সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

আজ সব আড়ালের সাক্ষ্য

মুহম্মদ মাসুদ ৯ মার্চ ২০২০, সোমবার, ০২:৪১:১৪অপরাহ্ন অণুগল্প ২৩ মন্তব্য

বাবা ডাক শুনতেই পিছনের খুঁটোয় মাথায় ধাক্কা লাগে শামসুর। ততক্ষণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শামসু। ধাক্কার শব্দ দ্রুতই মজনু মিয়ার কানে গিয়ে পৌছায়। মজনু আর লাল্টু ভেবেছিলো…।
না। আর কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না। শুধু ডুকরে ডুকরে কান্নার শব্দ ভেসে আসতে ছিলো। মেয়েটা কিছু একটা বলে বলে কাঁদছে। কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সন্দেহ গয় মজনু মিয়ায়। কারণ, ততক্ষণে আধাঘন্টা সময় পেড়িয়ে গেছে।
লাল্টু বলছে, ‘ওস্তাদ, ভিতরে ঢুকবেন নাহি। অনেক্ক্ষণ তো অইলো। ভিতরে থেইক্কা কোন…।’
মজনু মিয়া বলল, ‘হ রে লাল্টু! তুই ঠিকই কইছোস। একবার ডাক দিয়া দ্যাখ।’
লাল্টু বলল, ‘ওস্তাদ, আর কিছুক্ষণ দেহি। ভিতরে থেইক্কা আইয়ে নাহি।’
মজনু মিয়া বলল, ‘তাইলে বইয়া থাক। তারপর না অয় দেখমুনি।’
সত্যিই তো। ভিতর থেকে কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না। শামসুও বের হচ্ছে না। রাগের ছিটেফোঁটা লাল্টু আর মজনু মিয়া চোখেমুখে। অপেক্ষার আগুনে জ্বলছে আর পুড়ছে।
এই লাল্টু। ভিতরে গিয়ে দ্যাখনা। কি অইলো? তর যে সইছে নাহ। মশাইতো রক্ত খাইয়ে দাইয়ে সাবাড় করে ফেললো।
ওস্তাদ! আপনে একটা বিড়ি লাগান। আমি গিয়া দেইখা আহি।
দরজা খোলার শব্দে মেয়েটি আবারও গুটিসুটি হয়ে বসে রইলো। ভয়ে ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে টিনের কাছাকাছি লেপ্টে বসে রইলো। লাল্টু ডাকছে – ওস্তাদ, ও ওস্তাদ। কই গেলেন আপনে? আপনের মিটছে নাহি। আমাদেরও একটু…।
না। তখনো কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না। লাল্টু আবার ডাকলো। এবারও কোন আওয়াজ নেই। লাল্টু ভাবলো ওস্তাদ বোধহয় কাজ সেরে ভাগছে।
হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে এলো। টায়ারের দিকে চোখ পড়তেই চিৎকার করে উঠলো লাল্টু। দৌড়ে কাছে এলো মজনু মিয়া আর অহল্লা।
শামসু অজ্ঞান অবচেতন হয়ে পড়ে আছে। কয়েকটি গর্ত রক্তের জলরাশিতে ভরে পরিপূর্ণ। নাক দিয়ে ফুসফুস করে রক্তের সাথে নিশ্বাস চলছে শামসুর। মজনু মিয়া বলল, ‘এই লাল্টু অহল্লা! ধর তারাতাড়ি। হাসপাতালে নিতে হবে।
মেয়েটি বলল কেঁদে কেঁদে বলে উঠলো, ‘উনি আমার আব্বু।’

৩২৫জন ১৮৯জন
15 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ