কোভিড ১৯ গ্রেফতার

রিয়েল আবদুল্লাহ ৩ আগস্ট ২০২০, সোমবার, ০১:০০:৪১পূর্বাহ্ন গল্প ১৫ মন্তব্য

(সায়েন্স ফিকশন)
মাঝে মধ্যেই এলিনের মন খারাপ হয়ে যায়। মেঘলা আকাশ হলে তারাদের দেখা যায় না। তার জন্য আজ একটি মেঘমুক্ত স্বচ্ছ আকাশ প্রয়োজন। সে এমন একটি যন্ত্র বানিয়েছে যা দ্বারা সহজেই আকাশের অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায়। মন খারাপ হলেই সে আকাশ দেখে। তারা দেখে। রঙবেরঙ তারা। দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে শুকতারাটা যখন স্থান চেঞ্জ করে তখন সেটাকে তাঁর কাছে যাযাবর লাগে। কাছে দূরে বা ক্ষণিকের তরে হারিয়ে যাওয়া এ তারাটির প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ দূর্বলতা।

তাছাড়া তাঁর নিজের হ্যান্ডমেক বিভিন্ন যন্ত্রে ঘর ভর্তি। ঘরটা তো নয় যেন একটা বিজ্ঞানাগার। একটু হার্ট আপগ্রেডেশন এর জন্য আজ একটু পরিষ্কার আকাশ চাই।

ওঁদের বাড়িটা পাঁচতলা। চারিদিকে বাড়িঘর থাকলেও অনেকদূর পর্যন্ত এত বড় দালান অবশ্য নেই। যে কারণে শখের জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় তেমন অসুবিধা হচ্ছে না। জ্যোতির্বিজ্ঞান তার কাছে খুবই প্রিয়। গ্যালিলিও তার প্রিয় বিজ্ঞানি। ছোটবেলা থেকে এ নিয়ে মামার কাছে অনেক গল্প শুনেছে। মামা,আমিন সাহেব, বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে আমেরিকায় নাসার গবেষক। বছরে দু-একবার আসেন আর তখনই মামার সাথে ভরাট জমে। মামার যতো বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা ভাগিনার সাথে শেয়ার চলে দিনে-রাত। এলিনও মামার পিছু ছাড়ে না। মামা যে কটা দিন বাড়ি থাকেন,সে কটা দিন একেবারে নাছোড়বান্দা। মামাও ভাগিনাকে এতটাই আদর করেন যে, ভুল করেও কপালের ভাঁজ টুকু ফেলেন না।

এলিনকে নিয়েই বাজার ঘুরাফেরা, মার্কেটিং, খাওয়া-দাওয়া সব চলে তার।

গেলো বার মামা ভিনগ্রহের কিছু প্রাণীদের কথা বলে গেছেন। ওঁরা আমাদের গ্রহে  আসে এটা সবারই জানা। কিন্ত কেন আসে? প্রশ্নটা থেকেই যায়। এ প্রশ্ন নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। কেউ এর কিনারা করতে পারেনি। পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীরা হয়েছেন ব্যর্থ। সবাই এলিয়েনের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও কেউই এলিয়েন সত্যিই আছে বলতে পারেন নি। তাঁরা যা বলেছেন তা কেবলই ধারণা।

তার সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।  বলা হচ্ছে মানুষই নাকি ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আগত প্রাণী।

এতদিন সকলেই জানতো ভিনগ্রহের প্রাণীরা আমাদের মত। ওরাঁ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। সেজন্য ওঁরা সসার পাঠায় যা ইউরোপ -আমেরিকার মতো রিচ কান্ট্রিগুলোর আকাশে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়।

মামা,আমেরিকায় যাবার আগে এলিনকে একটি বই দিয়ে বলে যায়,”এটা পড়িস,অনেককিছু জানতে পারবি”। এলিন আমেরিকার ইকোলজিস্ট ডঃ এলিস সিলভারের Humans are not from Earth: a scientific evaluation of the evidence বইটি পড়তে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ  তথ্য পায়।

সে বইটিতে রীতিমতো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, মানুষ পৃথিবীর জীব নয়।

অন্য জীবদের মতো মানুষের সৃষ্টি পৃথিবীতে হয়নি। কয়েক লক্ষ বছর আগে অন্য গ্রহ থেকে মানুষকে পৃথিবীতে ছেড়ে যাওয়া হয়েছিল। মানুষের শরীরে থাকা অনেক ত্রুটি বুঝিয়ে দেয়, পৃথিবী মানুষের নিজের গ্রহ নয়। কিন্তু জীববিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন –নিম্নশ্রেণীর প্রাণী থেকে বিবর্তিত হতে হতে পৃথিবীর সেরা প্রাণী মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল।

মানুষ যে মহাকাশের প্রাণী ও মহাকাশেও যে প্রাণ বিদ্যমান, তার  প্রমানের চেষ্টাও করা হয়েছে।
আরোও প্রাগ্রসর সত্যতা যাচাই করতে এলিন ইন্টারনেটের সাহায্য নেয়। কোন এক বিজ্ঞান পত্রিকায় যে তথ্যটি পায় তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর।

শেফিল্ড ইউনিভারসিটির একদল বিজ্ঞানী ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৭ কিমি ওপরে থাকা বায়ুমন্ডলীয় স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে কতগুলি বেলুন পাঠান। বেলুনগুলি ফিরে আসার পর স্তম্ভিত হয়ে যান তাঁরা। বেলুনের গায়ে লেগে ছিল কিছু আণুবীক্ষণিক জীব। পৃথিবীতে যাদের অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জীবগুলির উৎপত্তি মহাকাশে।

পরীক্ষাটির শেষে শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ওয়েনরাইট বলেছেন, কোনও পদ্ধতিতেই পৃথিবী থেকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উচ্চতায় এই জীবগুলির যাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি,এগুলি মহাকাশেরই জীব এবং মহাকাশেই  জীবের সৃষ্টি হয়েছিল। মহাকাশ থেকে এখনও প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে জীব আসছে। আমাদের চারপাশে অনেক জীবই আছে যাঁরা এসেছে মহাকাশ থেকে।

আর একদল বিজ্ঞানীও পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন, মহাকাশ থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিড পৃথিবীতে আসতে পারে ধূমকেতুর আঘাতের সঙ্গে। এই মতবাদে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলছেন জীবন সৌরজগতেই ছড়িয়ে আছে।

জীবের উৎপত্তি সম্পর্কে  বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরা এত দিন বলে এসেছেন, সমুদ্রের জলে আনুমানিক ৩০০ কোটি বছর আগে জীবনের আবির্ভাব ঘটেছিল। কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন মিলে বিভিন্ন ধাপে তৈরি করেছিল প্রথম প্রাণ নিউক্লিওপ্রোটিন। এটাকে অবশ্য পুরানো সমূদ্র তত্ত্ব বলে।

সেখান থেকে প্রোটোভাইরাস-ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া- প্রোটোজোয়া প্রভৃতি ধাপ ঘুরে সৃষ্টি হয়েছিল এককোষী ক্লোরোফিল যুক্ত জীব ও বহুকোষী প্রাণীর। এককোষী ক্লোরোফিল যুক্ত জীব থেকে সৃষ্টি হয়েছিল উদ্ভিদের।

তাহলে সত্যিই কি আমরা পৃথিবীর প্রাণী! নাকি আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী হয়ে পৃথিবীকে শাসন করছি!  বা ভিনগ্রহের থেকে আমরা পৃথিবীটা আবিষ্কার করেছিলাম! যে ভিনগ্রহে আমাদেরই পূর্বসূরিরা রয়েছে যাঁরা আমাদের এখানে পাঠিয়েছে।

একটা যুক্তি এলিন নিজেও দাড় করায়। এই মহুর্তে আমরা যদি মঙ্গল গ্রহে আবাস গড়ি আর কোনদিন পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবো না। আধুনিক ডিজিটাল  মঙ্গল গ্রহ গড়তে চলে যাবে অফুরান সময় ও জীবন। ততদিনে সময় গড়িয়ে মঙ্গল গ্রহের প্রাণীদের কাছে আমরা হয়ে যাবো ভিনগ্রহী। অথচ আমরাই তাদের পাঠিয়েছি। সে কথা ইতিহাস ও অকল্পনীয় হয়ে যাবে। আমরা আরো উন্নত হবো। আমাদের যানবাহন সেখানে সিএফ ও এর মত যাবে। ওঁদের আকাশে ওঁরা দেখে ভাববে বিষ্ময়কর কিছু। রহস্য উদাঘাটন করতে চাইবে। যেমন এখন আমরা চাই। সেখানের বংশধররা হয়তো কোন এককালে আমাদের খুঁজবে। এখন আমরা যেমন ভিনগ্রহের প্রাণীদের খুঁজছি। তারা আমাদের মতই খুঁজবে তাঁদের শিকড়। হয়তবা ঠিক এমনটাই ঘটেছিল পৃথিবীতে প্রাণ ছড়ানোর বেলায়ও।

ভাবতে ভাবতে নিজ হাতে বানানো একটি যন্ত্রে চোখ রাখে সে। যন্ত্রটির মনিটরে একটা রেডিও সংকেত খুঁজে পায়। সংকেতটির রিপ্লে শুনে সে। অদ্ভুত এক ধরনের ভাষা। জাগতিক পৃথিবীর ভাষা বলে মনে হয় না এবং যেখান থেকে সংকেত পাচ্ছে তার লোকেশন খুবই কাছে। সে দ্রুত নিজহাতে বানানো শক্তিশালী বাইনুকুলার দিয়ে পাঁচতলার উপর থেকে খোঁজা শুরু করে কারা নেমেছে পৃথিবীর বুকে। কিছুক্ষণ খোঁজে দেখে সে সংকেতগুলো নিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে। জটিল প্রোগ্রামিংয়ের সাহায্যে সেই অপরিচিত ভাষাগুলোর পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করে। দীর্ঘ সময় সে একটার পর একটা কাজ চালিয়ে যায়। বহু চেষ্টার পরে সে আশার আলো দেখতে পায়।  অনেক প্রচেষ্টার পরে সে পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সে ইংরেজীতে অনুবাদ করে যে বিষয় পায় তা মোটামুটি এ রকম, ” আমরা গবেষনার জন্য যে অনুজীব পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলাম তা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনলেও পৃথিবীর মানুষদের জন্য মহা বিপর্যয়ের কারণ। আমাদের যে উপায়েই হোক ফিরিয়ে নিতে হবে।খুঁজে বের করতে হবে আমরা যে অনুজীব পাঠিয়েছিলাম তাঁরা কোথায় আছে? অতিদ্রুত।”

সংবিৎ ফিরে পায় এলিন। এতক্ষণ সে যেন তন্দ্রার মধ্যেই ছিলো।

বাকী অংশটুকু শুনতে আবার হেডফোন কানে লাগাতেই শুনতে পায়,”আমাদের এর জন্য যেভাবেই হোক পৃথিবীর কারোও গোপণ সাহায্য লাগবে। কিন্তু কে করবে আমাদের সাহায্য? কে আছে এমন সাহসী যে জীবন দিয়ে হলেও তাঁদের ধরতে সাহায্য করবে। পৃথিবীর মানুষদের বাঁচাবে। কেউ থাকলে, সি গট,ফ গট, ও গট এ সংকেত দাও। আমরা ঠিক জায়গায় নেমেছি।”

এলিনের কান খাড়া হয়ে যায়। মাথার ভেতরে বিদ্যুৎ খেলে যায়। সে আগ পর কোন কিছুই ভাবে না। দ্রুত পারসোনাল গবেষণাগারে বসে যায়। রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এমন ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াকিটকি হাতে নেয়। নাসায় গবেষনায়রত মামা আমিন সাহেব তার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। বলেছিলেন, “রেখে দে কাজে লাগবে। আমরা এগুলো দিয়ে রেডিও সংকেত পাঠাতে পারি। তাঁর আগে কম্পিউটারে ইনস্টল করে নিবি।” এলিন আগেই  ইন্সটল করেছিল। এখন সে দ্রুত সংকেত পাঠান শুরু করে,
সি গট
এফ গট
ও গট,
য়েস গট,
এলিন গট,
উনিক গট, অভার –অভার।

সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এলিন। চেয়ারে বসে মনিটরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখে জ্বালা ধরে যায়। কম্পিউটারের সাথে সাউন্ড বক্সের সংযোগ দিয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। যাতে করে মেসেজ আসলে উচ্চ শব্দে বেজে ওঠে। এলিন টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত তখন তিনটে কি চারটে হবে। ভীষণ জোড়ে মেসেজ রিং বাজা শুরু হলো। প্রচন্ড শব্দে হুফস করে জেগে ওঠেই একলাফে টেবিলে চলে গেল। কম্পিউটারে টাচ করতেই রেডিও সংকেতের কোডগুলো সফটওয়ার এ ভেসে ওঠলো।

কোডগুলোর মেনিং যা দাঁড়ালো তা হলো, “আমরা জেনে গেছি,অবস্থানও জেনেছি। শীঘ্রই দেখা হবে। তবে তাঁর আগে আমাদের গ্রহ থেকে যে অণুজীব দুটো পাঠানো হয়েছিল তাঁরা কোথায় আছে জেনে রাখুন। দ্রুত পাকড়াও করে আমাদের ওয়ার্ল্ডে নিয়ে যেতে হবে। এরা মাদার অব ডিজিজ ফর প্যানডোমিক। অন্যথায় এই মহামারি থেকে কোনভাবেই পৃথিবীর মানুষ বাঁচানো যাবে না। ”

এলিন ফিরতি মেসেজ দিয়ে জানতে চায়,”এগুলো সম্বন্ধে জানা খুব জরুরী।”

এবার মেসেজ আসতে দেরি হয়না। ওঁরা সংকেত পাঠায়,”হে পৃথিবীর মানুষ,আমাদের প্রতিনিধি, ভাল কাজের গবেষণার জন্যই অনুজীব যুগল পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু পৃথিবীতে এসে তারা ফিরে যাবার কোড হারিয়ে ফেলে। মূল সার্ভারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মূল প্রটেকশন থেকে লাইনচ্যুত হলে পৃথিবীর বৈরি আবহাওয়াগত কারণে ও অজানা শত্রুর আক্রমণে তাদের শরীরে জিনোম কোড পাল্টাতে থাকে। তাঁরা নিরীহ অবস্থা থেকে ভয়ঙ্করতম অবস্থায় চলে যায়। পৃথিবীতে বিধ্বংসী কাণ্ড ঘটাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। দ্রুত একটা বিহীত করতেই হবে। তুমি প্রস্তুত তো?”

এলিন মুহুর্ত না ভেবেই,মেসেজ বক্সে লিখে দেয়,”ঠিক আছে,আই এম রেডি।”

মুহুর্তেই ফিরতি মেসেজ আসে –ওকে।

তার মানে এঁদের সাথে দেখা হচ্ছে সামনে যে কোন দিন।

এলিনের আর ঘুম আসে না। পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। একটা কিছু করতেই হবে তাকে। একমাত্র বিজ্ঞান দিয়েই এই মহা সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারে এই পৃথিবী। সারাজীবন শুনে এসেছে ভিনগ্রহী এলিয়েন মানুষের ক্ষতি ছাড়া কিছু করে না,আজকে তার বিশ্বাসই হচ্ছে না যে ওঁরাও পৃথিবী নিয়ে ভাবে। এলিয়েনের মাঝেও ভাল মন্দ আছে। যেমন মানুষের মধ্যে আছে। সম্ভবত এঁদের আদি বংশধরদের অবস্থান কি না তাই।

তবে যা মনে হচ্ছে এঁদের কাছে ভয়ের কিছু নেই। এঁরা তো আর দিনের বেলা নামে না। যাক এই ফাঁকে একটু রেস্ট নেয়া যাবে। ভোর তো হয়েই গেছে। একটু ঘুমিয়ে নেয়া যাক। বিছানায় গা এলিয়ে চোখ দুটো বুঝতেই আবার সংকেত মানে মেসেজ।

এলিয়েনরা আবার মেসেজ পাঠিয়েছে,রেডিও মেসেজ,”আমরা পেয়ে গেছি। আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত অনুজীবদের। আমরা লোকেশন ঠিক করেছি। তবে আমরা তাঁদের ধরতে পারবো না। তাঁরা মনুষ্য মহল্লাতে আছে। তোমার লোকেশন থেকে খুব কাছেই। সে মানুষ বৃদ্ধ মানুষ। তাঁর শরীরে এখন বাসা বেঁধেছে। পাকরাও কাজে আমাদের হেল্প করবে তুমি। কারণ আমরা মানুষের কাছে যাই না। ”
এলিন জবাব পাঠায়,”তাহলে আমি কি করতে পারি?”

ওঁরা জানান দেয়,”বেশি কিছু না। তোমার ঘরের সামনে একটা যন্ত্র রাখা আছে। তুমি জাস্ট কালো বাটন চাপবে,সেখানে একটা ম্যাপে লালবাতি জ্বলবে টিপটিপ করে। তুমি সে মতো যাবে।
ভিক্টিমকে পেয়ে গেলে,সাদা বাটন চাপবে। একটা হালকা নীল আলো সমেত লাইট জ্বলবে। তুমি তা দিয়ে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সরাসরি তার পুরো শরীর স্ক্যান করবে। যেখানে লালবাতি স্থির হবে সেখানে যন্ত্রটি ঠেসে ধরে হলুদ বাটন চেপে দেবে। তাহলে আমাদের তৈরি বিশেষ রশ্মি ওঁদের শুষে যন্ত্রের ভেতর থাকা কৌটায় বন্দি করে নেবে। ”

–এরপরে আমার কি কাজ? মেসেজ পাঠায় এলিন।
ভিনগ্রহের এলিয়েনরা উত্তর পাঠায়, কোন কাজ নেই। যন্ত্রটি রাত্রিরে যেখানে ছিলো সেখানে রেখে আমাদের সংকেত দেবে।
অথবা আমাদের সাথে দেখা করতে পারো।

ওরাঁ নদীর ধারে ঘন বনের ভেতরে তাঁদের লোকেশনের জানান দেয়।

এলিন যতই শখের কাজ করুক তাঁর ভেতরে ভয় জাগে। সে সিদ্ধান্ত নেয় তাঁদের কাছে না যাওয়ার। পরে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যদি ক্ষতি হয়? অপরিচিত প্রাণী। এদের ব্যবহার আচরণ অজানা। তাই এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

সে তাঁদের ডিরেকশন মতো টার্গেটের কাছে পৌঁছে। সাহসিকতার সাথে কাজটির সমাপ্তি করে। নির্দেশমত, মহা ঘাতক অনুজীব করোনাদ্বয়কে যন্ত্রবন্দি করে।

এরপর সন্ধ্যা হবার ঠিক পরপরই যন্ত্রটিকে যথাস্থানে রেখে দেয়।

যন্ত্রটি রেখে পেছন ঘরতেই এলিন বুঝতে পারে কেউ এসেছে। পেছন ঘরতেই সে দেখতে পায় প্রায় মানুষের মতো কিন্তু ভিন্ন দুটি প্রানী যন্ত্রটি হাতে নিয়ে আছে। প্রাণীদের একজন হাত বাড়িয়ে এলিনকে ধন্যবাদ জানায়। বলে,”আজ তুমি ছিলে বলেই এই অসাধ্য কাজ করতে পারলাম। অনেক ধন্যবাদ।” এলিয়েন তাঁর আরেক সঙ্গী নিয়ে মেশিনসহ সেকেণ্ডের মধ্যে মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

এলিন কম্পিউটারের সামনে বসে। একটা মেসেজ স্ক্রিনে ভাসছে। সেখানে লেখা আছে,এ পৃথিটা আজ থেকে অনুজীব করোনা মুক্ত। সব আগের মতো হয়ে যাবে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই। শঙ্কামুক্ত। আজকের আগে যা ঘটেছে বা আজকের পরে যা কিছু ঘটবে এর জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থী। তবে এলিন তুমি জানিয়ে দিয়ো পৃথিবীর মানুষদের তাঁরা খুবই সেনসেটিভ জাতি। বেঁচে থাকার জন্য টিকে থাকার জন্য আরোও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চই অন্যগ্রহের প্রাণীরা টিকে থাকার লড়াইয়ে মানুষ তথা পৃথিবীর প্রাণীদের চেয়ে একটু বেশি এগিয়ে।”

এলিন কথাগুলো কয়েকবার পড়ে। ভাবতে থাকে কি করা যায়। ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমিয়ে পড়ে।
এলিনের মা এলিনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। বলেন- এলিন আর চিন্তা নেই। দেখ টিভিতে দেখাচ্ছে অগণিত করোনা রোগী সেকেন্ডে সেকেন্ডে ভাল হচ্ছে।
সোফায় বসে সোপটা মুখে নিতে নিতে এলিন মিটমিটিয়ে হাসে আর টিভি দেখে।-এই মাত্র বাংলাদেশে ……করোনা রোগী ……সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছে। এই মাত্র ইন্ডিয়ায় ……করোনা রোগী ……এই মাত্র ইতালিতে ……করোনা রোগী ……

💐বিদ্রঃ গল্পটি বইমেলা ২০২১ প্রকাশিতব্য।🌸

১৮৭জন ৫১জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য