অদ্ভুত কথা কেন বারবার বলতে যাও বিনু।
আমি একজন জমিদার আমার মুখের উপর তোমার কোন কথা মানায় না।
দূর গাঁ হতে এসেছে বলে কিছু বলতে যাচ্ছি না।
না হলে বাড়ির কালোবিড়াল দিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতাম দুজনকে।
আজ্ঞে কর্তামশাই আপনার কালোবিড়াল নাকি রাতের বেলা কালোভূত হয়ে যায়!
কে বলে বিনু এমন উদ্ভট কথাবার্তা?
আজ্ঞে কর্তামশাই কে আর বলবে আপনার অকালকুষ্মাণ্ড শ্যালক লালমোহন।
আর যাই হোক কর্তামশাই আজ মঙ্গলবার চারদিকে নাকি ঘোর অমাবস্যা লাগবে। তাই আপনি আজ ভূতপ্রেতদেরকে কখন আবাহন করবেন?
যদি বলেন খুশি হবো অনেক।
খাসকামরায় একে একে লোকের সমাগম।
জমিদার হরিবাবুর ভূতময় ছবি কে রেখেছে আজ তা বিচার হবে। রাঘব কালো চশমা,কালো পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার বাবুর বাম পাশে।
রাঘবের এমন পরিধান বস্ত্র পরার অদ্ভুত একটা রহস্য আছে বটে। এ রহস্য বিনু জানেনা!
হিন্দুবালা এসেই হরিবাবুকে বলছেন কী গো আর কতক্ষণ এদেরকে নিয়ে বকবক করবে শুনি?
সেই কবে এসেছ দুজন।
অতিথি আপ্যায়ন এনে এতো কথাবার্তা মানায় না।
তখন ঠিক তিনটে বেজে কুড়ি মিনিট।
লালমোহন বাড়িতে নেই বাজারে গিয়েছে মোমবাতি,  আগরবাতি কিনে আনতে।
আজ আর লালমোহনের অপেক্ষা না করেই জমিদার হরিবাবু বিনু ও রাঘবকে নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজনে বসলেন।
খাবারের তালিকায় রাজসিক রাজভোগ এ যেন  প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভাসছে।
যদিও আজ চারদিন বাগানবাড়িতে আসার বিনু ও রাঘবের। যতদিন পর্যন্ত ভূত দেখতে পারবেনা রাঘবের শপথ সে সেখান থেকে চলে যাবেনা। আর বিনু অপেক্ষায় বসে আছে রাঘব কী সত্যিকারে তাকে ভূত দেখাতে পারবে।
তাই রাঘব জমিদার হরিবাবুর কাছ হতে বেশ কয়েকটা দিন থাকার জন্য আবেদন চাইলে জমিদারবাবু বললেন তোমাদের যতদিন ইচ্ছে থেকো আমার অসুবিধে নেই।
খাসকামরায় ভূতময় ছবির নালিশ ভাটা পড়ে গিয়ে
হঠাৎ খবর এলো জমিদার বাড়ির কালোবিড়াল নাকি পাগল হয়ে গিয়েছে!
এ কী সর্বনাশ!
বিনু জমিদার হরিবাবুকে বলছে আজ্ঞে কর্তামশাই
কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হয় আর কালোবিড়াল কামড়ালে কী হয়?
উত্তরে তোমার কপাল হয় বিনু।
এ কী বলছেন কর্তামশাই।
কালোবিড়াল না কী গতকাল রাত হতে বাইরে আছে, আর সামনে যাকে পেয়েছে তাকে কামড় দিয়েছে।
এ যেন উল্টো বিচার জমিদারের ঘাড়ের উপর।
হরিবাবু নিজের ভূতময় ছবির বিচার করতে গিয়ে বাড়ির কালোবিড়ালের আসামি হতে চলছেন।
লজ্জায় মাথানত গ্রামের লোকজনের কাছে।
কোন উপায় না দেখে নিজেই কালোবিড়াল খুঁজতে লাগলেন।
তখন সন্ধ্যা প্রায় ছুঁইছুঁই।
হরিবাবু হঠাৎ নিজের ঘরে গিয়ে দেখেন বিছানার উপর বাড়ির কালোবিড়াল মহারাজার মতো শুয়ে আছে।
আপন গিন্নী হিন্দুবালাকে সাথে নিয়ে ধরার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে পড়েন।
সারাদিন ক্লান্ত তাই আপনমনে শুয়ে আছেন নিজের বিছানায়।
হরিবাবু যেই ঘুমঘোরে ক্লান্ত তখন ছাদের উপর থেকে কালোবিড়াল মুখের উপর প্রসাব করে দিয়েছে।
লাফ দিয়ে ঘুম থেকে ওঠে এদিক ওদিক চেয়ে কোনকিছু না দেখতে পেয়ে লালমোহনকে ডাক দিয়ে বললেন মোহন দেখে যাও সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে।
মোহন এসে দেখে জামাইবাবু আপনার মুখে কালোবিড়াল প্রসাব করেছে!
এ বিড়ালের জন্য আমি অতিষ্ঠ মোহন এই বিড়ালের কিছু একটা ব্যবস্থা করো। আর বাইরের লোকজন যাতে না জানে আমার মুখের উপর প্রসাব করেছে বাড়ির কালোবিড়াল।
ঠিক আছে জামাইবাবু।
আপনার যথাজ্ঞা পালন করতে আমি সদা প্রস্তুত।
লালমোহন সবেমাত্র হ্যায়ার – সেকেন্ডারি দিয়েছে।
লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালো।
আজ গভীর রাত্রিতে ভূতপ্রেতের আত্মাকে আবাহন করা হবে বাগানবাড়ির শ্যাওলা গাছের তলায়।
লালমোহন প্ল্যানচেটের মাধ্যমে আত্মাকে কিভাবে আবাহন করতে হয় তা শিখেছে ভগিনীপতি হরিবাবুর কাছ হতে।
লালমোহনের এমন রহস্য বিদ্যা জানা আছে বিনু ও রাঘব তো দূরের কথা কোন কাকপক্ষী জানেনা।
চণ্ডীপাঠ থেকে জুতো সেলাই সবকিছুতে পারদর্শী হরিবাবুর শ্যালক লালমোহন।

১৫৪জন ৭০জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য