মূল লেখায় যান

স্মৃতি তুমি হাসাইয়ো না

আরজু মুক্তাস্মৃতিকথা২৮টি মন্তব্য

শবেবরাতের ক্ষণ শুরু হলেই আগেরদিনে সবাই গোসল করে মসজিদে যেতো। কোরআন পাঠ, নামাজ ও চলতো। কে কতো পরতে পারে প্রতিযোগিতা। এভাবে ফজর পড়ে ঘুম।

মা, সকালে উঠে চিল্লাচ্ছে। হায় হায় খোপরায় একটা মুরগিও নাই। আমরাও উঠে দেখি। সে কি একটাও নাই? আম্মা আমার ছোট ভাইকে খোপরায় ঢোকাল, বললো দেখতো ভালো করে। ও গিয়ে দেখে শুধু একটা দা। আম্মা ঐটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করে পাশের বাসায় গিয়ে বললো, দেখো রেখার মা, এটা তোমার দা কিনা? খালা ঐটা দেখে বলছে, এইতো আমার দা। কই পাইলেন? আম্মা তো খুশি। চোর ধরা পরছে। একে একে ওনার পাঁচ ছেলেকে হাজির করা হলো। খালু তো লাঠি নিয়ে দাঁড়াইছে। একজন স্বীকার করলো। ও এবং তার বন্ধু মিলে এই কাজ করছে। খালু জিজ্ঞেস করলেন, মুরগি কি করছো?

ও বলে, ঢাকা নিয়ে যাবে যে মুরগিগুলো, ওখানে বিক্রি করছি। খালু তে পিটন শুরু করলো।

আর মা লোক পাঠিয়ে দেখে, জবা পরিবহণ আমাদের মুরগি নিয়ে ততক্ষণে ঢাকা চলে গেছে।

কি আর করা।

আম্মা তার পরেরদিন ঐ ছেলেদের দাওয়াত করে খাওয়াইলো।  আর বললো কখনো যেনো মুরগি চুরি  না করে। আর পিকনিক করলে, আম্মাকে যেনো মুরগির কথা বলে।

স্মৃতি তুমি হাসাইও না!

মোট পড়েছেনঃ ১০৭৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. দারুন তো। আপনার আম্মা খুব ভালো। চোরদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ালো আবার পিকনিক করলে মুরগি দেয়ার কথা বললো। খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

  2. একেই বলে ভদ্রচোররে ধইরা আইনা ভদ্র সাস্তি দেয়া। আপনার আম্মা( হিসাবে তো আমার…… কি হওয়ার কথা যেন? খারন এট্টু মনে কইরা লই….মমমমমমমম….আমি আপনার ফুফু, ভাবি হইবো না? আপনার আম্মা!!) ভাবিরে আমার লম্বা একখান ছালাম দিয়েন।
    ভদ্র চোরেরা নিশ্চই এরপর থেকে আর চুরির চিন্তা করেন নাই।
    স্মৃতী তুমি হাসাইও না……শিক্ষাও দিয়া যাও।
    শুভ কামনা।

  3. আমহেগো খোপে মুরগী আলহে কয়ডা?
    বেশ মজার ছিল আপনার মায়ের ভুমিকা।
    শিক্ষাটা ভদদ্রতার ছলে দিয়েছেন এটাই বুদ্ধিমত্ততার পরিচয় দিলেন।

    গপ্পো মজা লাগছে খুব

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।