সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আম্মা।

উর্বশী ১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১২:৩১:৪৪পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

শৈশবের  শোনা  গল্প সোনার ও রুপার কাঠির যাদুর স্পর্শ  পেলে সবকিছু ফিরে পাওয়া যেত,যদি এরকম সত্যি কিছু হতো তাহলে আমার আম্মা সহ সকল আপনজনদের  না ফেরার দেশে থেকে ফিরে পেতাম।
আমার আম্মার কন্ঠের মাধুর্য, সুস্পষ্ট উচ্চারণ, ভাষার অপূর্ব  গাঁথুনিতে  ছিলেন অতুলনীয়। ছোট বেলায় দেখেছি গ্রীষ্মের ছুটির  সময়ই  তিনি তার বাবার বাড়ি যেতেন।কারন আত্মীয় – স্বজনের ছেলেমেয়েদের  ছুটি থাকতো,তারা অপেক্ষা  করতো আম্মা কবে যাবেন।আম্মার গল্পবলা শোনার জন্যই  অধীর আগ্রহে  সবাই থাকতো।এক কথায় বলা যায় আম্মা ছিলেন ছোট, বড় সকলের মধ্যমনি। পৃষ্ঠার  পর পৃষ্ঠা  লিখলেও শেষ হবেনা আম্মার সম্পর্কে। এই গ্রীষ্মের  সময়ই  শেষবারের মত তার বাবার বাড়িতে আমরা রেখে এসেছি।  গত ২৮ শে মে দিবাগত রাত  ১২ টা ৫৫ মিনিটে  আম্মা  না ফেরার দেশে চলে যান।
মহান আল্লাহ পাক  আম্মাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—– আমীন।

                      ”   আম্মা  “
এখন তুমি আমার স্মৃতির  ডাইরির  জ্বলজ্বল  করা নক্ষত্র,
আমার বাস্তব, আমার দুর্ভাগ্য, ভাগ্যচিন্তা,
অসীম শূন্যতা ভরা মন বিষাদের কুহেলিকায়,
আঁখি ছলছল  মনে হাহাকার  সময়ের সীমানায়,
কখনো  কেউ বুঝতে পারবেনা লুকানো  কষ্ট মনের মনিকোঠায়।
বিস্মৃতির  স্রোতে ভেসে যাবে  নিঃশব্দের এই পথ চলা একদিন,
প্রকৃতিও  সাজবে তার বিচিত্র  রুপে  অন্তহীন।
নির্মল আনন্দ নেই  উচ্ছ্বল ঝরঝরে বৃষ্টির জলে,
আজ আর মৃদংগ বাজেনি  বৃষ্টির সরোবর টলমলে।
ঝিরিঝিরি  বাতাসে  উড়ে গেল নিশ্চুপ  ছোট্ট  পাখি,
আকাশ পানে খুঁজে বেড়াই নিঃশব্দে  আনমনে একাকী।
শেষ দেখা তোমার নীরব  ঘুমে বিভোর শরীর,
সু- শীতল এক অকৃত্রিম  মুক্তি দিলে ,
প্রতিনিয়ত  সেই মুখচ্ছবির সাথে  দেখা হয় এখন,
জীবন দ্বীপে  জমিয়ে রাখা স্মৃতিগুলো বিভ্রমে কাটবে নির্জন।
মনের ফাঁকে  লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো জীবন বদলে দিবে,
রঙিন স্বপ্ন গুলো প্রসন্নতায় হারিয়ে যাবে।
এখন তুমি আমার  সাহিত্যে নতুন প্রজন্ম বিদ্যাপীঠ  গৃহ,
মানষিক  দ্বিধাগুলো কুঁচিকুঁচি  করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ,
বাস্তবতায় ফিরবো মানবিক এই ভবের সংসারে।
এখন তো  তুমি আমার লেখার কালজয়ী  বর্তমান,
নাহ! কারো প্রতি  নেই কোনো  অভিযোগ,  অভিমান।
গভীর অনুভূতির  ছোঁয়া পাবে  তোমার মুখচ্ছবির লেখায়,
থেমে গেছে হাসি- আনন্দ,থেমে গেছে মান – অভিমান,
থেমে গেছে যেন সব কর্ম কোলাহল।
জীবন সন্ধিক্ষণে  এসে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দ মায়ায়,
সন্ধ্যা নামে গোধূলি  বেলায়, বেলা শেষে অবেলায়।
যেন থমকে গেছে জীবন——
জন সমুদ্রের মাঝে তুমি ছাড়া বিচ্ছিন্ন  এক দ্বীপ।
সবাই জানাযার নামাজে দাঁড়িয়ে মসজিদ  প্রাংগনে,
তোমার লাশের কফিন ছুঁয়ে বলতে পারিনি,
আম্মা যেওনা আমাদের ছেড়ে।
সূর্যের ঝলকানির  মাঝেও আকাশ মেঘের দেয়ালে শ্রাবনের ঢেউ উঁকি  দিয়েছিল।
এলোমেলো  বাতাসে উড়লো বিদায় ঘন্টার পাখি,
ভবের এই সংসারে  পারিনি রাখতে ধরে।
তুমি নেই চোখের জলে ভিজবে জীবনের উঠোন,
তুমি বিহীন জন্ম নিবে এক নির্জন  মরুভূমি ,
অনন্তকাল  বেঁচে থাকবে তোমার জ্ঞানের বাণী,
স্বপ্ন ভাঙা মনের গভীরে দিচ্ছি হয়তো কিছু শান্তনা,
এই জীবনে শত খুঁজলেও তোমার দেখা পাবোনা।
বিনম্র শ্রদ্ধা  করছি নিবেদন,
ভুলে যাবনা মোরা তোমার স্নেহ,ভালোবাসা  আর শাসন।
মৃত্যুকে ঘিরে  রাখে চারপাশ তবুও মৃত্য চিরন্তন,
চরম সত্যিটাকে  করতে পারিনা  যেন আলিংগন।
সত্যকে  তো সত্যিই  বলতে হবে,
মিথ্যার বেড়াজালে বাকরুদ্ধ  আর হবো না,
সবুজ এলেও ধূসর  হয়,যখন মনে হয়,
তোমার ঠিকানা  এখন মাটির বিছানা,
স্রষ্টার  মাঝে যেন তোমায় পাই এটুকুই  শুধু কামনা।

কিছু কথা ঃ—–  আম্মা এবং আমি  এক সাথেই  ডাক্তারের কাছে ভিজিটে যাই  ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে। দুই ভাই, আম্মা,ও আমরা দুই বোন এক সাথেই অসুস্থ  হই। এক ভাই এখনো  হাসপাতালে  অবস্থান করছেন।তিনি আম্মাকে শেষ দেখাও দেখতে পারেন নি।  আমরা কিছুটা  সুস্থতা লাভ করলেও  আম্মাকে হারিয়ে ফেললাম।
এই কথাগুলো হয়তো অপ্রয়োজনীয়  মনে হতে পারে আপনাদের সবার কাছে।  আমার কাছে মনে হয়েছে সবাইকে  জানানো দরকার, কেন আমার সোনেলায় নীরবতা  ছিল??? আমি টানা  চার মাস শয্যাশায়ী  ছিলাম।
ভালোবাসার  এই উঠোন টাকে বড্ড ভালো বাসলেও  অনুপস্থিত  ছিলাম অনেক দিন।
মাননীয় উপদেষ্টা গন,এডমিন ও মডারেটর গন, শ্রদ্ধেয় লেখক ও লেখিকা গন এবং  প্রিয় পাঠক – পাঠিকা গন সবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা  জানাচ্ছি। দীর্ঘ  সময়  অনুপস্থিতির জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।  আম্মা চলে যাওয়াতে আবার অসুস্থ হয়ে যাই,চেষ্টা করছি ভাল থাকার বাকি আল্লাহ ভরসা।
সুস্থতা নিয়ে ফিরে আসতে চাই। শুধু সোনেলাকে ভালোবেসে যাই।সকলের জন্য অফুরান ভালোবাসা ও  শুভ কামনা।

৩৬৩জন ৯৩জন
0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য