মূল লেখায় যান

শুন্যতার আওয়াজ

মেহেরী তাজএকান্ত অনুভূতি২৮টি মন্তব্য

সকাল সকাল উঠে খেজুররস, একটু বেলা হতেই মায়ের হাতের পায়েশ,
তারপর আর একটু বেলা হতেই পোলাও এর চাল,গাজর,নতুন আলু,দুচার টা পুই শাক, নাম মনে পরছে না এমন কিছু সবজী দিয়ে গরম গরম খিচুরি,আর ডিম ভাজি,
দুপুরে মায়ের হাতের স্পেশাল ডাল,আলুর ভর্তা,কই মাছ ভাজি,সীম ভাজি আর নতুন চালের ভাত খুব খেতে ইচ্ছা করছে।

শিশির ভেজা সরিষা ক্ষেত দেখিনি এবছর।
রং বেরং এর ঘুরি উড়ানো দেখিনি এ বছর।
পুকুর পাড়ে বসে বসে পিচ্চিদের গাদোল খেলা দেখিনি এবছর।
পানির ভয়ে পুকুর পাড়ে দাড়ায়ে কোন পচ্চি কে কাঁদতে দেখিনি এবছর।
বাজি ধরে সাঁতার কাটে তিন বিঘা পুকুর টা পার হতে দেখিনি কাওকে এবছর।
খেজুরে রস চুরি করে খাইতে দেখিনি এবছর।
মাঝ রাতে গা ছম ছম করা শীতে কাতর শিয়াল গুলোর ডাক শুনি নি এবছর।
সবাই মিলে গোল হয়ে আগুন পোহাইনি এবছর।

কতদিন বাড়ি যাই না। বাড়ি যাবো।

মোট পড়েছেনঃ ৭৫৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৮টি মন্তব্য

  1. শুন্যতার আওয়াজ আমাদের কানে শুনিয়ে একা একা চলে যাবেন? 🙁
    তবু যান, ফিরে এসে কি কি করলেন সেটাই বলবেন। গাদল খেলা, বহু বছর পর শব্দটা শুনে মন খচখচ করলো। ভাল থাকুন আমার জেলার তাজ।

      1. হুম খুব মিস করি। ক্লাস নাইনে বরিশালে চলে যেতে হয়েছিল, সেখানে কেউ গাদল খেলার নামই শোনেনি, এটা হয়তো উত্তরাঞ্চলের খেলা। ওখানে ওরা খেলত দাড়িয়াবান্ধা, গাদল খেলার মতোই কোর্ট করে। চিবুড়ি, গোল্লাছুট সব খুব মিস করি, খুব। তুমিও ভালো থেকো আপু।

  2. এমনভাবে বললেন যেন আমারই গাঁয়ের কোন মেয়ের কথা শুনছি। শীতে পানির ভয়ে পুকুরপাড়ে আমিও যেন কাউকে দেখছি কাঁদতে – পিচ্চি ছেলেটা। আগুন পোহানোর আয়োজনটা যেন আমাদেরই উঠোনে। আগুন পোহানো শেষে ছাই সরিয়ে গরম মাটিতে বুঝি আপনিও দাঁড়িয়েছেন কখনও? আপনার বাজি ধরে সাঁতার কাটার ছেলেদের একজন আমি। আপনারই গাঁয়ের ছেলে আমি। ভাল মনে করিয়েছেন, শীতে বাড়ি যেতে হবে। 🙂 ভাল থাকবেন।

      1. আপনার কিছু পুরোনো পোস্ট পড়ে মনে হলো আমরা একই গ্রামের না হলেও প্রতিবেশী হয়তো ঠিকই হব। আপনার পোস্টটি আমাকে অনেক কিছু মনে করিয়ে দিল। শিশিরে ভেজা খেজুরের রসের হাড়িতে সরিষা ফুলের লেগে থাকা দৃশ্যটি আমি এখন স্পষ্ট দেখতে পেলাম। ভাল থাকবেন।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?