মূল লেখায় যান

বেদনা

আকবর হোসেন রবিনএকান্ত অনুভূতি২৩টি মন্তব্য

নাসির উদ্দিন শাহ্ ও অনুরাধা প্যাটেল এর মধ্যে লিভ-টুগেদার সম্পর্ক চলছে, এমন সময় একদিন হুট করে নাসির উদ্দিন শাহ্-কে গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়।সেখানে ঘটনাচক্রে তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয় রেখার সাখে। সে রেখাকে বিয়ে করে নিয়ে আসে তার শহরের বাড়িতে। এরপর যা হওয়ার তাই হলো; অনুরাধা সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় রেখা নাসির উদ্দিন শাহ্ এর লিভ-টুগেদার সম্পর্কের কথা জানতে পারে।এখানেও যা হওয়ার তাই হলো; কয়দিন পর বিবাহিত যুগল অনুরাধার রেখে যাওয়া কিছু জিনিসপত্র তার কাছে পাঠিয়ে দেয়। সেগুলো পেয়ে অনুরাধা নাসির উদ্দিন শাহ্ এর কাছে একটা চিঠি দেয়; তাতে লেখা-

‘একশ ষোলা চাঁদ কি রাতে

এক তুমহারে কাঁধে কা তিল

গিলী মেহেন্দী কী খুশবু

 

সব ইয়াদ করা দো

সব ভিজবা দো

মেরা বো সামান লটা দো’

এতক্ষণ যে গল্পটা বলেছি তা ইজাজত সিনেমা থেকে নেওয়া। আর যে চিঠির কথা বললাম সেটা মূলত একটা গান। গানটি গুলজারের লেখা, আর ডি বর্মন এর কম্পোজ করা; কণ্ঠ দিয়েছে আশা ভোঁসলে। সিনেমারি এই অংশে পর্দার ভেতর বাহিরের দুই ত্রয়ী মিলে যে একটা আমেজ তৈরি করেছে তাতে মুহূর্তেই যেকারো কলিজায় মোচর লাগবে। আমারও লেগেছে। ঠিক এমন কলিজা মোচরানো ব্যাথার অনুভব করেছিলাম আসিফ আকবর এর গান শুনে।

‘এখনও মাঝে মাঝে

মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে

শুনি তোমার পা’য়ের আওয়াজ

যেন তুমি এসেছো ফিরে!’

আবার মান্না দে যখন করুন সুরে জানতে চাই, এখনো কি রাত নিঝুম হলে/ শরৎ কাহিনী পাশে খোলা পরে থাকে/ ব্যাকুল পিয়াসে আমারই পিয়াসে/ অন্তর কেঁদে মরে। কিংবা অঞ্জন দত্ত যখন টেনে টেনে বলে আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামে নি/ শুধু তুমি চলে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এই গান গুলো বুকের ভেতর একধরনের হাহাকার তোলে। জানি জমে থাকা যন্ত্রণাগুলো নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এমন অজস্র গান কবিতা আছে, কিন্তু আমি ভাবি কিছু মানুষের কথা। দীর্ঘদিন এক ছাদের তলে থাকার পর যারা চলে যায় কিংবা যাদের চলে যায়, তারা কিভাবে দিন কাটায়, এই গানগুলো শোনার সময় তাদের কেমন লাগে; এসব আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু অন্যের ব্যাথা জানা বা অনুভব করা তো সম্ভব না। অন্তত গ্যেটের কবিতা পড়লে তা বুঝা যায়।

 

‘অবসন্ন অবশেষে, বড় যন্ত্রণায়

নাড়ি কেটে যায়, হৃৎপিন্ড ফেটে যায়,

কী কষ্ট আমার সেটা জানে, যার যায়।’

মোট পড়েছেনঃ ১১০০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৩টি মন্তব্য

  1. এক ছাদের নিচে বসবাস করার পর চলে যাওয়া মানে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া।সুতা ছিঁড়ে গেলে আসলে মায়া বা খারাপলাগা থাকার কথা না।
    শুভ কামনা। ভালো থাকবেন।

  2. আপনার জানতে চাওয়ার আকাঙ্খা বুঝিয়ে দিলো, আপনিও অনুভব করেন ভালাবসাহীনতার কষ্ট। কেউ কেউ টিকে থাকে ভালবাসা ছাড়াই শুধু অভ্যাস বশে। ভালবাসা প্রয়োজন তা খুব ছোট হলেও তার ব্যাপ্তিটুকুও আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দেয়া যায় গোটা এক জীবন। শুভ কামনা।

  3. সেটাই কিভাবে এরা অতীতের চরম আবেগ গুলো সহজেই ভুলে যায়? যত ই ঘৃণা আসুক সম্পর্কে ! গানগুলো আমার খুব প্রিয় শুধুমাত্র এই কথাগুলোর জন্য বেশি প্রিয়। আপনার সাথে পুরোপুরি একমত। শুভ কামনা রইলো

    1. ছেড়ে যাওয়ার পরেও কখনো না কখনো অতীতের সুন্দর মুহূর্তগুলো ভেসে আসে, তখন তো নিশ্চয়ই মন কেঁদে কেঁদে ওঠে। মানুষ তখন কিভাবে যে থাকে!
      ধন্যবাদ আপু।

  4. গানের সাথে জীবনের একটা দারুণ অন্তমিল আছে। সেই স্মৃতি তখন মনে পরে যায়। স্মৃতির পাতা ধরে কিছুক্ষণ হেঁটে আসলে চোখের পানিও বাধা মানে না। তবুও বাঁচতে হয় জীবনের প্রয়োজনে। কেউ প্রকাশ করে, কেউ গুমরে মরে। এটাই পার্থক্য।

  5. আপনার উল্লেখিত সব গুলো গান আমারও প্রিয়
    গান গুলো হৃদয়ে অজস্র বেদনার গল্প মনে করে দিলেও অদ্ভুত এক ভালোলাগার আবেশে জড়িয়ে রাখে।

    ভালোবাসাহীনতায় কেউ কি করে বাঁচে
    চাও না চাও না গো তা জানতে
    এ জানা যে ধুঁকে ধুঁকে পোড়াবে
    নিজের ই অজান্তে

  6. জীবনের কিছু সম্পর্কের কিছু ছোঁয়া মনোজগতের সম্পদ হয়ে যায়।তখন তার স্মৃতিগুলো অনুভব করে কাটিয়ে দেয়া যায়।সেটা সোনালী কিংবা রুপালী আলোই হোক না কেন, থাকা এবং চলে যাওয়া দুটো দু’রকম হলেও অনুভূতির শক্তির কাছে একই পথ।
    পাশাপাশি এক ছাদের নীচে থেকেও কখনও কাছে থাকা হয়না যেমন, দূরে থেকেও কাছে থাকার অনুভূতি কাজ করে তেমন।
    প্রতিটি গান ই মন ছুঁয়ে যাওয়া। ভাল লাগলো। ভাল থাকবেন শুভ কামনা সব সময়।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?