বিজ্ঞাপন বিরতি

রাইসুল জজ্ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার, ০১:৪১:৪৭পূর্বাহ্ন রম্য ১২ মন্তব্য

Mr. Mango এর “কাঁচা খেয়ে ফেলবো” শ্লোগান নিয়ে যদি বাংলাদেশের কয়েকজন জনপ্রিয় লেখক লিখতেন তাহলে এমন হতঃ

কাজী আনোয়ার হোসেনঃ রাত ৯ টা ১৫ । যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুরস্ক হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ল্যান্ড করছে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৫০৭ এয়ারবাস । চমৎকার আবহাওয়া । শরত শেষ প্রায়, হালকা শিরশিরে বাতাস বইছে । হঠাত করেই শীত পড়তে শুরু করেছে । এমন আবহাওয়ায় মন খানিকটা উদাসী হয়ে যায় মাসুদ রানার । বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টালিজেন্সের দূর্ধষ স্পাই রানার এখন ছুটিতে থাকার কথা । কিন্তু ঢাকা থেকে জরুরী তলব আসায় আর ছুটিটা কাটানো হলো না ঠিকমত । অনেকদিন পর সোহানাকে কিছু সময়ের জন্য একান্ত করে পাওয়ার সুখ সহ্য হলো না বুড়োর ।
বিসিআই হেডকোয়ার্টারে বসে ঘামছে রানা । কেন জানি মেজর জেনারেল রাহাত খানের সামনে কিছুতেই সহজ হতে পারে না সে । দীর্ঘক্ষন চুপ থেকে রাহাত খান চিন্তিত মুখে একটা ফাইল বাড়িয়ে দিলো রানার দিকে । ফাইল পড়ে রানা কিছুই বুঝলো না । ফাইলের মাঝে একটা চিরকুট । সেখানে বাকা অক্ষরে লেখা একটা লাইন “কাঁচা খেয়ে ফেলবো” ।

মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ ত্রিহির ভীষন ঘুম পাচ্ছে । কন্ট্রোল রুমের বিশাল বিশাল স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথা ধরে গেছে । সেই সব স্ক্রিনে একের পর এক বিভিন্ন রেখা উঠানামা করছে নিয়ম করে । আজ প্রায় ছয় মাস হতে চলল ত্রিহি এখানে চাকুরি নিয়েছে । কোন দিন এই এই রেখাগুলোর উঠানামার কোন ব্যাতিক্রম হয়নি । এগুলো মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে । মহাবিশ্বের কোথাও কোন প্রানের স্পন্দন আছে কিনা তার অনুসন্ধান করে এই স্ক্রিনের রেখাগুলো । ত্রিহি জানে এই রেখাগুলোর উঠানামার নিয়মে কোন ব্যাতিক্রম হবে না । প্রায় এক হাজার বছর আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে পৃথিবী নামক গ্রহটি । সেখানে বাস করতো মানুষ নামের এক অদ্ভুত কোমলে কঠিনে মেশানো বুদ্ধিমান প্রানী । নিজেদের তারা হোমোস্যাপিয়েন্স বলতো । এতোবুদ্ধিমান প্রানীর আবির্ভাব মহাকাশের কোথাও আর হয় নি । অথচ তারা নিজেদের সাথে নিজেরা যুদ্ধ করে ধ্বংস হয়ে গেল সমূলে । হঠাত এলার্মের শব্দে আতকে উঠল ত্রিহি । নিজের চোখকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না । রেখা গুলো অদ্ভুত ভাবে কাপছে । মনে হচ্ছে রাডারে কিছু ধরা পড়েছে । তাড়াতাড়ি স্ক্রিনের একটা পোর্ট নিয়ে আউট পুট স্পিকারে সংযোগ দিল । সে জানে এখানে কিছু শোনা যেতে পারে । ট্রেনিঙয়ের সময় শিখেছে । সাথে সাথে রেকর্ডারটাও অন করলো । আর তখনি শুনতে পেল একটা গমগমে কন্ঠ বলছে “কাঁচা খেয়ে ফেলব” ।

হুমায়ূন আহমেদঃ রাতুলের মন খারাপ । মন খারাপ থাকলে সে তার গোপ্ন জায়গায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে । এই জায়গাটার কথা বাড়ির কেউ জানে না, শুধু রাতুল ছাড়া । এখানে আসলেই তার মন আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায় । কিন্তু আজকে হচ্ছে না । আজকে একটা পাপ কাজ করেছে রাতুল । মিথ্যা বলেছে । মিথ্যা না বললে রাশেদ ভাই তাকে “কাঁচা খেয়ে ফেলত” । কাঁচা খেয়ে ফেলার ব্যাপারটা তার ছোট মাথায় ঢুকছে না । তবে ব্যাপারটা ভয়ংকর কিছুই হবে । রাশেদ ভাই ভয়ংকর মানুষ । মহল্লার সকলেই তাকে ভয় পায় । আর রাশেদ ভাই ভয় পায় টুনু আপুকে । টুনু আপার চেহারা মোটেই ভয়ানক নয় । তিনি অনেক সুন্দর । রাতুল আম্মুকে বলে রাখছে, বড় হলে সে টুনু আপুকে বিয়ে করবে । আম্মু আব্বুকেও রাজি করিয়েছে । এখন শুধু বড় হওয়ার অপেক্ষা । কিন্তু মাঝ খান থেকে ঝামেলা বাধালো রাশেদ ভাই । রাশেদ ভাইও টুনু আপুকে পছন্দ করে । দুই দিন পর পর এক একটা চিঠি লিখে টুনু আপুকে দেয় । সরাসরি দেওয়ার সাহস পায় না, রাতুলের হাতে দেয় । সাথে দেয় এক প্যাকেট মি. ম্যাংগো । রাতুল অবশ্য কখনই সেসব চিঠি টুনু আপুকে দেয় না । নিজেই লিখে আবার রাশেদ ভাইয়ের হাতে দেয় । রাশেদ ভাই ভয়ানক হলেও মন ভাল । রজ তাকে চকলেট খাওয়ায় । কিন্তু রাতুল আর পারছে । আজ রাশেদ বদটা টুনু আপুকে চিঠিতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে । পড়ার পর থেকেই গা জ্বলছে রাতুলের । মনে হছে পরবর্তি চিঠিতে লিখে দেয়, রাশেইদ্দা তোর এতোবড় সাহস ? এরপর সামনে পেলে তোকে “কাঁচা খেয়ে ফেলব”

২৫৪জন ২৫৩জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য