রমজান মাস তাই সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যার পর  অবসাদ শরীরে বিছানায় গেলেই ঘুম নিপবনে এসেই ধরা দেয় খুব তাড়াতাড়ি। প্রতিদিনের মত আজও তাই করলাম কিন্তু প্রচন্ড মাথা ব্যাথায় আজ বিছানায় যাওয়ার পাশাপাশি ফোনে গান দিয়ে ঘুমকে নিপোবনে আনার জন্য চেষ্টা করছি,,,,

“প্রেমে পড়া বারণ

কারণে অকারণ

আঙুলে আঙুল রাখলেও হাত ধরা বারণ”।

কানে গানটা বাঁজছে আর আঁধোঘুমে লেগে থাকা চোখ দেখতে পাচ্ছে, অনেকগুলো গল্প লেখার শব্দ আমার আশেপাশে প্রজাপতির  মত ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর কানে কানে বলছে,  দীপ্তি জলদি উঠে পড়ো,আর ডায়েরী নিয়ে বসে পড়, তুমি না অনেকদিন থেকে লিখতে চাও, এই শব্দগুলো থেকে বেছে নাও তোমার লেখার শিরোনাম। দেরী হলে কিন্তু শব্দগুলো তোমার ঘুমের নিপোবনে হারিয়ে যাবে তাই তাড়াতাড়ি লিখে ফেল।

অগত্যা তাই করলাম,,,,,,,

“প্রেম” শব্দটি প্রচন্ডরকমের আবেগী আর ভালোলাগার, ভালোবাসার একটা শব্দ,এই শব্দজালে আটকে যায় নি এমন কেউ নাই যে পৃথিবীতে আছে????প্রত্যেক মানুষই কোন না কোনভাবে, কোন না কোন সময় জীবনে কারো না কারো প্রেমে পরেছে। প্রেম অনেকটা চুম্বুকের মত যত কাছে যাবেন আপনাকে ততই টানবে, আবার অন্যভাবে একে অনেকক্ষেত্রে চায়ের কাপের সাথেও তুলনা করা যায়, যতবার চায়ে চুমুক দেবেন ততবার প্রেম গাঢ় হবে। আবার প্রেমকে  সিগারেটের সাথেও তুলনা করা যায়, যত খাবেন, ধোঁয়া উড়াবেন ততই নেশা হবে।

প্রেমকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়,,,,,,,  প্রেমের সুখের অভিজ্ঞতার চেয়ে তিক্ততার অভিজ্ঞতা বেশি, বেদনা না থাকলে নাকি প্রেম হয়ই না??? ‘আজব প্রেম কা গাজব কাহিনীর ‘ মত অবস্থা। প্রেম আছে বলেই কেউ কেউ অদ্ভুত বেদনায় গা ভাসিয়ে নিজেকে শেষ করে ফেলে, তাৎক্ষনিকভাবে আমরা শেষ করা মানুষটাকে গালি দেই,কিন্তু হয়ত সে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বলেই,,,, আরে বাবা! মানুষের হাতের আঙ্গুল সমান না, তাই পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ সমান না,এদের নিয়ন্ত্রণ  করার ক্ষমতাও সমান না। তাই আসুন প্রেমে পরি সঠিক মানুষের, যে আপনাকে বুঝবে,সম্মান করবে, আপনাকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনার অনুভূতিগুলোকে মূল্য দেবে, তবে আর যাই করুন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে করে ভালোবাসুন নিজের জীবনের অস্তিত্বকে ধরে রাখুন।।।।।

এবার আসি আসল গল্পে,,,,,

সেদিন দেখা হয়েছিল ছায়া আর আবিরের। বরাবরের মতই ঝগড়ার আর খুনশুটির পাশাপাশি দিনটিই ভালোই কেটেছিল। ছায়া বার বার তার হাত জড়িয়ে ধরছিল আর আবির বার বার হাত ছাড়িয়ে নিচ্ছিল মানুষ দেখছে বলে। সাধারণত মেয়েরাই বেশি লজ্জা পায় এদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অনেকের ক্ষেত্রে প্রেমিকরা প্রেমিকাকে গাড়িতে উঠায় দেয় এদের ক্ষেত্রে  আবিরকে গাড়িতে উঠানোর পর ছায়া চলে যায়,যতদূর চোখ যায় ততদুর আবিরকে দেখতে দেখতে সেদিন ছায়া বিদায় নেয়। ছায়ার ইচ্ছে করে আবিরকে আরেকটু কাছে রাখুক, আরেকটু তার হাতটা ধরে রাখুক,প্রতিদিনের মত  সব ইচ্ছের জলাঞ্জলি দিয়ে ছায়া সেদিন বাড়ি ফেরে, কেননা আবিরের ইচ্ছেই তার ইচ্ছে, আবিরের ভালো থাকায়ই তার ভালো থাকা এটাই এই সম্পর্কের ধরন।

ভালোই চলছিল তাদের প্রেম যেখানে ছায়াই সব মেনে নেয় শুধুমাত্র আবির যেন হারিয়ে না যায় সেই ভয়ে তবুও চলছিল ঠিকঠাক,ছায়া এতেই তার সুখ খুঁজে নিয়েছিল ।  কিন্তু  কথায় বলে সুখ সবার কপালে বেশিদিন স্থায়ী হয়  না। ছায়ার ক্ষেত্রে ও তাই।।।।। অনেকভাবে ধরে রাখার চেষ্টা, পাগলামী আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে আবির দিন দিন অতিষ্ট হয়ে পরছিল। মানুষ নাকি বেশি ইমোশনাল আর বেশি রোমান্টিকতা পছন্দ করে। আবির তা না, একেবারেই অন্যরকম, হয়ত একটু বেশি বাস্তববাদী তাই এত পাগলামো তার কাছে অসহ্য হয়ে পরেছে। তাই সে ছায়াকে দিন দিন এভোয়েড করছে। ছায়া বোকার মত আবিরকে নিজের মনের আসনে প্রজাপতির রঙ্গে সবসময় কিভাবে রাঙ্গানো যায় সেই ব্যাপারেই নিমগ্ন থাকত, আর ভাবত তার আবির কিসে খুশি হয় কিসে ভালো থাকে সেই চেষ্টায় ব্যস্ত থাকত।  তাই একটাবারও বুঝতে পারেনি যে তার এই ভালোবাসায়, ধরে রাখায় চরম  অতিষ্ট আবির।

একদিন আবির হঠাৎ করে ছায়াকে বলে আমরা কিছুদিন কোন যোগাযোগ করব না একজন আরেকজনকে বুঝতে দূরে থাকাই ভালো,,,, হয়ত দূরে থাকলেই বুঝব আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি???

বেঁচারী ছায়া আবিরের মুখে “ভালোবাসি খুব বেশি” কথাটা শোনার অপেক্ষায় সব কষ্টকে বুকের মাঝে চাপা দিয়ে হাসিমুখে আবিরের কথা  মেনে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়। ছায়াও ভাবে হয়ত সে আবিরকে বেশি জ্বালায় তাই আবিরের কথামত তাকে স্পেস দেয় আর মনে মনে আশা করে আবিরের অনুভূতি বহিঃপ্রকাশের জন্য কবে শুনবে সেই অপেক্ষায় ।

বেশকিছুদিন ছায়া নিজেকে একান্তই গুটিয়ে ফেলে আর মনের কোন এক কোনে এক ক্ষুদ্র আশা থাকে,,, এই বুঝি আবির তাকে কোন না কোনভাবে তাকে খুঁজবে??এই

বুঝি আগের মত বলবে পাগলী! আমি আছিতো। কিন্তু  দিন যায়, ছায়া ভিতর ভিতর আবিরের কষ্টে নিমজ্জিত হতে থাকে, সময় যায় নিজের গতিতে, আবির কোনভাবেই তাকে আর খোঁজে না আবির আবিরের মত থাকে বরং আবিরের জীবনে পদোন্নতি হয় সেই আনন্দে হয়ত ছায়াকে ভুলে গেছে আবার হয়ত যায়নি,,,হয়ত আবিরের মত রং বদলিয়েছে,কিজানি???আবিরের মনের কথা বোঝার সাধ্য ছায়ার নেই।

ছায়া দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে,, অধিক টেনশনে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে, নিজের জীবনের সব সখ,আহলাদ বন্ধ করে গুমরে যায়,তবুও চায় শুনতে সেই না বলা কথা ।

এভাবে বেঁচে থাকা যায়  তা ছায়াকে না দেখলে বুঝতে পারার কোন অবকাশ নেই।

 

আবিরের শেষ কথা ছিল অপেক্ষা কর,,,,,,,,,,, এই “অপেক্ষা নামক সুখকর অনুভূতি” নিয়েই ছায়ার বাকিদিন কাঁটছে। ছায়া জানে আবির আছেই আসবেই কারন আবিরও যে ছায়াকে ভালোবাসে। এগুলো ছায়ার নিজস্ব ভাবনা কল্পনার ছকে আঁকা। আবিরের মনের কথা আবিরই জানে। এখন   ছায়ার কাছে  একদম না পাওয়ার চেয়ে অপেক্ষা নিয়ে বেঁচে থাকা উত্তম,,, কেননা তবুও বেঁচেতো আছে আবিরের সাথে কাটানো কিছু ভালোলাগার স্মৃতি নিয়ে। মরে যাওয়ার থেকে এটাও ভালো। অন্তত কল্পনায়তো নিজের মত ভালোবাসা যায়, এই বা কম কিসে??? ।।।।

অপরদিকে আবিরের মনের অবস্থা কেমন? তা  লেখকের অজানা,,,,এভাবেই চলছে তাদের সম্পর্ক। অনেক বছরের সম্পর্কে তাদের এরকম মান অভিমান হয়েছে কিন্তু এরকম একটানা যোগাযোগ কখনো বন্ধ হয়নি।

এবার ছায়াও অনেক ক্লান্ত আর স্তব্ধ।  কেননা যার জন্য তার পুরো অস্তিত্ব সে দিয়েছে, যে মানুষটা  তার  সমস্ত ভাবনা জুড়ে সবসময় থাকে ,অথচ আজ  সেই  মানুষটা তাকে আর সহ্যই করতে পারছে না এর চেয়ে বড় অভিমান আর কিবা হতে পারে? আবিরের প্রতি ছায়ার অজস্রবার  অভিমান হয়েছে, শত অভিমান থাকা সত্বেও বার বার ফিরে এসেছে ছায়া।  কিন্তু এবারের কষ্টটা একটু অন্যরকম, অভিমানটাও একটু অন্যরকম। যেটা ছায়া ছাড়া আর কেউ জানে না, আর সবকথা জানতে চেষ্টা করাও ঠিক না। থাক না সবার কিছু একান্ত না বলা কথা।  ছায়া আজ ও প্রতিদিন আবিরের অপেক্ষায় দিন গুনে সুখকর অনুভূতির আশায় 😭😭😭।

ছায়ার  কাছে” অপেক্ষাই এখন সুখকর অনুভূতি “।।।।

আশা করি ছায়া-আবির আবার তাদের অভিমান ভুলে এক হবে এই প্রত্যাশা।

তবে বেশি অভিমান জমতে জমতে মানুষ একসময় পাহাড় সমান অভিমান বহন করতে করতে  নিস্তেজ,নিথর  হয়ে পরে।

আমার ধারনা, যতক্ষন আমাদের শরীরে জীবন আছে ততক্ষন অভিমানও আছে,প্রিয়জনকে দেখার অপেক্ষাও আছে ঠিক ততক্ষন। তাই আমরা মরিয়া হয়ে উঠি প্রিয়জনকে ভালোবাসার জন্য,আর প্রিয়জনকে দেখার জন্য । কিন্তু যখন শরীরে আর জীবন থাকে না তখন এই মৃত মানুষকে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সেই প্রিয়জনরা যাদের জন্য জীবিত থাকা অবস্থায় শুধু একটু ভালোবাসার জন্য ছায়ার মত মানুষরা  অপেক্ষা করেছিল,,,,

কিন্তু নিয়তি বড়ই আজব, আজ আমার শরীর আছে,শরীরে প্রানও আছে,  মনও আছে,আবার  মনের ভিতর তুমিও আছো,কিন্তু হয়ত যখন শরীরের প্রান থাকবে না তখন তুমি অপেক্ষা করবে আমাকে দেখার জন্য  কিন্তু আমি আর আসব না কেননা হয়ত তখন আমি আর পৃথিবীতেই থাকব না 😭😭😭😭।।।।।

আসুন “ভালোবাসি”❤️❤️❤️, ভালোবাসার মানুষকে শ্রদ্ধা করি, তাকে বুঝতে চেষ্টা করি, তার অনুভূতিগুলোকে মূল্য দেই,অভিমানগুলো ভাঙ্গাই,ছোট ছোট চাওয়াগুলোর মূল্য দেই,   সম্পর্কটাকে ধরে রাখি যতদিন বেঁচে আছি। এইটুকুই একটা মানুষের চাওয়া আর বেঁচে থাকার শেষ সম্বল, কারন পৃথিবীতে সব পাওয়া যায় সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়া কঠিন, তাই ধরে রাখুন এই “ভালোবাসা❤️❤️❤️”।

 

আজ এ পর্যন্ত, সবাই ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।।।।

ছবিঃ নেট থেকে।

৪৩১জন ২২২জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য