মূল লেখায় যান

আমাদের ধর্মীয় উৎসব – স্মৃতিতে বর্তমানেঃ সোনেলায় লেখা আহ্বান

ইঞ্জাসোনেলা বার্তা১৫৩টি মন্তব্য

প্রিয় সোনেলার ব্লগার গন, আমরা যার যার ধর্মীয় আনন্দ গুলোর স্মৃতি জানতে চাই, কে কি করতেন, কিভাবে ধর্মীয় উৎসব গুলো উদযাপন করতেন, ছোট বেলায় কিভাবে ঈদ/ পূজো/ বড়দিন/ বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রস্তুতি এবং সমাপ্ত করতেন সবই জানতে চাই। আপনার স্মৃতি অন্য সবাইকে আনন্দ দেবে।

এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এই করোনা সময়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বা টেনশন হতে কিছুটা মুক্তির জন্য এই আয়োজন। আগামী ৭ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আপনার স্মৃতি মুলক লেখা লিখে সোনেলা ব্লগে প্রকাশ করুণ। সবার লেখা এই পোস্টে সংযুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে প্রাপ্ত লেখাঃ
১। তৌহিদঃ  
স্মৃতি অমলিন

২। আতা স্বপন : আজও মনে পড়ে ঈদের সেই দিনগুলি 

৩। সুরাইয়া নার্গিস :  আমার সারপ্রাইজ ঈদ 

৪। ইঞ্জা :  করোনাকালে রমজান ও কিছু স্মৃতি 

৫। রেহানা বীথি :  প্রথম রোজা এবং চাঁদ দেখার তেলেসমাতি 

৬। আরজু মুক্তা :  স্মৃতি তুমি হাসাইয়ো না 

৭। সূপর্ণা ফাল্গুনী :  পূজোর স্মৃতি রোমন্থন 

৮। সাবিনা ইয়াসমিন :  রোজা- স্মৃতিতে বর্তমানে 

৯। জিসান শা ইকরাম :  স্মৃতিতে রমজান

 

====================================================

এই রমজানকে নিয়ে আমার ছেলেবেলার কিছু স্মৃতি আপনাদের জন্য তুলে ধরছি।

বয়স আমার তখন খুবই অল্প, যাকে রোজা রাখার বয়স বলা যাবেনা, আমি সবাইকে দেখে রোজা রাখতাম, সেহেরিতে সবাই সেহেরি খাওয়ার জন্য উঠলে আমিও উঠে সেহেরি খেতাম, রোজাও রাখতাম।

এই অল্প বয়সে রোজা রাখাটা নিয়ম বিরুদ্ধ বলেই হয়তো আমার আব্বা না করতেন রোজা রাখতে, এই জন্য খেলার সময় আমি পড়ে গেলে বা আছাড় খেলে আব্বা বলতো রোজা ভেঙ্গে গেছে, এরপর নিজেই নিয়ে গিয়ে আমাকে খাবার খাওয়াতেন।

আরেকটু বড় হলে খুব পিপাসা লাগলে সবার অগোচরে পানি পান করে ফেলতাম।

এরপর আসতো এগিয়ে ঈদ, আমাদের সবার ধুম লেগে যেতো ঈদের শপিংয়ের, সে এক অসাধারণ সময় কাটত আমার, চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট ছিলো তখনকার প্রধান শপিং সেন্টার, আম্মাকে নিয়ে সারাদিন করে প্রায় চার পাঁচদিন ধরে ঘুরে ঘুরে শপিং চলতো, এখন ভাবি আম্মা সারাদিন ধরে কি এতো কিনতেন যে সকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত মার্কেটে থাকতেন, মাঝে মাঝে তো আমাদেরকে (বে রোজাদার) ড্রাইভার মামার সাথে নিউমার্কেটের লিভার্টি আইস্ক্রিম পার্লারে পাঠাতেন ফালুদা খাওয়ার জন্য, আহা সেই স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে যেন।

মাঝে মাঝে আব্বা আমাকে নিয়ে যেতেন শপিং করানোর জন্য, সেই সময় নিউমার্কেটের নিচ তলায় ইগলু আইস্ক্রিম পার্লারে নিয়ে গিয়ে আমার সবচাইতে পছন্দের ড্রিংক্স মাজা (এখন পাওয়া যায়না) ম্যাংগো ড্রিংক্স খাওয়াতেন যাহা কোক ফান্টার মতোই বোতলজাত পাওয়া যেতো, আহা কি স্বাদ ছিলো তার।

এখন বড় হয়ে গেছি তো সেইসব আনন্দ আর পাইনা, স্মৃতি হাতড়ে যায় সেইসব দিনগুলো।

 

মোট পড়েছেনঃ ২১৮৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫৩টি মন্তব্য

  1. আমাদের দূর্গা পূজো পাঁচদিন ধরে চলতো বলে আমাদের কেনাকাটা সপ্তমী পর্যন্ত চলতো। বাংলাদেশে এই পূজোতেই বেশী ধূমধাম হতো আর একটানা লক্ষ্মী পূজো ,শ্যামা পূজো চলে যেতো আনন্দের সাথে। দূর্গা পূজোর অষ্টমীতে আসল মজা, উৎসব শুরু হতো। দশমীতে বাসায় ভালো ভালো খাবার রান্না হতো, দই মিষ্টি তো্ থাকতোই। আমার মা সবার জন্য কেনাকাটা একটু একটু করে আগেই সেরে ফেলতেন। লক্ষ্মী পূজো ঘরে করতাম বলে ঐদিন ঘরেই প্রতিমা সাজানো হতো, সারাদিন উপোস থাকতাম , নাড়ু পায়েস, লুচি বানাতাম। আমাকেও উপোস থাকতে দিতো না কিন্তু আমি কিছু না খেয়েই উপোস থাকতাম। একবারে পূজো দিয়ে প্রসাদ নিয়েই উপোস ভাঙ্গতাম। পূজোর প্রসাদটাই আমার সবথেকে বেশী প্রিয়। শ্যামা পূজো তে ঘরের কোনায় কোনায় মোমবাতি জ্বালানো ছিল বড় আয়োজন।‌ শহরে থাকতাম বলে অতো নিয়ম-কানুন মানা হতো না। ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য। রমজান শুভ হোক

    1. বাহ চমৎকার তো, এক সময় পূজার আনন্দটাই আমরাও ভাগাভাগি করে উদযাপন করতাম, বিশেষ করে মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে ঘুরে আনন্দ করতাম, পিসিমাদের বাসায় গিয়ে নানা মজাদার খাদ্য ভক্ষণ ছিলো আরও আনন্দের, ধন্যবাদ আপু, অনেক স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন।

    2. @ সুপর্ণা, এখানে যতটুকু লিখেছেন এগুলো সহ আলাদা পোস্ট দিন। একদম ছোটবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত সব লিখবেন। কারণ ভাইজান আমাদেরকে লেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, কেন আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে লিখবো না!!

    3. দিদি ভাই আপনাদের ধর্মের সব চমৎকার, মজার, উৎসাবের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
      সময় করে একটা আলাদা পোষ্ট লিখে ফেলুন! আমরা পাঠকগণ পড়ার অপেক্ষায় রইললাম।

  2. ছোটবেলা যখন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে থাকতাম, তখন কিন্তু আমাদের সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে দুর্গাপূজার পর লক্ষ্মীপূজার আনন্দই ছিল গ্রামের প্রতিটি ঘরে। আহা কী আনন্দ! তা আর লিখে শেষ করা যায় না। আমরা দুর্গাপূজায় কেনাকাটা করলাম না। করা হতো লক্ষ্মীপূজায়। কারণ, তখন দুর্গাপূজার আনন্দ বেশি হতো শহরে। গ্রামের আনন্দ লক্ষ্মীপূজায়। এই নিয়ে একটা ব্লগ লেখা দরকার ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়টায় সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেল।
    ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় ইঞ্জা দাদা।

    1. শ্রদ্ধেয় দাদা ভাইয়া, হাজিরার সাথে আপনাদের ধর্মের চমৎকার, চমৎকার সব উৎসব আছে আমি জানি, সেই সব মজার অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
      সময় করে একটা আলাদা পোষ্ট লিখে ফেলুন! আমরা পাঠকগণ পড়ার অপেক্ষায় রইললাম।

  3. আমিও হাজির হয়ে গেছি। ভাইজানের আইসক্রিমের খাওয়ার দৃশ্য কল্পনা করছি, আর নিজের কথা ভাবছি।
    এমন আহবানে সাড়া দিয়ে কি থাকা যায়!! আমিও লিখবো আমার ছোট্টবেলার রোজার কথন 🙂

    যেহেতু এটা আড্ডা পোস্ট, তাই বারবারই আসতে চাই এখানে। আপনিও থাকবেন, নয়তো আড্ডা দিবো কার সাথে??

      1. লিখবো, আপনি লেখার দাওয়াত দিয়েছেন, না লিখে যাবো কই? তার আগে আপনার গল্প গুলো আগে ভালোমতো শুনি। এখন বলুন, ঢাকার নিউ মার্কেটের ফালুদা কখনো খেয়েছিলেন?

      2. ঢাকার নয় আপু, এ আমাদের চট্টগ্রামের নিউমার্কেট যা এক সময় এশিয়ার সর্ববৃহত শপিং মল ছিলো, এতো বড় মার্কেট আপনি এখনো সারা বাংলাদেশ ঘুরে পাবেননা।

  4. সেই সব সোনালী দিন ক্যামনে কোথায় হারালো সে সব ভেবে সত্যি মন খারাপ লাগে,
    এখন সব আছে, আমি-ই সংসারের কর্তা, কিন্তু কী যেন হারিয়ে গেছে, আর খুঁজে পাচ্ছি না।

    1. ভাইয়া কর্তামশাইয়ের হারানো সময় গুলোতে রমজানের মজার ঘটনা বা যেকোন স্মৃতিচারন সম্পর্কে পোষ্ট দেখতে চাই।
      ভাইয়া সময় করে লিখে ফেলুন! আমরা পাঠকগণ পড়ার অপেক্ষায় রইল..

  5. আড্ডায় হাজির হলাম ভাইজান।
    যে সব বিষয় জানতে চেয়েছেন, তা বলতে গেলে একটি পোস্ট হয়ে যাবে তো। দেখা যাক কতটা কি লিখতে পারি।
    আসতেছি তৈরি হয়ে।

  6. একদম ছোট বেলায় দিনে রোজা রাখতাম তিনটা, তিনবার ইফতারি করতাম।
    সকালের নাস্তার সময় একবার ইফতারি
    দুপুরে একবার ইফতারি
    মাগরেবের নামাজের সময় ইফতারি।
    এভাবে একদিনেই তিন রোজা 🙂

    1. এখানে কেন!! লেখা নিয়ে কোনো ফাঁকিবাজি চলবে না। নিজে কি কি করতেন ওগুলো আলাদা পোস্টে দিবেন। এখানে আমরা ভাইজানের লেখা নিয়ে, তার পোস্টে বলা কথা থেকে আড্ডা দিবো

      1. ম্যাডাম দেখেন পোস্টে লেখা আছে ” আপনাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখুন কমেন্ট বক্সে, সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন ফিরতি কমেন্টের উত্তরও দিতে হবে।
        সাথে সাথে এও বলুন, এই করোনাকালে কিভাবে রোজা রাখছেন, শপিংয়ের কি অবস্থা? ”

        পোস্ট তাইলে এডিট করা লাগবে 🙂

    2. হা হা হা হা হা………. আপনার বড়দার ভয়ে রোজা রাখা আবার বড়দারে হাতেনাতে ধরা রোজা ভঙ্গ করতে দেখা। এসব শুনেছিলাম আপনার সেজদার মুখে।
      আপনার এমন কোনো কাহিনী আছে কি?
      জাতি জানতে চায়😂😂😂

  7. ছোট বেলার রোজা বলি আর ঈদ বলি, তখনকার এসবে যে আনন্দ পেতাম, বর্তমানে তা পাইনা। বর্তমানের আনন্দ গুলো কেমন এক নিয়ন্ত্রিত আনন্দ। আনন্দকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে মনে হয়।
    স্মৃতিতেই সোনালী দিন।

      1. জিসান ভাইয়া রজমানের আপনার ছোটবেলার সেই সব মজার অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
        সময় করে একটা আলাদা পোষ্ট লিখে ফেলুন! আমরা পাঠকগণ পড়ার অপেক্ষায় রইললাম।

  8. ভাইজান, আমাদের এখানের ফালুদা তেমন ভালো না,
    মিরপুর দশ এর গোল চত্ত্বরের এক রেস্টুরেন্টে জীবসের সেরা স্বাদের ফালুদা খেয়েছি। এখনো মনে হলে সেই স্বাদ পাই 🙂

  9. হাজির হলাম ভাইয়া। আড্ডা পোস্ট হিসেবে দারুণ একটা বিষয় নির্বাচনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
    নিজের ছোটবেলাটা ধাঁই করে সামনে চলে এল। যখন থেকে স্মৃতি জেগে আছে, মনে পড়ে সেহরিতে ওঠার জন্য কত পিড়াপিড়ি করেছি আব্বা-আম্মার সাথে। মাঝে মাঝে নিজেই উঠে যেতাম, সবার সাথে খেয়েও নিতাম সেহরি। কিন্তু তারপর? সারাদিন মাঠে ঘাটে ঘুরে ঘুরে খেলার সাথীদের সাথে টিউবওয়েল চেপে ঠাণ্ডা পানিতে হাত মুখ ধুতে ধুতে কিছুটা পানি খেয়েও নিতাম। বাড়ি ফিরে আম্মাকে যখন বলতাম সেকথা, আম্মা বলতেন, ছোটদের কোনও পাপ নেই। আর রোজা রেখে একটু আধটু পানি খাওয়াই যায়। বলতাম, কিন্তু তোমরা যে খাও না। উত্তরে আম্মা হাসতে হাসতে বলতেন, আমরা যে বড়!
    শুনে ভীষণ মন খারাপ হত, কবে যে আমিও বড় হব!!

      1. জ্বি ইঞ্জা ভাইয়া, আমরা কেন যে বড় হয়ে গেলাম! কী মধুর ছিল সেইসব দিন। আব্বার চাকরিসূত্রে বাইরে বাইরেই থাকতাম আমরা। ঈদে মাঝে মাঝে গ্রামে যেতাম। সেই ঈদগুলো ভোলার নয়। সবার জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যেতাম আমরা। উপহার পেতাম আমরাও সবার কাছ থেকে। আর ঈদের চাঁদ দেখার জন্য আমবাগানের শেষ মাথায় ঊনত্রিশ রোজার সন্ধ্যায় জমা হতাম সবাই। সে কী উত্তেজনা! কেউ চাঁদ না দেখলেও অন্যের শুনে শুনে বলত, হ্যাঁ…হ্যাঁ, ওই যে… ওই তো চাঁদ!!

      2. হাঁ এই ঈদের চাঁদ দেখাটাও তখন আনন্দের ছিলো, সেই কি আনন্দ, পটকার আওয়াজ, সাথে বিটিভিতে ঈদের গান “ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”, আহা।

    1. হা হা হা হা আপু মজার লেখা, আমিও ছোটবেলা রোজা রেখে পানি খেতাম আম্মু বলতো রোজা তিনটা হবে।
      সেই বিশ্বাসটা অনেক বছর পর্যন্ত ছিলো, বড় হয়ে বুঝছি পানি খেলে রোজা ভেঙ্গে যায়।

  10. আইসা তো পরলাম। কি কি লেখি বলেন তো ভাইজান। সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছি।
    স্মৃতী বড্ড বেরসিক। রমজান মাস আসার আগে আসে শবইবরাত। তখন থেকেই শুরু হতো রোজার দিন গোনা। রোজা না রাখলে পাপ হয়, এমন কথা শুনে শুনে রোজা রাখতাম, দুপুর না গড়াতেই আর পারতাম না যেন ধৈর্য রাখতে। ইনিয়েবিনিয়ে আম্মার পিছু পিছু ঘুর ঘুর করতাম। আম্মা দিতেন ঝাড়ি! বলতেন… কইছে কেডা রোজা রাখতে? ১২ টা পর্যন্ত রাখলেই অর্ধেকটা হবে। কাইল আবার আর অর্ধেক রাখলেই পুরা একটা হইবে।

    এরকম মজার কাহিনী যে কত আছে সারা শৈশব জুড়ে! ইয়ত্তা নেই।
    ইঞ্জা ভাই বিষয় বস্তু ধরায়া দিলেন যখন, তখন এই বিষয় নিয়াই লিখবো আশা করি আলাদা পোস্টে। আড্ডা চলুক, যতক্ষন চলে। আছি সাথে।

  11. বাহ! অনেকদিনপরে আড্ডা পোস্ট এলো সোনেলায় খুব ভালো লাগলো।

    আড্ডা পোস্টে দেরীতে আসার জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করছি ভাই। আসলে দেহমনের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার ফল এসব।

    এবারের রোজা বিষণ্ণতা নিয়ে যাচ্ছে। গত বছরেও কত আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে পার করেছি রোজার মাস আর এবারে পুরো উলটো হচ্ছে। আশা করি একদিন সব দূর হয়ে যাবে। আমরা আবারো হাসবো সোনেলার মাঠে।

    ভালো থাকবেন দাদা।

      1. ধন্যবাদ ভাইয়া। লেখাটা পড়ার সময় ইজ্ঞা ভাইজানের লেখা ভাবছিলাম😣
        কমেন্টস করার পর লেখাটা আবার পড়লাম দারুন ভালো লাগছে, পরে দিখি তৌহিদ ভাইয়া 🤭
        কমেন্টস ইডিট করার সিস্টেম জানা নেই তাই 🙏
        ধন্যবাদ।

  12. বাহ্ দারুণ পোস্ট
    আমি আমার মেয়েকে নিয়ে পড়েছি বিপাকে
    ও বলছে রোজা করবে
    পানি, বিস্কুট এটা সেটা খাচ্ছে শুধু ভাত ছাড়া।
    খেতে বললে বলে রোজা আছি বার বার ভাত খেতে বলছো কেনো?
    কেমনটা লাগে কন?
    বেশ খুনসুটি চলছে মা মেয়েতে।
    নিজের স্মৃতি নিয়ে না হয় লিখবো কখনো

      1. যখন থেকে বুদ্ধি হয়েছে তখন থেকে নামাজ রোজা করতাম। সবগুলো রোজা রাখার চেষ্টা করতাম। করতামও
        তবে নামাজ পড়া নিয়ে বেশ মজা হতো। অনেকেই একসাথে নামাজ পড়তাম। আর একেক জন একেক ভাবে পড়তো। কেউ ঢকাঢক সিজদা দিতো, কেউ খুব ধীর গতিতে পড়তো। কেউ চুপচাপ দোয়া পড়তো কেউ ফুসফুসিয়ে পড়তো। আর এ নিয়ে পরে বেশ হাসাহাসি চলতো। ঈদের শপিং মা করতেন। মায়ের পছন্দ ছিলো আমার জন্য বেস্ট। একমাত্র কন্যা হওয়ার কারণে সবসময়ই সবকিছু বেশি বেশি থাকতো আমার জন্য।

        এই তো আর কিছু মনে নেই। ভুলে যাওয়ার রোগ পেয়ে বসেছে আমাকে।

  13. দুর্গাপূজা লক্ষ্মীপূজা আর শ্যামাপূজার মধ্যেই আনন্দই ছিল গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে। এছাড়া শহরেও রয়েছে।
    দুর্গাপূজার চার পাঁচদিন আগে বাড়ির সবাই মিলে কেনাকাটা করে নিতাম। এ কেনাকাটা নিয়ে মনের মধ্যে বেশ আনন্দের অনুভূতি জাগ্রত হতো যা বলে শেষ করা যাবেনা। মহালয়া থেকেই শরৎশোভায় আগমনী বার্তা আর কাশফুলের গায়ে নিমজ্জিত কুয়াশা মনে করে দিতো আসছেন আমাদের মাঝে আগমনী দেবী দুর্গা। এ নিয়ে বাড়ির পাশের রাজেশ্বরি মন্দির সাঁজানো এছাড়া মৃৎ শিল্পীর কাজের ধুম পড়ে যেতে সেখানে গিয়ে সারাদিন বসে থাকতাম কখনো মৃৎশিল্পী অধীর কাকুর কাছ তুলি এনে সিংহের গায়ে রঙ লাগিয়ে দিতাম কখনো অসুরের গোঁফ লাগিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে সেখান থেকে আমিও গোঁফ লাগিয়ে এ নিয়ে বন্ধুদের সাথে বেশ ভারি মজা জমতো।
    বিশেষ করে ষষ্ঠী থেকেই পূজা আড়ম্বরের সহিত পালিত হতে চলে। বাড়িতে ফলমূলের কথা বাঁদ দিলাম। মা ও ঠাকুমার হাতে বানানো নারিকেলের নাড়ু, পিঠা,সন্দেশ, পাটিচাপটা, ইত্যাদি ইত্যাদি যা পূজা শেষে প্রসাদ হিসেবে খেতাম। বিশেষ করে আমি নারিকেলের নাড়ু খেতে পছন্দ করি তাই মা আমায় এখনো নাড়ু বলে ডাকেন। মায়ের এ নাড়ু ডাকটা আমায় মুগ্ধ করে তুলে।
    যখন ছোট ছিলাম তখন মা না করতেন উপোস না রাখতে ঐ আরকি খেয়েদেয়ে আমার উপোস পালন।
    ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে বন্ধুরা সবাই মিলে ফুলতে যেতাম একগ্রাম হতে অন্যগ্রামে চাদর দিয়ে মুখ ডেকে। আর এ ভূরবেলায় মনের মধ্যে একটা ভাবনা আসতো যদি ফুল গাছে কোন ভূত থাকে তাহলে তো উপায় নেই।
    লক্ষীপূজা আসলে তো আর উপায় নেই অনেক পিঠা নাড়ু চুরি করে কত খেয়েছি তার হিসাব নেই। নাড়ু,ও পিঠা খাওয়ার প্রতি এখন আর তেমন ইচ্ছে নেই।
    এছাড়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত উপোস থেকে সবাই মিলে অঞ্জলী নিতাম।
    আহা কী আনন্দ!
    আর কালীপূজা আসলে ২০৮ টা মোমবাতি দিয়ে পুরো বাড়ি আলোক সজ্জায় সজ্জিত করতাম। আলোয় আলোয় ভরে যেত মনপ্রাণ কী মুগ্ধতা জড়ানো।
    ফানুস, বাজি, পিয়াজিবোম,ইত্যাদি ফুটাতাম।
    শৈশবের অনেক স্মৃতি কিছুটা হারিয়ে গেলেও এসব থেকে পিছুপা হয়নি এখনো।
    .
    বেশ ভালো লাগলো দাদা আপনার আড্ডা পোস্ট পড়ে। অনেক শুভকামনা রইলো।

    1. চমৎকার লিখছেন দাদা, আপনার ছোটবেলা পড়ে অনেক ভালো লাগছে।
      আলাদা পোষ্ট দেন সবাই পড়তে পারবে। আমি মুসলিম হলেও আপনাদের ধর্মের কিছু সহপাঠি ছিলো। সেই কারনে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন উৎসাবে যেতাম, অনেক মজা করতাম, পিঠা খাওয়ানো, নতুন জামা পড়ে বেড়ানো সবটা উপভোগ করতাম।

      শুভ কামনা রইল দাদা।

  14. বাহ্! পোষ্ট পড়ে মুগ্ধ হলাম দাদা।
    চমৎকার অভিজ্ঞতা আপনার জেনে ভালো লাগছে দাদা।
    আপনার শহরে একবার যাব অবশ্যই, সবার কমেন্টস দেখতাছি অনেক মজার আড্ডা হচ্ছে।
    রোজা নিয়ে সবার অভিজ্ঞতা,আলাদা ভাবে মজার পোষ্ট দেখতে চাই।
    সবার কমেন্টস দেখে নিজেও অনুপ্রাণিত হলাম, ইনশাল্লাহ্ আমার রমজানে অভিজ্ঞতা নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি হাজির হবো।

  15. অতি চমৎকার এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ইঞ্জা ভাইকেও এই পোষ্ট শেয়ার করার জন্য।

    সত্যি বলছি, এবারের রোজায় ঘরবন্দি থেকে মনের কথাগুলো সবার সাথে শেয়ার করতে পেরে অনেক হালকা লাগছে। সোনেলার কাছে কৃতজ্ঞতা রইলো।

  16. স্মৃতি কথা –
    প্রথম পূজোতে হারিয়ে গিয়েছিলাম দশবর্ষরের ছোট্ট খোকা ,
    মায়ের কান্না, পিতার হাহাজরী, পূজোর আনন্দ হয়ে যায় মাটি,
    সবাই খুঁজে খুঁজে যখন হতাশ, আমি তখন শূন্য হাতে
    মায়ে কথাই ভাবছিলাম।
    ধন্যবাদ সবাইকে।

  17. সব ধর্ম বিশ্বাস এই উৎসব আছে আমরা নিজেরটা জানলেও অন্যদেরটা জানিনা। আশা করি এই উদ্যোগটি সেই জ্ঞানপিপাসা মিটাবে। আনন্দে স্মৃতির আবেগে আমরা্ও অংশিদার হতে চাই। উদ্যোগতাকে জানাই বর্ণালী স্মৃতির রুপালী শুভেচ্ছা।

  18. ইঞ্জা ভাই! ভাল আয়োজন। আশা করি আগেরকার গুলোর মতো এবারের আয়োজনও স্বার্থক এবং সফল হবে।
    সময় করতে পারলে লেখার চেষ্টা করবো।
    শুভেচ্ছা রইল।

  19. সবার ঈদ আনন্দগুলো আনন্দের হয় না।কিছু কিছু ঈদ ইতিহাস রচিত করে যায় কারো কারো জীবনে।কেউ চাইলেও ভূলতে পারে না।ঠিক তেমন একটি ইতিহাস আছে আমার।আজ রাতে সেটা সবার মাঝে ভাগ করবো।

  20. ছোটবেলায় রোযা রাখতাম বড়দের দেখাদেখি। ক্ষুদায় পেট চোঁ চোোঁ করতো। যখন আর পারা যেতো না, তখন বিসমিল্লাহ বলে সকলের অগোচরে পানি খেয়ে নিতাম। হাজার হলেও জান বাঁচানো ফরজ ! অন্যদিকে ইফতারও সবার সাথে সমানভাবে খাওয়া যেতো !

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।