মূল লেখায় যান

অনামিকাঃ থেমে যাওয়া এক গান

জিসান শা ইকরামএকান্ত অনুভূতি, চিকিৎসা২৫টি মন্তব্য


‘ আমি কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দর , এইযে দেখুন আমার ছবি । ব্লুটুথ অন করুন , আপনার মোবাইলের বড় স্কিনে দেখুন , তাহলেই বুঝবেন ‘ । জীবনের উল্টো দিক তাঁর ভাবনার মধ্যেই ছিলনা । তাঁর চিন্তা ছিল ‘ সুস্থ হবার পরে ঝরে পরা চুলগুলো উঠবে তো ? আমি আবার ঠিক মত ক্লাসে যেতে পারবো তো ?
খুব কষ্ট হচ্ছিল তাঁর এসব কথায় । মনে হচ্ছিল আমার ছোট বোনটি কথা বলছে । এখন যেভাবে দেখছি তাঁকে , সে আসলে তেমন নয়।
মোবাইলে ছবি নিয়ে বলি তাঁকে ‘ তুমি আসলেই অনেক সুন্দর , চুল সব ফিরে আসবে , মাথা ভর্তি চুল হবে আবার। সাজতে পারবে সুন্দর করে , এই ছবির মত । আবার ক্লাসে গিয়ে বন্ধুদের সাথে ক্লাস করতে পারবে । ” কান্না চেপেই কথা গুলো বলা তাঁকে। আমাদের কয়েকজনকে দেখে কয়েকদিন পরে তাঁর মুখে হাসি এসেছে , বললেন তাঁর মা ।
গতরাত থেকে বার বার মনে পরে যাচ্ছে তাঁর এসব কথা । কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিনা । অনামিকা তোকে আমি মিথ্যে বলেছিলাম । তোর মুখে হাসি দেখতে চেয়েছিলাম । শুধু সময়ের অপেক্ষা করছিলাম – কবে শুনবো এমন কঠিন সত্য কথা । আমাদের সাথে থাকা মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্র তাঁর রোগের কেস হিস্ট্রি দেখে গোপনে আমাকে বলে দিয়েছিলেন যে সম্ভাবনা নেই আর। কাউকে বলিনি এতদিন। গ্রুপের অন্যরা সবাই হতাশ হতে পারেন ।

ব্লাড ক্যন্সারে আক্রান্ত সিলেটের অনামিকার পাশে দাড়িয়েছিল অনেক মানুষ । অন লাইনে সক্রিয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম , ব্লগ , ছাত্র ছাত্রী সবাই চেষ্টা করেছেন অনামিকার পাশে দাড়াতে । সবাই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন অর্থ সহায়তা দিয়ে অনামিকাকে বাঁচাতে। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে অনামিকা চলে গেলো না ফেরার দেশে । শান্তি পাক অনামিকার আত্মা ।

অনামিকাকে দেখতে গিয়েছিলাম ফেইসবুক এর সাহায্য গ্রুপ ‘ আমরা নিজেরাই করবো ‘ সদস্যদের সাথে । বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এ অনামিকার শয্যায় শুয়ে ছিল সে। পাশে বিষণ্ণ অনামিকার মা । অনামিকার ভাবলেশহীন দৃষ্টি ,  ফুলে যাওয়া শরীর , চুলহীন মাথা – সব কিছু দেখে মনটা ভারাক্রান্ত আমাদের সবার ।

আমাদের সবাইকে দেখেই বেড থেকে উঠে বসেছিল অনামিকা ।

রোগের ফাইল দেখছেন বন্দনা কবীর , শিশির কনা । আছেন অনামিকার মা ।


অনামিকাকে ঘিরে থাকা গ্রুপের সদস্যগণ । বন্দনা কবীর , শিশির কনা , দিলরুবা মুন , ফাহিমা কানিজ লাভা , জিয়া ভাই  , ফাহিম মুরশেদ , ভোরের শিশির নিতেশ ।


গ্রুপের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা অনামিকার মায়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন গ্রুপ নেতা বন্দনা কবীর।

 
বিদায়ের আগে শেষ সান্তনা , সাথেই আছি আমরা ।


মোট পড়েছেনঃ ১০৯৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. আমি নিজে একজন সেলিব্রেটি মানুষ নই, অথচ আমি কারো জন্য সাহায্যের ডাক দিলে আপনারা ঠিকই এগিয়ে আসেন। এটা আমার ইমেজের জন্য নয়, আপনার মহত্বের কারণেই । সিলেটের ক্যান্সার আক্রান্ত ছোট্ট বোন অনামিকার জন্য সমগ্র সেলিব্রেটি , নন সেলিব্রেটিদের চেষ্টা ছিলো দেখার মতো। আমি যেদিন ওর জন্য রক্ত দিয়ে এসেছিলাম এবং ওর লজ্জ্বিত হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি দেখেছিলাম সেদিন নিজেকে সুখি মনে হয়েছিলো।

    অথচ আজ যখন ওর মৃত্যুর সংবাদ পেলাম তখন পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষটি মনে হলো নিজেকে। খুব আশা করেছিলাম আমাদের বোনটি বাঁচবে। আজ ওর জন্য লেখা ‘অনামিকা বাঁচবে’ কবিতাখানি মুছে ফেললাম,আর দরকার নেই তাই এতোগুলো মানুষের ভালোবাসাকে বিধাতা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন কেনো জানিনা, কেনো প্রতারিত হলাম আমরা হে ঈশ্বর জবাব চেয়ে কি পাবো তোমার কাছে?

  2. উফফ!!!!!!
    আসলে কেন যে এমন হয় বুঝি না। কত স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় জীবনে তাদের। লিখাটি পরে আসলে নির্বাক হয়ে গেছি।
    দোয়া করি আল্লাহ তাকে আত্মাকে শান্তি দেক।

  3. সত্যিই বেদনাময় অধ্যায়…স্রষ্টার যখন ডাক আসবে তখন কারো সাধ্য থাকেনা তা রুখবার।তবুও চালিয়ে যেতে হবে সহযোগিতা ।অনামিকা পরপারে শান্তিতে থাকুক এই কামনা শুধু।

  4. চোখ ভিজে যাচ্ছে অসহায়ত্ব আর ব্যর্থতার যন্ত্রনায়। মনে পড়ছে বন্দনা তার সাথে কথা বলার পর তার হাসি, তার প্রগলভ উচ্ছাস। সরি অনামিকা! সরি! মাফ করে দিও……..

  5. আমি একটু আবেগি মানুষ। লেখা পড়ে আর অনামিকার ছবি দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে!! কেন মেয়েটা মারা গেলো! হে “আল্লাহ” তুমি মেয়েটাকে জান্নাত নসিব করে দিও…আমিন।।

  6. অনামিকা, থেমে যাওয়া গান — সত্যি ভীষণ কস্ট হচ্ছে ।। একটাই সান্তনা — ও জেনে গেছে কতগুলো মানুষ ওকে ভালবাসে ।। ধন্যবাদ আপনাদের, যারা ওর পাশে মমতাভরা হৃদয় নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ।।।