পর্বতকন্যের ইতিকথা

প্রদীপ চক্রবর্তী ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৮:৪২অপরাহ্ন উপন্যাস ১১ মন্তব্য

#পর্ব_৪১

রাতের জোনাকিপোকা আর নক্ষত্ররাজী জানান দিচ্ছে
ঋতু গুলো ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে শহর থেকে।
শিশিরভেজা ঘাসের গায়ে এসে জমেছে কত শিউলি।
রাত্রি অবসান আর ভোরের আহ্বানে চোখ দুটি ঘুমন্ত।কয়েক দিবস রজনী পর শরতের শেষ অন্তিমকাল। সময় সম্মুখে একাকীত্বের তাই কপালে কত অজস্র চিন্তার ভাঁজ। কখনো কি পুরনো প্রেমে নব প্রেম উঠবে জেগে। কখনো কি আমাদের তানপুরায় উঠবে আপনমনের সুর।
ভালোবাসায় অপারগতা থাকলে মনের ভেতর প্রবল যন্ত্রনা হয়। সেটাও যে আমাদের মধ্যে ছিলোনা। একটু অভিমান ছিলো তাহার।
কিন্তু আমাদের বাঁধন ছিলো এক। সরস্বতীর বাকচাতুর্য আর প্রজাপতির বন্ধন আজও আমাদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ছিলোনা আমাদের নিয়তির কোন নির্দিষ্ট কক্ষপথ। সেটা আজও অব্ধি ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত।
বহুকাল বহুপথ পেরিয়ে সমুদ্রসম জোয়ারভাটা আমাদের বুকে চলে যাওয়ার পর কেউ কাউকে বুঝতে দেই নি। মাপি নি কোন দাঁড়িপাল্লা দিয়ে। শহরের গায়ে অলিগলিতে লাগিয়ে দেই নি কোন বুকের উপর ভয়ে চলা শত কষ্টের কালো পোস্টার। একা থেকে সহস্রের পথে পদার্পণ আর অজস্র ভালোবাসার স্বপ্ন পার্বতীকে নিয়ে। আমাদের এসে কেউ একবিন্দু সহানুভূতি দেইনি আজও।
সৃষ্টির বুকে কতরকমের প্রেম ভালোবাসা বহমান।
কিন্তু আমাদের ভালোবাসার নিয়তি ঈশ্বরের কাছে।
আমরা একে অপরকে ভালোবেসে যাচ্ছি।
সেথায় কত আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। আর ভালোবাসার গ্রন্থি বন্ধন। সেসব কি আমাদের শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।
শহরের বুকে শরৎ রাত্রি আর প্রেমময়ীর ভ্রুপল্লবে রজনীগন্ধার পুষ্পাঘ্র। সে যে মনোরম মর্মস্পর্শী জোৎস্না জড়ানো আকাশের ষোড়শী।
স্বপ্নে বিভোর আর অজস্র কল্পনায় রাত কাটিয়ে দিলাম ঘুমঘোরে। ভোরের সূর্যস্পর্শী আর কাক ধ্বনি যেখানে ময়ূরের চামর বাতাস প্রকৃতি বিলিয়েছে দিয়েছ কত অপরূপ মূর্তিবেশ। এসব দৃশ্যমান আমাদের বুকে রোজ হতো। কিন্তু আমাদের দূরত্ব থেকে একাকীত্বটা বেশ কাটিয়েছি স্বপ্নঘোরের কল্পনার স্রোতে।
তবুও ভালোবাসার গ্রন্থি আমাদেরকে মন থেকে দূর করে দেয়নি। দিয়েছে একে অপরের অনুভবের নির্যাস স্বপ্নছোঁয়া ভালোবাসা।

#পর্ব_৪২

কলকাতা আসার পর থেকে চোখে ঘুম নেই।
কখনো আনমনা,কখনো স্বপ্নঘোর,কখনো হাসিখুশিতে ভরপুর,কখনো বা কল্পনার স্রোতে ভেসেছি।
এ যেন নিত্য ক্রিয়া। গতকালকের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অর্ধেক রাত্রি কাটিয়ে দিলাম। ধীরে ধীরে দুপুর প্রায় আসছে গড়িয়ে। সূর্যের প্রখরতা দেখে মনে হচ্ছে আজ ভানু দাদু অগ্নিশর্মা হয়ে আছেন। শীতের দিনে রৌদ্রের এমন প্রখরতা আমি আগে কখনো দেখিনি।
সূর্যের প্রখর তাপ অসংখ্য হতদরিদ্র,বাস্তুহীন যারা খোলা আকাশের নিচে বসে শীতের রাত কাটিয়ে নতুন ভোরে সূর্য উঠার স্বপ্নে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে।
যে আলোর প্রখরতায় মিলবে শান্তির উষ্ণ প্রলেপ।

কৃষ্ণ নগরের সমাজপতি নবীন রায় চৌধরীর বাড়িতে আমরা নিমন্ত্রিত। বাগানে রাশিরাশি সূর্যমুখী,রজনীগন্ধা,বকুল আর শিউলি তারমধ্য আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুল হলো শিউলি। রাত যত গভীর আর ঘুমাচ্ছন্ন হয় দক্ষিণা হাওয়ার হিমেল পরশে এপার থেকে ধেয়ে আসে মোহনীয়তার এক মোহনীয় গন্ধ।
আমার কাছে ফুল,প্রকৃতি,শিশু আর গন্ধ,পুষ্প,মাল্য সবসময় পবিত্রার আভাস বহন করে।
গতকাল রাত্রে সাংস্কৃতিক মঞ্চে যে মেয়েটি গান গেয়েছিল সে নবীন রায় চৌধরীর একমাত্র কন্যা অন্নপূর্ণা। সে একাধারে নাট্যপ্রেমী,রবীন্দ্র প্রেমী।
বিনোদের বাণী যে মেয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে জানে তাকে তো নির্দ্বিধায় ভালোবাসা যায়। তাই বিনোদ কাল রাত্রি থেকে অন্নপূর্ণার ভালোবাসার প্রেমডুরে নিজেকে বাঁধতে চায়। অন্নপূর্ণাকে দেখিতে পার্বতীর মত সুদর্শনা।
বিনোদের প্রতি অন্নপূর্ণারও ভালোবাসার এ যেন কোন কমতি নেই।
সন্ন্যাসী মাটি,প্রকৃতিতে ঘেরা কৃষ্ণনগরে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্ত লোকের বসবাস। মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্তদের পেটের জন্য দিনভর লড়াই করতে হয়। পেট আছে তাই ক্ষুধা নিবারণ করতে হবে,বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। দেখতে হবে হাজারও স্বপ্ন।
আজ আমাদের থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো যদিও বলরাম দাদা থাকতে নারাজ। যাইহোক বলরাম দাদা মেনে নিলেন। আমি আর বিনোদ নদীয়ার প্রাণ কৃষ্ণনগরের গোপালের ভাঁড়ের বাড়ির উদ্দেশ্য যাত্রা করলাম। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকলেও বাড়ি ছিলো অত্যন্ত মলিন ও জীর্ণ। বাড়ির আশেপাশে জনশূন্য হলেও বেশ কয়েকটি দোকানপাট রয়েছে। ধীরে ধীরে বসতি ঘড়ে উঠছে। গোপালের স্মৃতিটুকু দেখার জন্য মানুষ নানা জায়গা থেকে ছুটে চলে আসছে।
কৃষ্ণচন্দ্ররাজার রাজপ্রাসাদের হাস্যরসাত্নক ও যুক্তিজাল গ্রন্থি বুনে দিত গোপাল। গোপাল কৃষ্ণচন্দ্র রাজার এক বিশ্বস্ত যুক্তিবিদ ছিলো।
একদিন রাজ্যসভায় গোপাল কৃষ্ণচন্দ্র রাজাকে বলেন হে মহারাজ কয়েকদিন থেকে আমার কামকাজ নেই। দয়াকরে একটা কাজ দিন আমায় কৃষ্ণচন্দ্র রাজা হুট করে বলে উঠলেন গোপাল নেই কাজ তো খঁই ভাজো।মহারাজ যথাআজ্ঞা। এই কথা বলে গোপাল রাজার ধানের গোলায় বসে বসে ভাজতে লাগলো ধান। সবগুলো ভেজে গোপাল রাজাকে এসে বলছে হে মহারাজ আপনার যথাআজ্ঞা পালন করেছি এইবার আপনি আমার মাইনে দেন।
মহারাজ গোলাভরা ধান তা খঁই হয়ে আছে দেখে হতবাক!
একি করলে গোপাল তুমি?
মহারাজ যথাআজ্ঞা পালন করলাম।
এই গল্পটা আমার ঠাকুমার মুখে শুনেছিলাম ছোটবেলা। আজ গোপালের স্মৃতিভাণ্ডারে এসে মনে পড়লো। এরকম হাজার হাস্যরসাত্নক গল্প রয়েছে গোপালের।

#পর্ব_৪৩

দুপুর গড়িয়ে অপরাহ্ণ।
স্রোতস্বিনী গঙ্গা বহমান,তীরে ফল্গুধারা আর সারসের দলের ছুটাছুটি শেষ বিকাল যে কাছাকাছি। জারুল,হিজলের ডালপালা পত্রহীন নগ্নতার আবেশ সেথায় ভিড় করছে হাজারো ডাহুক।
হিমালয় পর্বত ধেয়ে আসা ভিন্ন প্রজাতির পাখির মিলন মেলা।
বাহ্!
কী অপরূপ প্রকৃতির দান।
চেয়ে আছি সুনীল আকাশে শ্যামল সমারোহে কুয়াশা ডাকা পুরো শহরের দিকে। আমাদের সাথে এসে যোগ দিয়েছেন হাজারো কয়েক অতিথি। তাদের দেখে মনে হচ্ছে প্রকৃতির প্রতি তাঁহাদের বেশ ভালোবাসা রয়েছে।
আমরা ধীরে ধীরে গোপালের স্মৃতিবিজড়িত থেকে বেরিয়ে পড়লাম। আমরা সেখানে অপরিচিত।
হঠাৎ করে চোখের সামনে আশি অতিক্রান্ত এক বৃদ্ধা।
দেখেই হাত করজোড়ে নমস্কার জ্ঞাপন করলাম,উনি মস্তক নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি দিলেন। উনি আমাদের সাথে বেশ ভালো কথোপকথন করে যাচ্ছেন। কথায় কথায় আমাদেরকে আপনি বলেও সম্মোধন করছেন।
আমি অবাক হয়ে গেলাম!
তারপর আমি উনাকে প্রশ্ন করলাম দাদু আপনি কেন আমাদের আপনি বলে সম্মোধন করছেন। উনি বললেন আপনাকে আমি বলিনি,বলছি আপনার ভেতরে থাকা পরমব্রক্ষকে।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজমান। তাই প্রতিটি মানুষের ভেতরে পরমব্রহ্মের বসবাস। ইহা হয়তো মানুষ অন্তর্বেক্ষণ করে না তাই তা উপলব্ধি করতেও জানেনা। যেমন করে মৃত্তিকার ভেতর জলের বসতি। উনার জ্ঞানগর্ব কথাশুনে মন জুড়িয়ে গেলো। যদি উনার সাথে পরিচয় হতো না তাহলে মর্মতত্ত জানতাম না।
সূর্য প্রায় আধো ডুবো। সন্ধ্যা তীরে গোধূলির আরক্ত আভা আর ডাহুকের নীড়ে যাওয়া,ঘরমুখো মানুষের পদচিহ্নে পথভ্রমণ। আমাদের উদ্দেশ্য পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরা। পথ ধরে পথিক বেশে হেঁটে চলছি আমরা পথের ধারের দুপাশে হরিতকির গাছ। ঢিল মেরে বিনোদ নিচে কয়েকটি হরিতকি ফেলেছে সেসব কুড়িয়ে আমি বিনোদ খাচ্ছি। আমাদের সাথে পথ ধরে হাঁটতে লাগলেন আশি অতিক্রান্ত বৃদ্ধা। যদিও বয়সেরভারে উনার একটাও দাঁত নেই। হরিতকি মুখে নিয়ে একটা একটা করে চুষিয়ে খাচ্ছেন। হরিতকি খুবি উপকারী। কাঁচা থাকায় দু একটি খেয়ে বাকিগুলে ফেলে দিয়েছি।
চারদিকে অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য আর অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর।
আমি আর বিনোদ নবীন রায় চৌধরীর বাড়িতে ফিরলাম। বাড়িটি রায়বাড়ি নামে বেশ পরিচিত। বলরাম দাদা নবীন চৌধরীর সাথে সন্ধ্যাআহ্নিকে ব্যস্ত।
আমরা হাত পা ধুয়ে ফটিকে বসে আছি। শহর জুড়ে প্রচন্ড শীত নেমেছে। আসার সময় শীতের চাদর নিয়ে আসি নাই। তাই বেশ শীত লাগছে।

#পর্ব_৪৪

অন্নপূর্ণা মাটির পেয়ালা ভর্তি করে আমাদের জন্য নিয়ে এসেছে পাটিসাপটা। দেখেই বেশ সুস্বাদু মনে হচ্ছে। বিনোদ একে একে পিঠা খাওয়া আরম্ভ করলো।
শীতের রাত ক্ষণক্ষণে শীতল হাওয়া সাথে গরম গরম পাটিসাপটা খেতে বেশ ভালো লাগছে।
এদিকে অন্নপূর্ণা পাশের ঘরে কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনছে মাঝেমধ্যে গানের দু এক কলি সুর ধরে গাইছে গান। সেসব বিনোদ দেওয়ালে কান ঠেকিয়ে শুনছে। অন্নপূর্ণার প্রতি বিনোদের ভালোবাসার কমতি নেই। বিনোদ চায় অন্নপূর্ণাকে তার জীবনসঙ্গিনী করে নিতে। আমার আর বিনোদের এতো ভালোবাসা আর অজস্র স্বপ্ন কলকাতায় এসে। জানিনা এমন কেন।

আজ কৃষ্ণ নগরে আসার আমাদের দেড় প্রহর।
আগামীকাল সকালবেলা বলরাম দাদার বাড়ি চলে যাব। আর কয়েক ঘন্টা আছি মাত্র নবীন চৌধরীর বাড়িতে। রায় বাড়ির সকলের সাথে গল্পের বেশ আড্ডা জমেছে। অতিথি থেকে আত্মীয়তার ছোঁয়া বেশ লেগেছে আমাদের প্রতি।
কৃষ্ণনগরে আসার পর থেকে প্রায় দুদিন ধরে পার্বতীর সাথে কথা এবং দেখা হয়নি। পার্বতী বাড়ি চলে গিয়েছে কি না তাও জানি না। মনে বড্ড সংশয় জেগেছে।
মনের সংশয় কাটিয়ে উঠা বড্ড মুশকিল। যার একমাত্র ঠুনকা হলো নিজের ইচ্ছাশক্তি। সেটাও আজকাল বেমানান। কেননা অন্তরের প্রতি অন্তরের যে ভালোবাসা তা কোনকিছু দিয়ে ভাগ করা যায়না।
এমনি ভালোবাসা ছোঁয়েছে আমাদের দুজনকে। দুজনের অবস্থান দুজনের হৃদমন্দিরে। আর নিয়তি ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত।
রাত্রি প্রায় বারোটা গল্পের ফাঁকে আমার এসব অনুভব আর পার্বতীকে নিয়ে স্বপ্নছোঁয়া কল্পনা।
গল্প প্রায় শেষাংশে আমাদের আহ্বান করা হলো খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে। খেয়ে নিলাম রাতের খাবার বেশ জমজমাট ছিলো। এসব লিখতে হলে কেরানির প্রয়োজন বটে। আজকের রন্ধনে ছিলো অন্নপূর্ণা, শুনেছি ভিন্ন রকমের রান্নার আয়োজন অন্নপূর্ণা নিজেই একা করেছে। এই কথা শুনে বিনোদ পঞ্চমুখে প্রশংসা করতে লাগলো। সে তো স্বাভাবিক ভালোবাসার মানুষ ভালো ভালো খাবার পরিবেশন করেছে সে তো বেশ ভাগ্যের বেপার। আমিও সাথে প্রশংসা করলাম।
বিনোদ আনন্দে ভরপুর।
হঠাৎ করে আকাশ কালো। যদিও সন্ধ্যাবেলা আকাশ তারারাজির আলোয় ভরপুর ছিলো। বাইরে অন্ধকার আর ঝিঁঝি পোকার ডাক। সকলে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। বিনোদ অন্নপূর্ণার কল্পনায় বিভোর হয়ে আছে। আর কি হবে দেখা?

#পর্ব_৪৫

রাত্রি গভীর আর ভয়ানক বজ্রপাত। শহর জুড়ে নামছে বৃষ্টি। এক নিমিষে আকাশের নক্ষত্ররাজী লুকিয়ে পড়েছে। কোথাও নেই তারার দলছুট। নেই আকাশে সুপ্ত আলোর প্রতিভা।
হঠাৎ করে কোন এক নতুন জায়গায় আসারর পর চোখে ঘুম আসেনা। বিনোদ বজ্রপাতের গর্জন শুনে ভয়ে কাঁপছে। মনেমনে অন্নপূর্ণার ভালোবাসায় ডুবছে। রাত্রি পোহালে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই হয়তো আর কখনো দেখা হতে না পারে।
এদিকে আমি ভাবছি পার্বতীকে নিয়ে। মাস কয়েক পর পার্বতীর বাগদান সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এই কথা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেলে বিষণ কষ্টের আর্তনাদে আমি ভোগী। কাউকে মন থেকে ভালোবেসে ফেললে থাকে ভুলে যাওয়া যায়না। ভালোবাসা কারো কাছ থেকে ভিক্ষা করে আদায় করতে নেই। যদি মন থেকে ভালোবাসা না যায়। আমাদের ভালোবাসা ভিক্ষার নয়।
আমাদের ভালোবাসা যুগিয়েছে পাশে থাকার সমর্পিত।

বিধ্বস্ত নগরী আর তৃষাতুরের মরুভূমি,
ঘনঘন বৃষ্টির ফেরে এ যে বদ্ধঘরের মনখারাপি।
ভেজা কাক কার্নিশের আমেজতা,
আর প্রেমময়ীর মন্ত্রমুগ্ধ বৃষ্টিধারা।
পুরোনো অতীতের খরতাপে,
নবপ্রেমে আচ্ছন্ন মরসুমি ভরা খামে।
দুঃখিনীর মনখারাপে শহর জুড়ে নেই বৃষ্টিছোঁয়া,
নিদারুণ পিপাসা আর শহর ঘিরে পুড়ামাটির ধোঁয়া।
(বৃষ্টিধার)
বৃষ্টিধারা কাব্যের ছন্দে যখনতখন পার্বতীকে সমর্পিত করে শীতের অভিসার কাটিয়ে দিলাম। যাকে মন থেকে ভালোবাসা যায় থাকে নিয়ে হাজারও মহাকাব্য লিখতে রাজী আমি। আমি চাই অনুপ্রেরণা।
যে আমায় উৎসব,বসন,রাষ্ট্র দুর্ভিক্ষপীড়িত বীর সাজে সজ্জিত করে দিবে।
যদিও এপারওপার বাংলা কিন্তু আমাদের রক্তধারা গঙ্গার মত বহমান। আমাদের গ্রন্থি বন্ধন এক।
কত অজস্র স্মৃতি আর অমানিশা রাত্রি কাটিয়েছি আমরা স্বপ্নঘোরে কখনো বা কথোপকথনে।
যার ভ্রূযুগলে ষোড়শী রূপ আর পুলকিত প্রেম বহে।
সে তো আমার ভালোবাসার আরাধ্য পার্বতী।

আকাশে মেঘ নেই। হিমেল পরশে বইছে আমেজতা।
অভিসারের শেষ কুয়াশা ডাকা সকাল,চাদরে ডাকা মুখ কৃষকরা বেরিয়ে পড়ছে মাঠেঘাটে। কেউ বা ফিরছে কাঁধে দইয়ের ভার নিয়ে কেউবা যাচ্ছে গোচারণে।
পাড়ার অলিগলিতে জমছে লোক ভিড় চায়ের কাপে দেওয়া চুমুতে।
.
ক্রমশ….

১৩৫জন ১৫জন
65 Shares

১১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য