মূল লেখায় যান

দ্বন্দ্বযুক্ত সম্পর্ক

নীলাঞ্জনা নীলাবিবিধ৩৫টি মন্তব্য
সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ...
সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ

কি অস্থিরতা কাজ করতো জানতে,
কেমন তোমার দৈনন্দিন জীবন।
কেমন তোমার রাত্রি থেকে সকাল?

যে আয়না প্রথম সকালে তোমার মুখ দেখে গর্বিত হয়,
যে হেয়ার ব্রাশে তোমার এক/দুটো চুল গেঁথে থাকে।
যে টুথব্রাশটা তোমার ঠোঁট-মুখ ছোঁয়।
স্নানের সময় জলের ধারায় তোমার চোখের পলক কিভাবে নাচে;
সকালে কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়ে ওই ঠোঁট কতোটুকু সঙ্কুচিত হয়।

যে হ্যাঙ্গারে ঝুলে থাকে তোমার পোষাক,
আলমারি জুড়ে তোমার শরীরের গন্ধ,
অনুভব করার কতো ইচ্ছে ছিলো।
জুতোর র‍্যাকে সাজিয়ে রাখা হরেক রকম ফ্যাশন,
রেডি হয়ে আঙুলগুলো ঘুরিয়ে দরোজার যে লক খুলে বের হও,
তখন তোমার কেমন থাকে মুখটা?

সারাটি দিনের ছুটোছুটির পর সন্ধ্যের সময় যখন একান্ত নীড়ে ফিরে আসো,
এসে ক্লান্তি দূর করতে পা ছড়িয়ে, শরীর এলিয়ে দাও সোফায় কিংবা রকিং চেয়ারে;
তারপর উঠে মুখে জলের ঝাপটা দাও,
তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুঁছে রাতের পোষাক পড়ে
খাবার টেবিলে এসে বসো।
তিনটি আঙুল নাকি কাঁটাচামচ(জানিনা সেও, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব)
কিভাবে খাবারগুলোকে গুছিয়ে এনে তোমার ক্ষুধার্ত পাকস্থলীকে শান্ত করে,
হায়রে পাগলামী।

শয্যাকে আলিঙ্গন করার আগে ব্যালকনিতে গিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আমায় ভেবে
তোমার আবেগের স্পন্দন কতোটা ওঠানামা করে,
এসব দেখার জন্যে কতো কতো স্বপ্নর জন্ম যে হয়েছিলো।
আহা কিসব পাগলামী চাওয়া!

এসব জানতে-দেখতে ঠিকানা লাগে।
অস্থিরভাবে খুঁজেছি তোমার ঠিকানা, ফোন নাম্বার।
আজ ওসব সবই আছে,
তোমার ঠিকানার দরোজায় আজ আমার প্রবেশ নিষেধ,
তোমার ফোনে এখন সীমাবদ্ধতার কথোপকথন।

কি অদ্ভূত এক জীবন আমার!
সব পেয়েও কিছুই নেই,
তোমার স্পন্দনে আমি নেই,
তোমার আবেগে কেবল মানবিকতা কাজ করে আমার জন্যে।
তবুও জানো কিছু একটা আছে এখনও, যার কোনো নাম আমার জানা নেই।

হ্যামিল্টন, কানাডা
২৬ মে, ২০১৫ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ৬৮৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৩৫টি মন্তব্য

  1. অপেক্ষা মধুরতর থেকে মধুরতম হয় যখন সত্যি সত্যি কবিতাকে স্পর্শ করা যায়।
    বা কবিতা নিজেই স্পর্শ দেয়। বলছি না, এটি আপনার শ্রেষ্ঠতর বা শ্রেষ্ঠতম লেখা।
    তবুও ভালোলাগাটুকুকে অস্বীকারের উপায় পাচ্ছি না।
    আপনার তুমিময় কবিতায় ‘কিছু একটি যে আছে’ তা আমিও মেনে নিচ্ছি ।

    পরে আর একবার লিখব।

    1. প্রেম এই একটিই সম্পর্ক আছে পৃথিবীতে যা চিরন্তন সত্য।
      চেষ্টা নয়, চলে আসে লেখায়-ভাবনায়। হয়তো তাই পারিনা এড়িয়ে যেতে নিজেকে।
      বারবার আত্মসমর্পণ করি দূর্বল কিংবা সবল এই আবেগের কাছে।

      আপনার মন্তব্য আমাকে লিখতে ভাবায়, তাহলেই বুঝুন আপনার মন্তব্য কতোখানি ভারী!

      আবারও ধন্যবাদ। -{@

      1. বলছি না
        এমন করে কাউকে খুঁজিনি/খুঁজছিনা,
        বলছি না
        এমন কাউকে পেয়েছি/পাইনি/পাবনা।
        পরিব্রাজক ভালোবাসা ভালোবেসেই ভালোবাসে।

        ♣আপনি একটু বাড়িয়েই বলেন!!

        1. মন্তব্য করাও শিখতে হবে। এতো চমৎকার আর্ট মন্তব্যের ভেতরে।
          বাড়িয়ে বলবো কি করে?
          ওটা পারিনা বলেই তো পদার্থ বিজ্ঞানের স্যার প্র্যাক্টিকেল পরীক্ষায় প্রায় ফেল করিয়ে দিচ্ছিলেন।

          তবে পরিব্রাজক ভালোবাসা ভালোবেসেই যে অসাধারণ মন্তব্য করে, সে তো দেখছি। 🙂

  2. এই এতো করে ভাবনাগুলো সেই সময়ের জন্য সত্যি ছিল। এখনকার এই সীমাবদ্ধতাও এই সময়ের জন্য সত্যি। এটুকুই জানি কিছু একটা থেকেই যায়, যার কাছে সময় কোন ব্যাপারই নয়। অনুভূতির আগে কম বা বেশি শব্দ লাগানো যায়না। অনুভূতি অনুভূতিই। কবিতা ভালো লেগেছে বলছিনা, কবিতা বেশিইইইই ভালো লেগেছে……

  3. অপেক্ষা আমার জীবনের সাথী চিরটাকালের। তবুও কেন জানি মধুর থেকে মধুরতর হচ্ছে প্রতিদিন।

    আপু আপনার গদ্য কবিতায় অনেক অনেক ভালোলাগা। শুভকামনা জানিবেন নিরন্তর।

      1. অপেক্ষা শব্দটা এবং ব্যাপারটা না থাকলে, যার জন্য অপেক্ষা তাকে পেলে(হতে পারে মনে মনে, হতে পারে মৃদু স্পর্শে, হতে পারে বাস্তবে, যেভাবেই পাওয়া হোক না কেন)। যে আনন্দের মধুরতা সেটার আবেশ পাওয়া যেত না অনুভবেও।
        আপনার জন্য চলমান শুভকামনা এবং ভালবাসা আপু। -{@

    1. আরোও তো থেকে গেছে। নেইলকাটার, শেভার, রুমাল, মোজার বাজে গন্ধ(জানিনা আছে কিনা?) ^:^ , এবং মানিব্যাগ :p

      কবিতা যদি জানতো তাকে লেখা হয় গভীর আবেগে, তাহলে কি হতো!
      অনেক ভালোবাসা। -{@

  4. সব ভালোবাসারই বুঝি এক্সপায়ার্ড ডেট থাকে। এই কিছুর নাম পুরনো ব্যবহৃত কিছু অনুভূতি।
    প্রশংসা আর কত্তো করবো? এ লাইনটিই না হয় দিলাম, এ তুমি কেমন তুমি? চোখের তারায় আয়না ধরো।

        1. ইন্টেরেস্টিং হবে লেখাটা। আমিও লিখে ফেলতে পারি। আমার মাথায় ধাক্কা লাগলো একটা “ভালোবাসার এক্সপাইরি”। চালু টপিক। প্লিজ, গো এহেড। (y) নীলা আপু, লিখে ফেলুন।

  5. ফিলিং আনডিফাইন। জীবন চলার পথে আমাদের চিরচেনা জানা সম্পরর্ক গুলা রঙ রূপ পাল্টে এমন অবস্থায় পৌছায় যে, তখন সেটার পরিচয় সংকটে ভুগে।
    আমি ঠিক জানিনা, তবে একজন লেখকের প্রতিটা নিশ্বাস তার জীবন থেকে নেয়া, যেমন তার প্রতিটা অক্ষর।
    আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। -{@ পরামরর্শ দেয়ার দুহসাসস নাই দেখালাম। 🙂

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?