বগা লেক বা বগাকাইন হ্রদ

কামাল উদ্দিন ২৯ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, ০৫:৪১:২৫অপরাহ্ন ভ্রমণ ২২ মন্তব্য

বগা লেক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বগালেকের অবস্থান কেওকারাডং পর্বতের গা ঘেষে, রুমা উপজেলায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১,২৪৬ ফুট । ফানেল বা চোঙা আকৃতির একটি পাহাড়ের চুড়ায় বগা লেকের অদ্ভুত গঠন অনেকটা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো।

বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিকগণের মতে বগাকাইন হ্রদ মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আবার ভূমিধ্বসের কারণেও এটি সৃষ্টি হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন।

বগা লেক নিয়ে বম, মারমা, ম্রো, খুমি ও ত্রিপুরাদের পৌরাণিক কাহিনি বা মিথ রয়েছে। এমন একটি পৌরাণিক কাহিনি হল বগাহ্রদের পাশে একটি বম পাড়া (বগামুখপাড়া) এবং একটি মুরং পাড়া আছে। স্থানীয় আদিবাসীরা বম, মুরং বা ম্রো, তঞ্চংগ্যা এবং ত্রিপুরাসহ অন্যান্য আদিবাসী। স্থানীয় আদিবাসীদের উপকথা অনুযায়ী, অনেক কাল আগে পাহাড়ের গুহায় একটি ড্রাগন বাস করতো। বম ভাষায় ড্রাগনকে “বগা” বলা হয়। ড্রাগন-দেবতাকে তুষ্ট করতে স্থানীয়রা গবাদী পশু উৎসর্গ করতেন। কিন্তু একবার কয়েকজন এই ড্রাগন দেবতাকে হত্যা করলে চূঁড়াটি জলমগ্ন হ্রদে পরিণত হয় এবং গ্রামগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। যদিও এই উপকথার কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই, তবুও উপকথার আগুন উদগীরণকারী ড্রাগন বা বগা এবং হ্রদের জ্বালামুখের মতো গঠন মৃত আগ্নেয়গিরির ধারণাটির সাথে মিলে যায়।
অপর এক পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়েছে বগা লেক ছিল একটি সমৃদ্ধ মুরং গ্রাম। গ্রামের পাশে একটি সুড়ঙ্গে বড় আকারের সাপ থাকত। এক দিন ওই সাপটি গ্রামবাসীরা ধরে খেয়ে ফেলে। ওই সাপ খাওয়ায় নাগরাজার প্রতিশোধের কারণে গ্রামবাসীসহ গ্রামটি দেবে গিয়ে বগা লেকের সৃষ্টি হয়। এখনো অনেক বম, ম্রোর বিশ্বাস, হ্রদের গভীরে থাকা নাগরাজ লেজ নাড়ালে হ্রদের পানি ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

এই লেকটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। এর গভীরতা হচ্ছে ১২৫ ফুট। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক, এখান থেকে পানি বের হতে পারে না এবং কোনো পানি ঢুকতেও পারে না। এর আশেপাশে পানির কোনো দৃশ্যমান উৎসও নেই। হ্রদের পানি কখনও পরিষ্কার আবার কখনওবা ঘোলাটে হয়ে যায়। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন এর তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় হ্রদের পানির রঙ বদলে যায়। সূত্রঃ


(২) আমাদের বহন কারী চান্দের গাড়ির রাস্তা এটা, রুমা থেকে সরাসরি বগামুখপাড়ায় জীপ (চান্দের গাড়ি ) চালু হয়েছে। তবে যারা রোলার কোস্টারে ভয় পান তারা চান্দের গাড়িতে না উঠাই শ্রেয়, কারণ এই গাড়ি রোলার কোস্টারের চেয়ে অনেক বেশী ভয়াবহ। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে ঝিরিপথে। এ পথে হাঁটলেই বগা লেক যাওয়ার আসল মজাটা পাওয়া যায় । প্রায় পঞ্চাশবারেরও বেশি ঝর্ণা আর ঝিলের পথ পার হতে হবে। সময় লাগবে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। এ পথে সামান্য ঝুঁকি আছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো ওপথে যাওয়া হলো না সময় স্বল্পতার জন্য ।


(৩) এই গ্রামটার নাম নাংলে পাড়া, অত্যন্ত চমৎকার এই পাড়ায় অবশ্য আমাদের নামার সুযোগ হয়নি। নাংলে পাড়ার পরের পাড়ার নামই হলো বগামুখ পাড়া। চান্দের গাড়ি থেকে ওখানেই আমাদের নেমে যেতে হবে। কিন্তু রোলার কোস্টার থেকে আমাদের একটু আগেই নেমে যেতে হয়। শীতকালে যতটা পথ গাড়ি দিয়ে যাওয়া যায় বর্ষাকালে ততটা যাওয়া যায় না, সুতরাং আজ একটু বেশীই হাটতে হবে।


(৪) এবার শুরু হলো আমাদের হাটা পথ, বগামুখ পারা থেকে বলে লেকে উঠার পথটা অনেক কঠিন। এখানকার চড়াই বেয়ে উঠার সময় বিপরিত দিক থেকে আশা বাতাস শরীরে কোনভাবেই না লাগার কারণে ঘেমে নেয়ে একেবারে একাকার। তখন যদি বলা হয় আর দুই স্টেপ দূরেই স্বর্গ তবু ওই দুই স্টেপ দিতেই যেন জান বের হয়ে যায়।


(৫/৬) কষ্টের এই সময়গুলো অবশ্য আমাদের সাহস যুগিয়েছিলো নাম না জানা পাহাড়ি এই ফুলগুলো।


(৭) জুম চাষঃ তিল এবং ধান।


(৮) আর্মি ক্যাম্পে সবার নাম ঠিকানা পরিচয় পত্রাদি লিখে দিয়ে তারপরই বগালেকে ঢুকতে হবে।


(৯) এটা বগালেক আর্মি ক্যাম্প।


(১০) আর্মিদের কাছে রিপোর্টিং শেষে অল্প পথ আগালেই আমাদের গন্তব্যের শেষ পথ এবং এক রাতের ঠিকানা ওই তো সামনেই দেখা যাচ্ছে।


(১১/১২) এই সেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত আমাদের কাঙ্খিত বগা লেক। তিন দিকেই সবুজ পাহাড়ে ঘেরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।


(১৩) এখানে পর্যটকদের থাকা খাওয়ার জন্য বমদের নির্মিত অনেকগুলো রেষ্ট হাউজ আছে, ইদানিং সরকারী রেষ্ট হাউজও নাকি তৈরি করা হয়েছে বলে শুনেছি। পাহাড়ি আবহে আদিবাসী ঘরানার এই রেষ্ট হাউজে রাত কাটানো অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।


(১৪) লেকের পাড়ে এটা বমদের প্রার্থনা গৃহ।


(১৫) বগা লেকের ইতিহাস যেখানে লিখা।


(১৬) সুতা দিয়ে কিছু তৈরি করছে একজন বম আদিবাসী ও তার ছোট্ট মেয়েটি।


(১৭) কিছু রেষ্ট হাউজ এমন লেক ঘেষেও তৈরি করা আছে।


(১৮) বগালেক থেকে কেওকারাডাং এর পথে কিছুটা উপরে উঠলেই দেখা মেলে এমন মেঘের অন্য এক লেক। যেখানে পাহাড়ের চুড়াগুলোও শুধু দৃশ্যমান হয়। বাকি সবই মেঘের নীচে ঢাকা পড়ে আছে।


(১৯) আশে পাশের পাড়ায় কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে এভাবেই পাহাড়ের চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে ওরা ছুটে যায় রুমা হয়ে বান্দরবানের দিকে।


(২০) বগা লেকে ছিলাম এক রাত্র, তারপরই আবার এমন পথ ধরে আমাদের রুমার দিকে ফিরে চলা।

১৪২জন ৩৫জন
19 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ