চীন, দরিদ্র দশা থেকে উন্নয়নের শীর্ষে, পেছনে যারা কারিগর, এবং আরও বিশেষ কিছু। 

 

নার্গিস রশিদ 

এই  যে দেশটি, হিমালয়ের ওপাশে “ চীন”,  আজ উন্নতিরর চরম শীর্ষে। তাও আবার মাত্র ৩০/৪০ বছরের ব্যাবধানে ।তার রহস্য টা  কি?  এই রহস্যের  পেছনে আছে কিছু   কারিগর তারা হলেন কয়েকজন নামকরা নির্ভীক নেতা। তার সাথে আছে জন সাধারণের  নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য । 

Qing রাজবংশ  হল চীনের   শেষ রাজবংশ । ১৯১১ সালের ১০ই  অক্টোবর x inhai revolution এর মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। Puyi ছিলেন শেষ ইমপরার । ১৯১২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী Puyi কে অপসারণ করা হয়। 

এর পেছনের কারন  হল একশত বছর পশ্চিমা বিশ্ব দ্বারা অবমাননা এবং harassment , অন্দর মহলের নানান রকমের পরিবর্তন এর পতনে বিরাট ভূমিকা ছিল।  তার সাথে যুক্ত ছিল  দুর্নীতি, কৃষকের বিদ্রোহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি। যার কারনে ক্রমাগত ভাবে দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকতো। 

রাণী Dowager Cixi  (১৯০৮) এর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া উত্তররাধিকারি দুই বছরের শিশু কে জনসাধারণ মেনে নিতে পারেনি। 

এই দুই বছরের শিশু কে প্রত্যাখ্যান   করলো  সান ইয়াত সেন ( Sun yat sen) ( ১৮৬৬-১৯২৫) 

সান ইয়াত সেনঃ 

সান ইয়াত সেন ছিলেন একজন ডাক্তার, রাজনীতিবিদ এবং দার্শনিক। তিনি ছিলেন N.P.C ( National Party Of China)  এর প্রথম নেতা। প্রথম প্রভিসনাল প্রেসিডেন্ট। তাকে বলা হয় “ ফাদার অফ নেসান” । আধুনিক চীনের মহান নেতা।

তার রাজনৈতিক মতাদর্শ ছিলঃ 

.)  Quing ডাইনেসটি  অপসারণ 

.) চীন কে রিপাবলিক বানানো 

.) বিদেশী শক্তি অপসারণ 

.) কৃষি জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন

সান ইয়াট সেন অতি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বড় ভাই হাওয়াই ( USA) তে একটা দোকানে সাধারণ কাজ করতেন,  সেখানে তিনি তাকে নিয়ে যান, সানের তখন বয়স ছিল ১৩  বছর। সানও সেই দোকানে একই কাজ করতেন ।  সেখানে স্কুল কলেজে পড়াশুনা করার জন্য তিনি পশ্চিমা বিশ্ব দ্বারা প্রভাবিত হন। সেখানে থেকে তিনি বুঝতে পারলেন চীন টেকনোলজি থেকে অনেক পেছনে । চীন কে বদলাতে শিল্প উন্নত করতে হবে এবং আনতে হবে গণতন্ত্র। কলেজ জীবন শেষ করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং পরে ট্রান্সফার নিয়ে হংকং  এ চলে এসে ডাক্তারি পড়াশুনা শেষ করেন। 

সান তার রাজনৈতিক উদ্দেশ চরিতার্থ করার জন্য ডাক্তারি পেশা  বাদ দিয়ে চীনের উত্তরে Hebei চলে যান এবং সেখানকার গভরনর জেনারেল li Hongzhang এর সাহায্যে হাওয়াই চলে গিয়ে ১৮৯৪ একটা রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করেন,  যার নাম “ রিভাইব চায়না সোসাইটি “।  তিনি ছিলেন তার প্রধান। 

এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল গোপনীয়তা বজায় রেখে বিদ্রোহ পরিচালনা করা। তারপর তিনি পরিকল্পনা করতে থাকেন কি ভাবে প্রতিবাদী কর্ম পরিচালনা করা যায় আর প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেয়া যায়। ১৮৯৫-১৯০১ পর্যন্ত তিনি সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেন এবং এই দলের শাখা প্রশাখা প্রতিষ্ঠা করতে  থাকেন। সর্বমোট ১৩টি শাখা স্থাপন করেন। বার্মা, চিকাগো ,NYC, সানফ্রান্সসীসকো,হনলুলু, কুয়ালালামপুর, পেনাং, সিঙ্গাপুর, হানয়, হংকং, ইয়াপেহামা এবং তাইপে। 

মোট  সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০ হাজার। এই সংগঠনই ছিল তার ক্রিতকার্জের চাবিকাঠি। এর মাধ্যমে  তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয়। 

তার রাজনৈতিক জীবন ছিল  সবসময় সংঘাত পূর্ণ।এবং  তাকে বারে বারে দেশ থেকে সরানো  হতো।  ১৯০৭ থেকে ১৯০৮ পর্যন্ত সান ইয়াট সেনের নির্দেশে এই দলের সদস্য গন  প্রচার চালাতে থাকেন এবং জনমত তৈরি করেন। অনেক বাধার সৃষ্টি হতে থাকে এবং রায়ট বাধে অনেক লোকের  মৃত্যু হয়। 

সমস্ত দেশে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে  এবং উদ্দেশ্য  ছিল একটাই রাজতন্ত্রের অবসান এবং puie কে সরানো। ১৯১১ সালে সাকসেসফুল রেভুলেসানের পর তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং শর্ত অনুযায়ী সেনা প্রধান Yuan Shikai কে দিয়ে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু puie কে সরানোর ৪ মাস পরে Yuan Shikal নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন । ১৯১২ সালে  সান কে রাষ্ট্রপতি করেলও তিনি পদচ্যুত হন ।

মানচু রাজবংশের অপশাসন এর বিরুদ্ধে তিনি লোড়ে ছিলেন এবং ক্রিতকার্জ হন  । তিনি রাষ্ট্রপতি হন এবং তিনিই প্রথম প্রজাতন্ত্রী চীনের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তার রাজনৈতিক মতাদর্শ জনসাধারণ কে অনুপ্রাণিত করে। চীনের জনসাধারণ  তাকে সন্মানের আসনে রেখেছেন। 

মাও সেতুং ; 

চেয়ারম্যান মাও ছিলেন কম্যুনিস্ট পার্টি চায়নার প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি এই নেতার দায়িত্বে ছিলেন। তার নীতিকে বলা হয় মাওজম বা মাওবাদ। 

মাওবাদ হল শ্রেণিহীন, শোষণ হীন, বাক্তি মালিকানা হীন একটা  রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাবাদর্শ। কেউ নিজের অর্জন করা ক্ষমতা বা সম্পত্তি ছেড়ে দায়না। তা  নেয়ার জন্য বিপ্লবের মাধ্যমে নিতে হবে। কি ভাবে দেশ চলবে তার একটা  নতুন আইডিয়া এই ভাবে তিনি দেন। তার মতে সরকার পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য কৃষক শ্রেণীকে লিডিং পার্ট নিতে হবে। ধনী দরিদ্রের মধ্যে কোন ব্যাবধান থাকবেনা। মাও এর রাজনৈতিক জার্নির মধ্যে ছিলঃ 

১) গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড,২) রেড আর্মি, ৩) কালচারাল বিপ্লব। 

গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ডঃ ( ১৯৫৮-১৯৬২) 

গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড এর উদ্দেশ্য ছিল চীনের অর্থনীতি কে রাতারাতি পরিবর্তন করা । কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া। যদিও এটা কার্যকরী হয়নি। ১৫-৫৫ মিলিওন লোকের মৃত্যু হয় খাদ্যাভাবে। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফেমিন সে সময় হয়ে ছিল। ১০ মিলিওন লোককে হত্যা করা হয়। লোকসংখ্যা ৫৫০ মিলিওন থেকে ৯০০ মিলিওন এ পরিণত হয়। পরিবার পরিকল্পনার কোন প্রয়োগ ছিলনা। অতিরিক্ত লোকের খাবারের সংস্থান করতে মাও সরকার বার্থ হয়। 

রেড আর্মিঃ  কৃষক লেবার শ্রেণী নিয়ে তিনি একটা বাহিনী গঠন করেন, নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে এই বাহিনী কাজ কোরত । ১৯৩৪- ৩৫ সালে মাও ৮৪ হাজার সৈন্য ১৫০০০ দলীয় ক্যাডার নিয়ে লঙ মার্চ করেন। ১৯৪৯ সালে গন  প্রজা তান্ত্রিক চীনের বাস্তবে রূপ নায়। তার বিখ্যাত  স্লোগান ছিল “ চীনা জনগণ উঠে দাঁড়িয়েছে” 

কালচারাল বিপ্লবঃ  এই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল চারটি বিষয় সমাজ থেকে সরিয়ে ফেলা। ১) পুরানো চিন্তাধারা, পুরানো কালচার , ৩) পুরানো অভ্যাস, ৪) পুরানো রীতিনীতি। 

মাও এর সময় যে যে বিষয়ে উন্নত হয়েছে তা হল নারী দের কে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়া , কৃষক শ্রেণীকে জাগ্রত করা এবং তাদেরকে অরগানাইজ করা, শিক্ষার উন্নতি করা। 

“Without Chairman Mao there would be no new China” বলেছেন প্রফেসর  Zhang, Minzu University, Beijing ।  

মাওবাদের অনেক কিছু সাফল্য লাভ না করলেও চাইনিজ জনসাধারণ মাওকে   একজন গ্রেট লিডার হিসাবে স্মরণ করে। 

Deng Xi opingঃ ডেং শি অপিং  ( ১৯০৪- ১৯৯৭) 

বর্তমান চীনের উন্নতির পেছনে বিরাট অবদান রয়েছে Deng এর। Deng কে বলা হয় “ Architect Of Modern China“ । তিনি Market Economy Reforms এর জন্ম দাতা। ক্ষমতাই ছিলেন ১৯৭৮-১৯৮৯ পর্যন্ত।  

মাও এর মৃত্যুর পর Deng কে নির্বাচন করা হয় সেন্ট্রাল কমিটির মাধ্যমে। 

Deng জন্ম গ্রহণ করেন সিচুয়ান প্রদেশে। ১৯২০ সালে পড়াশুনা করার জন্য ফ্রান্সে যান । সেখানে কিছুদিন কাজও  করেছিলেন । ফ্রান্সে কার্ল মার্ক্স এবং লেনিনের অনুসারী হন এবং চাইনিজ কমুইনিসট পার্টি তে যোগদান করেন।১৯২৪-১৯২৬  সাল পর্যন্ত মস্কো তে ছিলেন কমুইনিসট এর উপরে পড়াশুনা করার জন্য। 

চীনে ফিরে তিনি রেড আর্মি তে যোগ দিয়ে পলিটিকাল কমিশনার হন। ১৯৩৪-৩৫ সালে লং মার্চে deng একটা গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা নেন। সেটা হল “ Boluan fanzheng” প্রোগ্রাম আরম্ভ করা। যার উদ্দেশ্য হল চীন কে কেওয়াস  অর্থাৎ গণ্ডগোল পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে নিয়ে আসা। Deng এটা পরিচালনার দায়িত্ব নেন, নেতৃত্ব দেন এবং নানান প্রোগ্রামের মাধ্যমে অগ্রসর হতে থাকেন। 

এই প্রোগ্রাম গুলোর মধ্যে ছিল 

১)  One Child Policy অর্থাৎ মাত্র এক বাচ্চা নিতে হবে । উদ্দেশ্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা রোধ 

২)  বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশুনা 

 ৩) বাধ্যতা মূলক পড়াশুনা। 

ডেং আস্তে আস্তে মাওসেতুং এর planned  economy এবং Maoist  Ideologies থেকে সরে এসে ফরেন ইনভেসমেনট খোঁজা  আরম্ভ করেন। টেকনোলজি ভিত্তিক শিক্ষা  আরম্ভ করলেন । কি ভাবে বিরাট লোকবল কে লেবার ফরসে পরিণত করা যায় তার চিন্তা আরম্ভ করলেন। এই ভাবে লেবার ফরস  কে কাজে লাগানর জন্য গ্লবালাইজেসান বাবস্থা চালু করেন। গ্লোবাল মার্কেট চালুর মধ্যে দিয়ে নিজ দেশের  বিরাট লেবার শ্রেণীকে লাজে লাগিয়ে চীনকে পৃথিবীর Fastest Growing Economy দিকে নিয়ে যাওয়ার “ টার্ন নিং পয়েন্ট “ । 

Deng,  Foreign investment দিকে মনোযোগ দিয়ে দেশে যে কেওায়স অবস্থা বিরাজ করছিল তার উত্তরণ ঘটালেন। 

Deng এর উদ্দেশ্য ছিল কৃষি, শিল্প, ডিফেন্স, বিজ্ঞান এবং টেকনোলজি এই বিষয় গুলির উন্নয়ন । 

xi jingpingঃ ( জন্ম ১৯৫২) 

Xi JingPing হলেন চীনের বর্তমান “  প্রেসিডেন্ট অব রিপাবলিক অব চায়না “ । পড়াশুনা করেছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং । তিনি প্রথমে ccp এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। তার বিখ্যাত স্লোগান হল “ চীনের স্বপ্ন” ( China Has a Dream) । 

তার উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলো হলঃ 

১) Belt And Road Initiative 

২) Anti Corruption

৩)  সম্পূর্ণ ভাবে দারিদ্র বিমোচন  ২০২০ সালের মধ্যে। 

৪) জনসাধারণের জীবনের মান উন্নয়ন 

৫)  চাইনিজ জনসাধারণ এবং পৃথিবীর সব জনসাধারণের সাথে শান্তিপূর্ণ সহবস্থান 

৬) গ্রীন ডেভেলপমেন্ট 

Xi jingping এর আমলে যে মেগা প্রোজেক্ট হয়েছেঃ 

১) Water diversion project ২)  Bullet Train ৩) Silk Road ৪) Giant Global Construction Project ৫) Extreme Poverty দূরীকরণ ৬) Relocated housing project ৭) Three Gorges Dam ৮) New city, Three Times bigger Then New Yourk City ৯) Make dessert green ১০) Second largest Pingtang Telescope ১০) Qinling Tunnel ১১)  Space Centre12)Longest Cross Sea Bridge ১৩) টিয়ানহুয়াং পিঙ্গ Hydro Electric

পশ্চিমা ধনী দেশ গুলোর কাছে শি জিং পিং যা চায়

Xi JingPing একজন নেতা হিসাবে বর্তমানে যা চায় তা হল ১) এশিয়াতে একচেটিয়া ভাবে যেমন আধিপত্য বিস্তার উপভোগ করছিল এখন সেখানে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে  ওয়েস্ট দ্বারা , সেটা সে আবার পুনরুদ্ধার করা, ২) চীনের টেরিটোরি পুনরুদ্ধার, ৩) চীনের যে ক্ষমতা হয়েছে সেটা ওয়ার্ল্ড এর ক্ষমতাধারী দেশ গুলোকে মানতে হবে। এবং তাদের কাছ থেকে সন্মান দাবী । 

চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কে বলা হয় মিরাকেল অর্থাৎ অবিশ্বাস্য । মাত্র ৩০/৪০ বছর আগে চীন ছিল একটা দুর্ভিক্ষ  পীড়িত,  দরিদ্র, কৃষি নির্ভর একটা দেশ। চীনের অর্থনীতি কে বলা হয় সসিয়লিসট মার্কেট ইকোনোমী । যেখানে রাষ্ট্র চালিত সেক্টরের পাশাপাশি,  মার্কেট ক্যাপ্যাটালিজম বা বাক্তি মালিকানাধীন শিল্পও থাকবে। Socilist Market Economy, চীনের অর্থনীতি কে দ্রুত উন্নয়নের দিকে নিয়ে গেছে। লার্জ স্কেল ক্যাপিটাল investment দেশের মধ্যে থেকে এবং বাইরের দেশের investment এর পেছনে কাজ করছে। মার্কেট মেকানিজম চীনের উন্নয়েনের পেছনে বেশী অবদান রেখেছে । মাত্র ৩০ বছর  আগেও পৃথিবীর কেউ চিন্তার মধ্যে আনতে পারেনি এটা সম্ভব হবে। চীন এখন পৃথিবীর  দ্বিতীয় বৃহত্তম  অর্থনিতির  দেশ । চীন কে বলা হয় “ Warld Factory”। চীন  স্পেসে অ্যাস্ট্রোনোমার  পাঠাতে পারবে কেউ ভাবতে পারিনি। 

১৯৭৮ সাল থেকে চীন ৫০০ মিলিওন জনসংখ্যার বেশী লোককে দারিদ্র দশা থেকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়েছে। কেউ ভাবতে পারিনি ২০থ সেঞ্চুরিতে একটা লারজেসট অর্থনীতি তে পরিণত হতে পারবে।  এর পেছনে কাজ করেছে Deng এর ওপেন মার্কেট পলিসি        

 আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা , দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে গণতন্ত্র আছে এবং সেইসব দেশ ব্যাবসা এবং invest এর জন্য আহাব্বানও করছে ,লোকবলও আছে। তবুও তারা চীনের মতো উন্নয়ন ঘটাতে পারছে না। অনেক পণ্ডিতের মতে,  চীনের সাকসেস বেটার  গভর্নমেন্ট যা কিনা চাইনিজ গভর্নমেন্ট । 

চীনের এই সাকসেস এর পেছনে যা  কাজ করছে  তা হলঃ 

১) মার্কেট ইকোনোমী 

২) মডার্ন মেকানিজম 

৩) মডার্ন টেকনোলজি 

৪) পশ্চিম থেকে নেয়া ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি চালু 

যখন থেকে Deng Xiaoping ওপেন মার্কেট চালু করে এবং পলিসি reform করে তখন থেকে চীনের দ্রুত উন্নয়ন ঘটতে থাকে। অবশ্যই বলতে হবে পশ্চিম থেকে নেয়া ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি এই উন্নয়েনের পেছনে অনেক অবদান রেখেছে। “চাইনীজ সরকার এর নীতি” এর আর একটা  কারন । Thomas Friedman একজন অর্থনীতিবিদ সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন “ What if we could just be China for one day?”

 

এই হল চীনের উন্নায়নে সরকারের ভূমিকা । এর সাথে আরও কিছু আছে। আর তা হল চাইনীজ দের মানসিকতা ,  নিজস্ব কালচার ধারণ এবং পরিবারের প্রতি যত্নবান হওয়া। 

তাদের ক্রিতকার্জতার পেছনে আছে তারা উচ্চাকাংখি , পরিশ্রমী, পরিবারের প্রতি যত্নবান, পড়াশুনায় ভালো করার জন্য চেষ্টা, সন্তান দের বাবা/মা রা  শেখান  ” ক্রিতকার্জ হতে স্বপ্ন দেখা” । 

এই গুলো হল কিছু উদাহরন। তার সাথে আরও আছে Confucian এর Ethik জীবনে প্রতিফলন  ঘটানর  চেষ্টা।  যুগ যুগ ধরে চীনা রা এই দার্সনিকের  দর্শন কে ভক্তি ভরে জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করে। 

Confucian এর দর্শন হলঃ 

১) Dedicated ২) Motivated ৩) Responsible ৪) Educated Individuals ৫)  Commitment রক্ষা  করা।

৪০% চীনা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনা করে।২৫% চীনা ব্যাঙ্ক ক্রাফট হয় না। টাকা পয়সা দুর্দিনের জন্য জমা  রাখতে  পছন্দ করে। অর্থাৎ অ্যায়  বুঝে ব্যয় করে ।   

এগুলোই হল “ Untold Secret of China’s Success” 

তথ্য সূত্রঃ  

The Atlantic 

Ovik Roy, Forbes

Roderick Mac Farquhar ,China Expert, Harvard Professor

    ফটো ক্রেডিট ঃ UIKIPEDIA

৪৫২জন ১৮৫জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য