায়- তাইতো মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে পরিগনিত। কেননা ফেরেশতাদের কোন ভুল নেই। তারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন আছেন। আমারা মানুষ চাইলে ইবাদাত করতে পারি আবার নাও করতে পারি। ইবাদত না করার, আল্লাহর হুকুম না মানার ক্ষমতা থাকা স্বত্বেও যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের বাইরে চলে না তাকে ফেরেশতাদের উর্দ্ধে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হযরত মাওঃ আহমদ শফি রহ. এখন মরুহুম। তার ভুলত্রুটি নিয়ে কোন আলোচনা করা বা সমালোচনা করা আমার সাজে না যেহেতু আমি উনার সমকক্ষ কোন আলেম নই। ওনার ভুলত্রুটি থাকলে তা নিয়ে কথা বলার মতো ওনার সমপর্যায়ের অনেক আলেম এদেশে আছে। তারা করবেন । আমি যেহেতু আলেম ওলামাদের ভালবাসি তাই মন থেকে, নিজের দায়বদ্ধতা থেকে এই পোষ্ট দিয়েছি। এটা যে যেভাবে চায় নিতে পারেন। যা হোক, আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারেই আমাদের জীবনকে সাজাতে পছন্দ করি। আপনি-আমি সবাই। যার যার হিসাব তাকেই দিতে হবে। আমি অন্তত এটা মনে করি। ধন্যবাদ ভাই, ভাল থাকুন।

    • মোঃ খুরশীদ আলম

      শ্রদ্ধেয়, মানুষের ভুলত্রুটি থাকে। দুনীয়ার শুরু হতে আজ পর্যন্ত এমন কোন মানুষ (নবী-রাসুলগণ ব্যতীত) নেই যার কোন ভুলত্রুটি নেই। মানুষ ভুল করে আবার আল্লাহর দরবারে ক্ষমাও চায়- তাইতো মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে পরিগনিত। কেননা ফেরেশতাদের কোন ভুল নেই। তারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদাতে মগ্ন আছেন। আমারা মানুষ চাইলে ইবাদাত করতে পারি আবার নাও করতে পারি। ইবাদত না করার, আল্লাহর হুকুম না মানার ক্ষমতা থাকা স্বত্বেও যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের বাইরে চলে না তাকে ফেরেশতাদের উর্দ্ধে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হযরত মাওঃ আহমদ শফি রহ. এখন মরুহুম। তার ভুলত্রুটি নিয়ে কোন আলোচনা করা বা সমালোচনা করা আমার সাজে না যেহেতু আমি উনার সমকক্ষ কোন আলেম নই। ওনার ভুলত্রুটি থাকলে তা নিয়ে কথা বলার মতো ওনার সমপর্যায়ের অনেক আলেম এদেশে আছে। তারা করবেন । আমি যেহেতু আলেম ওলামাদের ভালবাসি তাই মন থেকে, নিজের দায়বদ্ধতা থেকে এই পোষ্ট দিয়েছি। এটা যে যেভাবে চায় নিতে পারেন। যা হোক, আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারেই আমাদের জীবনকে সাজাতে পছন্দ করি। আপনি-আমি সবাই। যার যার হিসাব তাকেই দিতে হবে। আমি অন্তত এটা মনে করি।

      আপনি হয়তো শিরোনামের গভীরের অর্থ ধরতে পারেননি। মৃত্যুর পর মুসলমানতো আল্লাহর দিকেই পত্যাবর্তন করে, তাই না? মৃত্যু ছাড়া কি সেটা সম্ভব? আল্লাহর সাথে তার বান্দার সাক্ষাত হবার একমাত্র যোগসূত্র হলো মৃত্যু। ধন্যবাদ।

      • তৌহিদ

        মানুষ মরে গেলে সমালোচনার উর্ধে চলে যায়? তাই যদি হয় তাহলে আর কিছু বলার নেই।

        আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি। আপনি লেখার স্বপক্ষে আপনার মন্তব্য দিন। আমার মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য না এলেও সমস্যা নেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। যে যার বুঝ নিয়ে থাকুন।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নিয়েছেন তাঁর নিকট। আল্লাহর পথে তাঁর যদি আল্লাহপ্রীতি ইবাদত থাকে আল্লাহ তাঁকে নিশ্চিত তাঁর প্রাপ্য দেবেন। যার যা কর্ম সে তাই পাবে। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত বাসী করুন আমীন।

  • ফয়জুল মহী

    মানুষ মরে গেলে সব সমালোচনার উদ্ধে রাখা উচিত।ভালো মন্দের বিচার আল্লাহ করবেন । শাপলা চত্বরে এতিম বাচ্চাদের নিয়ে সরকারী সন্ত্রাসী দিয়ে মেরেছে উনি আবার উনার পুত্রকে দিয়ে সরকারের সাথে আতাত করে টাকা জমির মালিক হয়েছেন । কেউ কেউ বলছেন উনি রাজাকারও ছিলেন । কিন্তু উনার বিচার হয়নি । প্রভাষ আমিন , অমি রহমান পিয়াল এবং কিছু মুফতি আগে সবসময় উনার বিরোধী ছিল কিন্ত আজ দুইদিন উনার পক্ষে অনলাইনে সরব। এইসব হলো পচা পলিটিক্স । একজন একটা বগ্লে লিখেছেন টেকনাফ হতে ফেনী পর্যন্ত সব কওমী মাদ্রাসায় উনার প্রচণ্ড প্রভাব ছিল। এই কথা শতভাগ মিথ্যা । ফেনীর সবচেয়ে বড় কওমী মাদ্রাসায়ও উনার প্রভাব ছিলো না । আমাদের সমাজের এতিমখানা ও মাদ্রাসা চলে ফুরফুরা শরীফের ত্বত্তাবধানে ।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য