মূল লেখায় যান

গাছ, রাতেও অক্সিজেনের ভাণ্ডার

আরজু মুক্তাপরিবেশ২৯টি মন্তব্য

আকাশে নেই মেঘের ঘনঘটা। টানা গরম থেকে কবে মুক্তি মিলবে জানিনা। বাহিরের সবকিছু আয়ত্বের বাহিরে থাকলেও। আমরা অন্দরে আনতে পারি খানিকটা শীতল আমেজ। তাহলে, কিন্তু মন্দ হয় না। শীতলতার জন্য চমৎকার ম্যাজিকের মতো কাজ করে গাছ। ঘরের ভিতর বা বারান্দায় ছোট বড় গাছ লাগিয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বাড়তি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারি। গাছ অক্সিজেনের ভান্ডার। আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। কিছু কিছু গাছ ঘরে রাতেও অক্সিজেন দেয়। যেমন :

তুলসী :

————–

তুলসীর গুণাগুণ সম্পর্কে বাড়তি বলার কিছু নেই। ঘরের ভিতর তুলসী গাছ রাখলে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করবে। শুধু তাই নয়, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সালফার-ডাই-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাসগুলিকে শোষণ করে ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে তুলসী।

বামন বাঁশ গাছ :

——————–

বাতাসের দূষিত কণা টোলুইন, ক্ষতিকারক টক্সিন বেঞ্জিন ও ফর্ম্যালডিহাইডকে শোষণ করে ঘরে অক্সিজেন লেভেল প্রচুরভাবে বাড়ায় বাঁশ গাছ।

আইভি :

——————-

NASA এর গবেষকদের মতে এই গাছ মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘরের বাতাসের প্রায় ৬০ শতাংশ টক্সিন এবং ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত দুর্গন্ধ শুষে নিতে পারে।

ফিকাস:

————–

বাতাস পরিশুদ্ধ করতে খুবই উপযোগী এই গাছ। খুব বেশি আলো বা জলের প্রয়োজন হয় না। তবে একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তবে ঘরের বাচ্চা বা পোষ্যকে গাছটির থেকে দূরে রাখবেন। কারণ এই গাছের পাতা শরীরে বিষক্রিয়া করতে পারে।

স্পাইডার প্ল্যান্ট :

————

এই গাছটির বিশেষত্ব হল খুব কম আলোতেও এরা সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে। ফলে অক্সিজেনের জোগান অব্যাহত রাখে। স্টাইরিন, গ্যাসোলিন জাতীয় টক্সিন বাতাস থেকে শুষে নিতে সক্ষম। একটা গাছ প্রায় ২০০ বর্গ মিটার এলাকার বাতাস পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারে।

স্নেক প্ল্যান্ট :

—————-

ইন্ডোর প্ল্যান্টগুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় স্নেক প্ল্যান্ট। NASA দ্বারা স্বীকৃত এই গাছ টক্সিন শোষণ বা অক্সিজেন সরবরাহ তো করেই সেই সঙ্গে রাতেও এরা অক্সিজেন ঘরের মধ্যে ছাড়তে থাকে। খুব আলো বা জলের প্রয়োজন হয়না এবং সহজে মরেও না এই গাছ। তাই বেডরুমে রাখার জন্য সব থেকে আদর্শ গাছ এটা। বিশেষত ট্রাইক্লোরোথাইলিন এবং ফর্মালডিহাইড জাতীয় টক্সিন শুষে বাতাস পরিষ্কার করে স্নেক প্ল্যান্ট।

এ্যালোভেরা :

—————-

ঘরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। বাংলায় যাকে বলে ঘৃতকুমারী। ঘরের মধ্যে কার্বন-মনো-অক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ফর্মালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক টক্সিন শোষণ করে নেয়। শুনলে অবাক হবেন, ৯টি Air Purifier এর কাজ একাই করতে পারে একটা অ্যালোভেরা গাছ।

অর্কিড :

————

এর সৌন্দর্যের তুলনা নেই। বিছানার পাশে অর্কিড রাখলে ঘরের সৌন্দর্য পাল্টে যায়। এই গাছ রাতে অক্সিজেন ত্যাগ করে। ফলে, ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ হয়।

★ ★আসুন, গাছ লাগাই। পরিবেশ বাঁচাই।

 

মোট পড়েছেনঃ ২২৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. এতো গুনাগুন! দেখে দেখে সব কিনে ফেলতে হবে। ডায়েরীতে টুকে নিলাম।
    আমাদের আজকের পরিবেশ দুষনের কারন হলো না জেনে ক্ষতিকর গাছ লাগানো। উপকারী গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই। সুন্দর পোষ্ট। অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. আরে এত গুন তো জানতাম না। আমার বাসার ছাদে তুলসী আছে। কিন্তু একে ঘরের ভিতর রাখার উপায় কি? রোদ ছাড়া তো বাঁচবে না।
    এরকম উপকারী পোস্ট আরও লিখুন। হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন সব উপকারী গাছ নিয়ে লিখুন।

  3. চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ পোষ্ট পড়লাম এবং অনেক কিছু জানলাম। এরমধ্যে অনেক গাছ আমার বাসাতেও আছে। গাছ আমাদের যে উপকার করে তা লিখেও শেষ করা যাবেনা।

    সুন্দর পোষ্ট, শুভকামনা জানবেন আপু।

  4. আমি প্রচুর গাছ লাগাই।
    পোস্টে বর্ননার কিছু গাছ আছে আমার। অন্যগুলোর নামই শুনিনি। তবে তুলসী গাছ লাগাবো এবার।
    চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
    শুভ কামনা।

  5. গাছের গুণাগুণ লিখে শেষ হয় না। আমরা ভাগ্যবান প্রকৃতির এই অপার ভান্ডার আমাদের মাঝে এখনো বিদ্যমান আছে। পরিবেশের ভারসাম্য রাখতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। এ্যালোভেরা, তুলসী সহ একটা বামন বাঁশ ঝাড় আমার কাছে আছে 🙂

    সুন্দর পোস্ট দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
    ভালো থাকুন, শুভ কামনা 🌹🌹

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।