“পিছুটান “

রেজওয়ানা কবির ১ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ০২:৪৭:৪৬পূর্বাহ্ন গল্প ২৪ মন্তব্য

 

“কিছু কিছু নাম্বার থেকে,
আর আসবেনা কোন ফোন।
কিছু কিছু এস এম এস পড়ে,
আর হাসবে না এই মন।
কোন কোন ঠিকানায়,
লিখবোনা কোন চিঠি
কোন কোন গলি তে,
করবে না মন হাটা হাঁটি।
কিছু কিছু নাম্বার থেকে,
আর আসবেনা কোন ফোন”।
গানটি প্রথম শুনি প্রায় ১০ বছর আগে। প্রথম যখন শুনেছিলাম তখন যে অসাধারণ ভালো লাগা কাজ করেছিল আজও সেই ভালো লাগাই আছে এক কিঞ্চিৎ ভালোলাগার পরিমান কমেনি। ঘড়িতে এখন রাত ১.৩৩।  ফেসবুকিং করতে করতে ভাবলাম ঘুমাবো তাই ফোনে ঠান্ডা গান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি।  যেই ভাবা সেই কাজ, দিলাম গান,,প্রথম গানটাই কানে করুন সুরে বেঁজে উঠল।
সেই গান,,,,,,,,,
গানটির কথাগুলো বুকের ভিতর মোচড় দেয়, ভিতরটা খুব ফাঁকা হয়ে যায়, মনে হয় কি যেন নাই আমার?
কয়েকদিন থেকে এত লেখার চেষ্টা করছি কিছুতেই লিখতে পারছি না। ভিতর থেকে কে যেন আমার কলমটাই থামিয়ে দিচ্ছে।  কে সে?
যে আমার সবকিছু থামিয়ে দিচ্ছে।  সেটা জানতে হলে গল্পের শুরু জানতে হবে। চলুন তবে শুরু করি,,,,
কোন এক কাটফাটা রোদে তার সাথে ছাঁয়ার দেখা কোন এক অনুস্ঠানে। ছাঁয়ার  তার সাথে দেখা প্রায়ই হয় কিন্তু তার সাথে ছাঁয়ার কোন মিল নেই।  ছাঁয়া অনেক চঞ্চল, দুরন্ত, আদুরেপনা আর আহ্লাদী টাইপের। আর সে রাগী, শান্ত, নম্র আর অনেকটা চাঁপা স্বভাবের।  ছাঁয়া এক্সট্রোভার্ট আর সে ইন্ট্রোভার্ট। দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা। যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল সেদিনও ছাঁয়া তার দিকে ভালোভাবে তাকায় নি।  সবাই অনেক মজা করছিল। ছাঁয়াও অনেক মজা করছিল।  যাইহোক সেদিনের সময়টা অনেক ভালোই কেটেছিল। তার কিছুদিন  পর সে ছাঁয়াকে এফ বি তে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠায়।  ছাঁয়া ফ্রেন্ড এক্সসেপ্টের ব্যাপারে ভীষন চুজি মেয়ে।  সে কিছুদিন তাকে এক্সসেপ্ট করে না।  পরে চলতে ফিরতে ছাঁয়া ভাবে যদিও তার সাথে সব ব্যাপারে মিলে না তবুও কথা বললে দোষ কি? তাই সে রিকুয়েষ্ট এক্সসেপ্ট করে।  তারপর শুরু হয় ছাঁয়ার পথ চলা,এস এম এস,ফোনে কথা বলা।  এভাবে কবে যে ছাঁয়ার তার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় তা সে নিজেও জানে না।  প্রেমের প্রথম দিকে সবারই অনেক ভালো সময় কাটে এবং একজন আরেকজনের বিষয়ে জানতে অনেক উদগ্রীব থাকে। ছায়াঁর ক্ষেত্রে ও তার ব্যতিক্রম হয় নি। তারা দুজন দুজনকে জানছে, বুঝছে, সাথে সাথে ছাঁয়ার তার প্রতি অগাধ প্রত্যাশাও বেড়ে উঠছে।  কিন্তু যত প্রত্যাশা বাড়ছে তত তাদের মাঝে ঝগড়া বাড়ছে।  ছাঁয়া ভাবে প্রেমে ঝগড়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়।  যত ঝগড়া তত ভালোবাসা, এই ভেবেই ছাঁয়া সেই মানুষটিকে আকড়ে ধরে রাখার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত। কিন্তু হঠাৎ কি হল,ছেলেটা ছাঁয়ার কোনকিছুই আর স্বাভাবিক নিতে পারে না, সব কিছুতে শুধু ভুল খোঁজে,অকারনে প্রচুর অপমান করে, ছাঁয়া নক দিলে বিরক্ত হয়, ব্লক করে, গালীগালাজ করে, এক পর্যায়ে ছাঁয়া সহ্য করতে না পেরে তার কাছে জানতে চায় তার অপরাধ কি?
ছাঁয়ার অপরাধ ঃ
১.তাকে সবসময় ফিল করা
২.তাকে অনেক বেশি বেশি ভালোবাসার এস এম এস দেয়া
৩.তাকে একটি বার দেখতে চাওয়া
৪.মোটকথা তাকে পাগলের মত ভালোবাসে।
তার শুধু একটু ভালো কথা শোনার জন্য অনেক সিনক্রিয়েট করা যাতে সে একটু বোঝে।
কিন্তু ছাঁয়া যত বেশী পাগলামো শুরু করে, ছেলেটা তত বেশী অপমান করে, এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়। কেন ছেলেটি এমন করে ছাঁয়া জানতে চাইলেই বলে তাকে ভালো লাগে না, তার আচরন ভালো লাগে না। ছাঁয়া অনেক ক্ষমা চায়, সব ভুল শোধরাতে চায়, নিজের সবকিছু দিয়ে পেতে চায় একটু মানসিক সাপোর্ট।ছাঁয়া  নিজেও বুঝতে পারেনি যে সে কবে তাকে এত ভালোবেসে ফেলেছে? তাই শত অবহেলা আর অপমানের পরেও বার বার ফিরে যায় তার কাছে শুধু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।
কিন্তু হয়ত কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা কোন কারন ছাড়াই হয়ত অন্যকে কষ্ট দেয়, অথবা,ভালোবাসা বোঝেই না,অথবা এতবেশি কিছু চায় না, অথবা ভালোবাসে কিন্তু প্রকাশ করবে না তাই দূর থেকেই নিজেও নিছক কষ্ট পায় এবং অন্যকেও কষ্ট দেয়। এই দুনিয়ায় অনেক ধরনের মানুষ আছে, ছাঁয়ার সে যে কোন ক্যাটাগরীর  একমাত্র আল্লাহই জানে। ছাঁয়া তার সঙ্গী হতে চেয়েছিল কিন্তু তার সঙ্গী তা চায় নি। তাই ছাঁয়া তার এই এক তরফা ভালোবাসা সারাজীবন বয়ে বেড়াচ্ছে।  হয়ত আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু না পাওয়া থাকে।  ছাঁয়া এটাই বয়ে বেড়াচ্ছে আজও শুধু একটা আশায় যদি তার সঙ্গী এসে  হাতটা ধরে এসে একবার সেই আগের মত বলে,আমি আছি, থাকব, ছিলাম❤️❤️❤️
সময় বদলেছে, ঘড়ির কাঁটাগুলো একইভাবে চলছে, সেই রাস্তাগুলো এখনও একইরকম আছে, চা খাওয়ার অভ্যাস থেকে শুরু করে জীবনের নিত্যদিনের কাজ ঠিক আগের মতই চলছে, শুধু পাল্টেছে ছাঁয়ার সেই মানুষটা। কিন্তু ছাঁয়া  একটুও পাল্টাতে পারে নি। সে  পিছুটান আঁকরেই পরে আছে তার সেই সঙ্গীর আবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। আজও ছাঁয়া বার বার ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকে একটা এস এম এসের আশায়, একটা ফোন কলের আশায়, একটু ভালোবাসা পাওয়ার আশায়। এই পিছুটান নিয়েই ছাঁয়ার এখনকার বসবাস। কেননা তাদের সেই সম্পর্কের নামই ছিল ” ছাঁয়াসঙগী”।
 তাই সে আজও ছাঁয়া ছাঁয়ার মত সেই পিছুটান নিয়েই পরে আছে আশায় আশায়।
আসলে আমার মতে ছেলেটার ছাঁয়াকে আর একবার সুযোগ দেয়া উচিৎ কেননা ভালোবাসলে ক্ষমা করাই যায়। ভালোবাসা সবার জীবনে সঠিকভাবে আসে না তবুও এরকম ভালবাসা ধরে রাখতে ছেলেটা নিজের মত তৈরী করে নিতে পারে অথবা যেকোনো সমাধান করে ছাঁয়াকে সারাজীবন সঙ্গী করতে পারে। কেননা তারাতো “ছাঁয়াসঙ্গী”। আশা করি ছাঁয়াসঙ্গী আবার এক হোক,ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হোক,শুভকামনা ❤️❤️❤️
পাঠকবৃন্দ, এই ঘটনা হয়ত খুবই কমন কিন্তু ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে আছে  একটা শব্দ “পিছুটান”।
পিছুটান হল এমন একটা শব্দ যেটা মানুষকে প্রায় শেষ করে দেয়। এই পিছুটান থাকে বলেই মানুষ বার বার ছুটে যায় তার পুরনো স্মৃতিতে,হাতরাতে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায়।  পিছুটানের নেশায় মানুষ এতটাই নেশাগ্রস্থ হয়ে পরে যে উন্মাদনায় ভাসতে থাকে। পিছুটানের ভয়াল থাবায় পরে অনেকের প্রানও বিনাশ হয়, অনেকে হারিয়ে ফেলে তার নিজের সব ভালো কিছু,অনেকেই আবার এই পিছুটান পিছনে ফেলেই সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কিছু শুরু করে। কিন্তু আদৌ সবাই পারে না। যারা পারে তারা স্বার্থক আর যারা পারে না তারা হারিয়ে যায় অথৈ সমুদ্রে।
ফোনের গান শুনতে শুনতে টেরই পাই নি কখন আমার পিছুটান ও আমাকে এসে ভর করেছে জ্বীনের মত।  যখন পিছুটান ভর করে তখন ভিতরে কম্পনের সৃষ্টি হয়, মনে হয় অশান্তিনামক যন্ত্রনা পিছুটানের সাথে হাত মিলিয়ে মনটাকে দুমরে মুঁচড়ে চৌচির করে, তখন না পারা যায় চিৎকার করে কাঁদা, না পারা যায় মুখ বুঝে থাকা আর না পারা যায় আত্বহত্যা করা। পিছুটানের ভয়ানক থাবা থেকে আমিও  বের হতে চাই প্রতিনিয়ত ।  এই পিছুটানেই কতকিছু জড়িয়ে থাকে যা হয়ত চাইলেও ভোলা যায় না। সবাই এই পিছুটানের বেড়াজাল থেকে বের হতে চায়। কিন্তু হয়ত কেউ পারে কেউ পারে না😭😭😭 ৷  আজ এ পর্যন্ত ।

ছবি ঃ নেট থেকে সংগ্রহ

বিঃ দ্রঃ রুকু আপু একটা কবিতা শোনালো,সেই কবিতায় একটা শব্দ ছিল “পিছুটান “। সাথে সাথেই রুকু আপুকে বললাম পাইছি🤪এই পিছুটান দিয়েই কিছু একটা লিখব।  অবশ্য ওকে ধন্যবাদ দিয়েছি।কিন্তু কিছুদিন থেকে কিচ্ছু লিখতে পারছি না। যখনই লিখতে বসি কলম কে যেন থামিয়ে দেয়? আজ আবিস্কার করলাম আমার এই কলমকে থামিয়ে দিচ্ছে আমার “পিছুটান “। হায়রে ! ” পিছুটান “যা ভাগ😭😭😭😭আমি লিখতে চাই তাই তোকে আজ থেকে অবদমন করলাম।

২৪৫জন ১৯জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য