সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-তেরো)

সুরাইয়া নার্গিস ১৫ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, ০৯:২২:২৯পূর্বাহ্ন গল্প ১৫ মন্তব্য

-বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষন ধরে এপাশ-ওপাশ করে চলছে আরাফ চোখ দু’টো ঝিমিয়ে আসছে ও এখন ঘুমাতে চায় না; অন্তত মন বলছে না। আরও কিছুক্ষন ভাবতে হবে।
ভাইয়া, ভাবি, মা, বাবা সবার এইটাই চাওয়া আরাফকে বিয়ে করতেই হবে।

অনেক ভেবে আরাফ সিদ্ধান্ত নিল। ময়মনসিংহে যেতেই হবে, প্রিয়ার সাথে কথা বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই আরাফের। ময়মনসিংহে যাবার ট্রেনটা ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সকাল ৭.৩০ মিনিটে তার আগেই ভোরে স্টেশনে পৌঁছতে হবে।

আজ ঘুমাতে দেরি হলে ভোরের ট্রেনটা মিস হয়ে যাবে! আরাফ ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল।

ঠুন ঠুন ঠুন করে কয়েকবার ফোনটা বেজে গেল, আরাফ ওয়াশরুমে ছিলো তাই রিসিভ করতে পারে নাই।
আরাফ মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল শীলা কল দিয়েছিলো। হয়ত জরুরী কোন প্রয়োজনেই কল করছে। আচ্ছা স্টেশনে যেতে যেতে কথা বলে নিব। এখন ফোন দিয়ে কথা বললে বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়ে যাবে, ফের না ট্রেন মিস হয়ে যায়!

আজাদের মনটা আজ বেশ ভালো সকালের হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু আজাদ একটু ঘর কুঁড়ে, সারাদিন অফিস তারপর বাসায় প্রিয়াকে নিয়ে গল্প করে সময় কাটান। প্রয়োজন ছাড়া তেমন বাসার বাইরে যায় না বললেই চলে।

আজ সকালে এক কাপ চা খেয়েই বাসা থেকে বের হয়ে গেল আজাদ। শ্বাশুড়ী মা বেশ কয়েকবার আজাদের কথা মিরার কাছে জানতে চেয়েছে, মিরা ততবারই জানি না বলেই জবাব দিয়েছে।

তবে বাজারের ব্যাগটা কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আজ শুক্রবার মিরার বুঝতে বাকি রইল না আজাদ বাজার করতে গিয়েছে। মিরা কাজে মন দিল, শ্বাশুড়ী মা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তাসবীহ্ হাতে নিয়ে নিজের রুমে গেলেন।

প্রিয়ার স্কুল নেই তবু সে পড়ার টেবিল থেকে ওঠে না। সারাক্ষন বইয়ের ভিতর মাথা গুজে রাখে চিন্তা একটাই, ভালো রেজাল্ট করতে হবে। মিরা নাস্তা দিয়ে গেছে কখন খাওয়ার নাম নেই। প্রিয়া চেয়েও দেখে নাই প্লেটে কি আছে, মনযোগ দিয়ে পড়ছে। বিজ্ঞান বিষয়টা একটু কঠিন তাই এটাতে একটু বেশি সময় দেয় প্রিয়া।

মা আমি একটু বেরুচ্ছি ফিরতে হয়ত রাত হতে পারে, তুমি বাবাকে বলো টেনশন না করতে। বলতে বলতে আরাফ দোতলা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলো, মনোয়ারা নিচে সোফায় বসে ছিলেন। সকালে হাঁটাহাঁটির পর একটু বিশ্রাম করেন। কোথায যাবে আরাফ.?
মা ফিরে এসে বলবো।
আমার একটু তাড়া আছে, বলেই মায়ের পা ছুয়ে সালাম করলো আরাফ।

মনোয়ারা চিন্তায় পড়লেন! আরাফ পরীক্ষা বা কোন শুভ কাজে গেলে বাবা মায়ের দোয়া চেয়ে সালাম করে নেয়। আজ তাহলে কি কাজ যা মাকে বলতে পারলো না হাজার কথা মাথায় ঘুরতে লাগলো।

আরাফ রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মনোয়ারা চেয়ে দেখলো সন্তানদের সাথে তার কত দূরত্ব দৃষ্টি হয়েছে। আগে আরাফ মায়ের সাথে সব শেয়ার করতো আর এখন প্রয়োজন মনে করে না। সেজন্য সে নিজেই দ্বায়ী। সমাজের উন্নয়ন,পার্টি, সেমিনার এসব করে, মানুষকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজের সন্তানদের সাথে সময় দিতে পারে নাই।
মনোয়ারা এসব ভেবে মনে মনে আফসোস করলো।

আরাফ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় যানবাহন নেই চললেই চলে। পথিকের তেমন আনাগোনা লক্ষ করা গেল না। স্কুল, কোচিং পড়তে যাওয়া প্রিয়ার বয়সি কিছু ছেলে মেয়ে আরাফের সামনে থেকে হেঁটে গেল। আরাফ রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে, খালি রিক্সা নেই। যা পাওয়া যায় তাতে স্কুল, কোচিং গামী ছেলে মেয়ে মা -বাবা,বা নিকট কোন আত্নীয় সাথে নিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে। কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পরে আরাফ একটা সিএনজি পেল তাতে চড়েই সোজা স্টেশনে পৌছায়।

আরাফ মোবাইল বের করে দেখল ট্রেন ছাড়ার আধা ঘন্টা পূর্বে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। এখন সময় ৭.০০ বাজে ট্রেন ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছাড়বে সকাল ৭.৩০ মিনিটে।

প্রিয়ার স্কুল বন্ধ! প্রাইভেট নেই! কোচিং নেই! আজ বাসায় থাকবে। ওর সাথে অনেক সময় গল্প করা যাবে। আজ প্রিয়াকে আমার মনের সব কথা বলবো অনেক ভাবনা আরাফের মন রঙিন হয়ে যায়। এখনো ট্রেন ছাড়তে ৩০ মিনিট বাকি এই সময়টুকু শীলাকে ফোন দিয়ে কথা বলে নেই।

শীলা খুব ভালো মেয়ে ভদ্র,শিক্ষিত,সুন্দরী,মিষ্টি একটা মেয়ে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের একমাত্র মেয়ে শীলা। ধানমন্ডিতে নিজেদের দু’টো বাসা একটাতে ওরা থাকে, অন্যটা ভাড়া দেওয়া। আমি জানি শীলা আমাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আমি তাকে….

…..চলবে।
সুরাইয়া নার্গিস আলিফ।

২৭৯জন ১৮৪জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য