এক মুঠো ভালোবাসা (২০তম পর্ব)

ইঞ্জা ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৬:৩৯অপরাহ্ন গল্প ৩৬ মন্তব্য

ছায়া ছবিটির দিকে তাকিয়ে অতীতে ফিরে গেলো, ইউনিভার্সিটির দিন গুলোতে অনিক ছিলো তুখোড় ছাত্র নেতাদের একজন, রওশন ছিলো অনিকের বেস্ট ফ্রেন্ড, ছায়াদের নবীন বরণ অনুষ্টানের আয়োজন করে ছাত্র সংঘঠন, অনিক নেতাদের মতো দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়ে নতুনদের করণীয় বললো, সাথে নিজেদের সংঘটনে যোগদান করার আহবান জানালো, এরপর রওশনের পালা, রওশন সবাইকে বিমোহিত করে কবিতা পাঠ করলো।

ছায়ার নতুন ক্লাস শুরু হয়ে গেলো, নতুন পুরাতঅন বান্ধবীদের নিয়ে, একদিন হটাৎ হৈ চৈ শুনে সবার সবার সাথে বারান্দায় এসে দেখলো অনিক তিন চারটা ছেলেকে বেদম পেটাচ্ছে, ছেলে গুলো দ্বিকবিদিক পালাতে চাইলেও অনিক ধরে পিটাচ্ছে, সবার চোখ মুখ রক্তাক্ত, হাত জোর করে মাফ চেয়েও রেহাই নেই, এইসব দেখে আঁতকে উঠলো ছায়া, কিছুক্ষণ পর দেখলো দুইজন মেয়েকে অভয় দিতে দিতে উপরের ক্লাসে এনে বসিয়ে বললো, চিন্তা করোনা, আমরা থাকতে তোমাদের কোন ভয় নেই।
পুরা ইউনিভার্সিটির স্টুডেনটদের মধ্যে রওশন সবার প্রিয় ছিলো আর অনিক ছিলো মূর্তিমান আতংক যেন, সবাই ওকে দেখলে ভয়ে কুঁকড়ে যেতো।
যেকোন সমস্যার সমাধান করতে এক পায়ে খাঁড়া থাকতো রওশন, ওদিকে যত মারামারি কাটাকাটি সব গুলোতেই অনিক আগে থাকতো।

ছায়া এসাইনমেন্ট ডকুমেন্টস সাইন করাতে পারছিলোনা, ওগুলো জমা দিতে হবে দ্রুত, রওশন এগিয়ে এসে দ্রুত করিয়ে দিলো, একদিন ছায়া অনিকের সামনে পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলো, রওশন এগিয়ে এসে বলেছিলো “ওকে ভয় পাচ্ছো কেন, ওর মতো ছেলে তুমি পুরা ইউনিভার্সিটিতে পাবেনা”, এরপরেও অনিককে ভয় পেতো ও।
বিভিন্ন কারণে ছায়া রওশন কাছাকাছি এসেছিলো, প্রেম হয়ে গিয়েছিলো ওদের মাঝে।
অনিক আর রওশন ছিলো যেন জমজ সবসময় এক সাথে চলাফেরা করতো, স্বাভাবিক ভাবে ছায়ার সাথে এক সময় বন্ধুত্ব হয়ে যায় অনিকের, ওরা তিনজনই প্রায় এক সাথে চলাফেরা করতো।
একদিন অনিক ছায়াকে প্রেম নিবেদন করে, ছায়া প্রথমে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়ে, ওর হাত পা কাঁপছিলো, অনেক করে নিজেকে সংযত করে জবাব দেয়, ” অনিক আপনি রওশনের সাথে একবার কথা বলুন”।
কেন, কেন রওশনের সাথে কথা বলবো, অনিক আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করে।
প্লিজ আপনি রওশনকে বলুন।
অনিক চিন্তিত মনে গিয়ে ধরলো রওশনকে।
এর এক মাস পর্যন্ত অনিক আর ইউনিভার্সিটি আসেনি, এক মাস পর এসেছিলো শুনেছে ছায়া, কিন্তু পরে জানতে পারে ইউনিভার্সিটি থেকে ওর কাগজপত্র উইতড্র করে নিয়ে যায় অনিক, এরপরের মাসে রওশন বললো ও খবর পেয়েছে অনিক আমেরিকাতে চলে যাচ্ছে।

শুনে ছায়ার মাঝে কোনো বিকার না থাকলেও রওশন খুব মুচড়ে পড়েছিলো, ছায়া বুঝতো ওরা দুজন খুব ঘনিষ্ঠ ছিলো, ওদের ছিলো হৃদয়ের বন্ধন, যে বন্ধন ওদের ছিন্ন হচ্ছিলো, স্বাভাবিক ভাবে ছায়া নিজেকেও দোষী ভাবতে শুরু করে কিন্তু এরই মাঝে ওরা দুজনের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়াতে দুজনই স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
ছায়া যখন অনিককে এইখানে দেখে তখন ও আশ্চর্য হয়েছিলো, ওর আচার ব্যবহার দেখে এখনো আশ্চর্য হয়, যে অনিককে সে আগে দেখেছে সেই অনিক যেন কোথায় হারিয়ে গেছে, নেই সেই আগের মেজাজ, নেই ওর রাফ এন্ড টাফ চরিত্র, এখন অনেক ধীর স্থীর, শুধু বদলেছে ওর সিগারেট খাওয়া, মদ খাওয়া, যা আগে কখনো দেখেনি ছায়া, এখন অনেক শান্ত হয়ে গেছে অনিক।
বড় এক নিশ্বাস ফেললো ছায়া, এরপর সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।
মা ছায়া এদিক আয় তো মা, ড্রয়িংরুম থেকে রওশনের বাবা ডাক দিলেন।
জ্বি বাবা কিছু লাগবে?
না মা আমার কিছু লাগবেনা, শুন ঘরে বাজার সদাই কিছু আছে?
কেন বাবা?
আরে অনিকের বাবা মা আসবে, ভালো কিছু রান্না করে খাওয়াবি না?
তা তো অবশ্যই বাবা, কিছুক্ষণ পর বেরুবো।
শুন অনিকের বাবা হাঁশ বেশ পছন্দ করে, এইখানে কি পাবি?
বাবা এইখানে সবই পাওয়া যায় কিন্তু আপনি তো খেতে পারবেননা।
আমি, আমি এক পিছ খাবো আর কি, এতে আর কি হবে, হে হে হে হে করে হাসলেন রওশনের বাবা।

অন্য দিকে হংকংয়ে লম্বা ঘুম দিয়ে জেগে উঠলো অনিক, হাত ঘড়িতে দেখলো সকাল ৭ টা, অনিক উঠে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসলো টয়লেট থেকে, এরপর ওর বাবাকে জাগিয়ে দিলো।
অনিক ইন্টারকম উঠিয়ে পাশের রুমে কল দিলো, দুইটা রিং বাজতেই আফরিন রিসিভ করলে অনিক বললো, তোমরা দ্রুত রেডি হয়ে চলে আসো, ব্রেকফাস্ট করতে হবে।
আটটার দিকে সবাই মিলে দোতলার রেস্টুরেন্টে চলে এলো, সবাইকে বসিয়ে অনিক ওর মা বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, কি খাবে তোমরা?
তুই যা তোরটা নিয়ে আয়, আমাদেরটা আমরাই নিয়ে নেবো, অনিকের মা বললেন।
সবাই গিয়ে বুফে থেকে যার যার চয়েজ মতো ব্রেড, অমলেট বা কেউ পোস্ট এগ নিলো, অনিক নিলো চায়নিজ বান (এক ধরণের চার কোনা রুটি যা দেখতে পিঠার মতো), সাথে সবাই অরেঞ্জ জুস নিলেও অনিক নিলো গরম এক গ্লাস দুধ।
কিরে তুই দুধ নিলি, অনিকের বাবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
বাবা মাঝে মাঝে খাই আমি, হেসে জবাব দিলো অনিক।
ওহ তাই, ভালো ভালো।
তা এই চায়নিজ বান খেতে তোর ভালো লাগে, আমার কখনো ভালো লাগেনি, বলেই ডিম কেটে মুখে দিলেন।
বাবা তোমার ভালো লাগেনি, কি বলো এতো খুব টেস্টি হ্যান্ডমেইড।
ইয়াক, বলে ব্রেডে কামড় দিলেন উনি।
স্যার আমি একটা নিয়ে আসি আপনার জন্য, খেয়ে দেখুন আরেকবার, আফরিন জিজ্ঞেস করলো।
না না আমি যা খাচ্ছি তাতেই ঠিক আছি, আর তুমি আমাকে স্যার স্যার করছো কেন, তুমি তো আর আমার জব করো না, তুমি আমাকে আনকেল ডাকতে পার।
জ্বি আনকেল, হেসে বললো আফরিন।

………চলবে।
ছবিঃ গুগল।

 

পূর্বের গল্পঃ

এক মুঠো ভালোবাসা (১৯তম পর্ব)

২২০জন ৫৯জন
50 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য