PAD MAN

আরজু মুক্তা ২ জুন ২০২১, বুধবার, ০১:৪২:৩৮পূর্বাহ্ন মুভি রিভিউ ২৮ মন্তব্য

” where ignorance is bliss

It’s folly to be wise.”

প্যাডম্যান বলছে, পাগলামি না থাকলে সৃষ্টি জন্ম নেয় না। গল্পটা ঘর থেকে বাহিরের, মুখ থেকে মুখোশের গল্প প্যাডম্যান। মুভিটি হিন্দি ভাষায় নির্মিত। মুক্তি পেয়েছে ২০১৮ সালের ৯ ই ফেব্রুয়ারী। যার পরিচালক আর বালকি। শ্রেষ্ঠাংশে অক্ষয় কুমার, সোনম কাপুর, রাধিকা অপ্তি। ছবিটি অরুণাচলম মরুগানাথমের জীবন থেকে নেয়া হয়েছে।

সুপারম্যান হলেন অক্ষয় কুমার, মুভিতে যিনি লক্ষ্মি নাম নিয়ে জন্ম হয়েছেন বিপ্লবী হওয়ার জন্য। তাইতো একজন চৌকস এবং কেয়ারিং স্বামী হয়ে খেয়াল করলেন মাসের ৫ টি দিন মাসিকের কারণে বাহিরে কেনো একজন মেয়ে থাকেবে?  এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। অথচ মা বোনকে বোঝাতে ব্যর্থ হলেন ; অনভিজ্ঞতার কারণে। আরও আশ্চর্য হলেন, যখন তার বৌ ছেঁড়া ন্যাকড়া অস্বাস্থ্যকর কাপড়টি শুকাতে দিচ্ছে শাড়ির নীচে।  সে ব্যথিত হয়ে বলেছিলো, আমি তো সাইকেল মোছার জন্যও এমন ন্যাকড়াও ব্যবহার করিনা। এর প্রতি উত্তরে তার বৌ বলেছিলো, মেয়েদের ব্যাপারে নাক না গলাতে। ভাবনাতে ছেদ পরে। স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করে। একজন পুরুষ যদি একজন মহিলাকে প্রটেক্ট করতে না পারে ; তাহলে সে নিজেকে মানুষ বলতে পারেনা। বুঝলেন ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তা। সিদ্ধান্ত নিলেন বৌ এখন থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করবে। যেহেতু সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে এর দাম। দুধ কেনার টাকা কাটছাঁট করে কিনলেন। কিন্তু ৫৫ রূপি দাম। একটা প্যাড ছিঁড়ে উপাদান শুধু তুলা ছাড়া কিছু পেলেন না। উচ্চমূল্যের কারণে বঞ্চিত নিম্নবিত্তরা। লক্ষ্মি সিদ্ধান্ত নেয়, এই সামাজিক ট্যাবু সে ভেঙ্গে দেবে। কুসংস্কারের বাস্তব চেহারা খুলে দিবে। ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সোজাসুজি মেয়েদের বলতে লাগলেন। মধ্য প্রদেশে মাসিক হলে যেখানে মেয়েরা অচ্ছুৎ ; সেখানে একজন পুরুষ নেমেছেন ট্যাবু ভাঙ্গতে। এতো পাপ। ভাই এসে নিয়ে গেলো বৌ কে। বোন পরলো লজ্জায়। লক্ষ্মি হলো ঘর ছাড়া। একা। স্রোতের উল্টো হাঁটতে চাইলেন। প্রতি মাসের সমস্যার কথা ভেবে, উদ্যোগি হলেন সস্তায় প্যাড তৈরিতে। দেখলেন, তুলার থেকেও সেলুলোজ ফাইবারের ধারণ ক্ষমতা বেশি। খরচ যোগাতে কাজ নিলেন প্রফেসরের বাড়িতে। প্রফেসর ইন্টারনেট সুবিধা, তথ্য এবং প্যাড বানানোর ভিডিও দেখিয়ে সাহায্য করলেন। তৈরি করলেন মেশিন। প্রচারণায় বাধা। মেয়েদের সমস্যা মেয়েরাই বোঝে। গায়ত্রী বেরিয়ে গেলেও, পাশে দাঁড়ান সোনম কাপুর। দারুণ ফিডব্যাক। দুজনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সচেতন করার পাশাপাশি বিক্রি শুরু করেন বাজারের থেকেও কমমূল্যে। নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন বাজারজাত ও উৎপাদনে। আপনি একজন মিলিওনিয়র কিন্তু সাধারণের পাশে এভাবে কয়জনে দাঁড়িয়েছেন?

এমনকি, মেয়েদের ইউটেরাসের মতো একটা সিস্টেম তৈরি করে, সেখানে ছাগলের রক্ত ভরিয়ে প্যাডটা ভেজানোর চেষ্টা করেন। আশে পাশের মানুষ ব্যঙ্গ করলো। কিন্তু অক্ষয় যেভাবে প্যাড পরে অভিনয় করে আকাশ ছুৃঁইলেন তা বর্ণনা করার মতো না।

সামাজিক ট্যাবু, অপমান, বিরোধিতা গ্রহণ আর উপেক্ষার পথ ধরে এগিয়েছে এ ছবি। ব্যর্থতা না থাকলে সৃষ্টিও হয়না। এ ছবি তারই প্রমাণ।

রমযান মাসে, একজন ছেলে যখন মেয়ে বন্ধুকে বলে, ” কী রে রোযা রেখেছিস? ” এটা বিব্রতকর নয়, বিকৃত আনন্দ। নারীকুল যে প্রতি মাসে যে বিষয়টি মোকাবিলা করে তা তাদের কাছে ঠাট্টার উপাদান। আশা করি প্যাড ম্যান মুভি দেখে মোটিভেশন নিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করবেন মাননীয় পুরুষ সমাজ।

এরকম বিষয় নিয়ে আর কোথাও মুভি নির্মিত হয়েছে কিনা জানিনা। অথচ ভারত বর্ষের মতো রক্ষণশীল দেশ এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুভি তৈরি করেছে, তা প্রশংসার দাবীদার। ট্যাবু ছেড়ে অনেক মহিলাই বের হয়েছেন। এটাই মুভির সাফল্য।

পাগলামিকে প্রচ্ছয় দিলে পুরো পৃথিবী পরিবর্তন  হয়। মুভিটি ভালো লাগার কারণ ” গুড থিংকিং। ” যা সমাজের জন্য ভালো। অনুপ্রেরণা মূলক। মুভিটি দেখে আমরা বিরক্তিবোধ করিনি, বরং মনের অতলে ঝিকমিক করেছে স্বচ্ছ হাসি। আর একটা কথা, পরিচালক এবং যারা অভিনয় করেছেন তারা ট্যাবু ভেঙ্গে জয়ী হয়েছেন। ইচ্ছা থাকলে ছোট ছোট  হাজার সমস্যাকে উপেক্ষা করে হাসা যায় সূ্র্যের হাসি। নানা সংস্কৃতি, ধর্ম বিশ্বাস ভেঙ্গে দিয়ে সমাজকে মেসেজ দিয়েছে এই এপিক মুভি।

” Padman is purely sworn statement of a man’s adventure. ”

imdb রেটিং : ৭.৯ / ১০…

লিংক দেয়া হলো।

 

★★ ছবিটির মুভি লিখতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন ইকরাম দাদা। আমি কখনোই একটা মুভি দেখে রিভিউ লিখিনা। এর জন্য বিস্তর পড়াশোনাও করি। আমি কৃতজ্ঞ তাঁর প্রতি যে সোনেলায় যতটুকু লিখি তা তাঁরই অনুপ্রেরণায়। শুভ কামনা আপনার জন্য।

৩৭৯জন ১জন
0 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য