মূল লেখায় যান

বিভার ‘নারী দিবস’

সুপর্ণা ফাল্গুনীএকান্ত অনুভূতি১৮টি মন্তব্য

সকালের রোদ তখনও কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেনি, এমনি এক আলোকময় ক্ষণে বিভার জন্ম। সবার চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার রূপের ঝলকে। বাবা-মায়ের অনেক সাধনার ধন এইমাত্র ধরিত্রীর বুকে অবস্থান নেয়া বিভা। বিভা এক পা হাঁটে দু’পা হাঁটে চারিদিকে শুধু আলোকরশ্মি ছড়িয়ে পড়ে।

 

কিন্তু বিভার জীবনের আলো একটু একটু করে নিভতে থাকে, জীবনের ভালো লাগা গুলো পরিণত হয় দূর্বিসহ যন্ত্রণায়। যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার বিভার জীবন । বিভা বের হতে চায় , হাসতে চায় কিন্তু অশুভ, শক্ত, নিষ্ঠুর করতলে চাপা পড়ে বিভার শৈশব, কৈশোর। বিভা নোংরা থাবায় বারবার কলুষিত হয়। চিৎকার করা কান্নাগুলো ঘরের বাইরে যেতে পারে না, হৃদয়ের গহীন অরণ্যে চাপা পড়ে, প্রতিফলিত হয় অন্ধকার হৃদয়-কুটিরে।

 

স্বপ্নের রঙীন পাখাগুলো একটি একটি ঝরে পড়ে অকালপ্রয়াত নোটিশে। এমন করেই বিভা হয়ে পড়ে স্বপ্নহীন, ধূসর বিবর্ণ মাতৃজঠরে। যেখানে কোনো নতুন আকার, রক্ত ধাবিত হয় না প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তারে। বিভারা এভাবেই উল্কাপিন্ডের মতো আলো ছড়িয়ে ঝরে পড়ে , হারিয়ে যায় কোনো গভীর খাদে যেখান থেকে আর ফেরা হয় না আকাশের চাঁদ, তারা হয়ে আলোর বাহক হবার।

 

‘নারী দিবসে’ নারীর মুক্তি আদৌ কি মিলেছে?? বিভারা জন্মায় মাংসপিন্ডের দলা নিয়ে, রাতের আঁধারে অন্ধ কুঠিরে শাহী খাদ্যভান্ডারে রূপান্তরিত হতে। নারীর মুক্তি নেই, মহাকাশে যতই নক্ষত্রের আলোক উৎসব পালন করো –

“বিভা-রা চিরবন্দী ঘরে-বাহিরে।”

 

ছবি-গুগল

মোট পড়েছেনঃ ৮৯৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

১৮টি মন্তব্য

  1. কেউ বলে নারী একটি ফুলের মতো, সুবাসে মাতোয়ারা হবে ধরণী,
    কারো কাছে নারী এক বহতা নদী, শ্রান্তিহীন, অক্লান্ত হয়ে কেবলই ছুটে চলবে,
    আবার কারো কাছে নারী একটি জলন্ত প্রদীপ, নিজেকে পুড়িয়ে আলোকিত রাখবে চারিদিক,
    বিশ্বের যত অন্তহীন চাওয়া প্রত্যাশা, কামনা-বাসনার আধার হিসেবে মানুষ নারীকেই বেছে নেয়। নারী সে যেন কেবলই এক নারী। মেয়েলোক, মেয়ে মানুষ, কখনো ফুল, কখনো নদী কখনো বিভা অথবা অরুন্ধতী! কিন্তু পরিচয় শুধু নারীতেই আটকে থাকে।
    মানুষ হিসেবে বিভাদের মুক্তি মিলে না।
    এমন লেখায় আরও অনেক কিছু বলা যেত, কিন্তু ইচ্ছে করছে না। ভালো থাকুন, নারী দিবসের শুভেচ্ছা আপনাকে।

  2. হৃদয়ের আগুনই মুক্তির পথ দেখায়
    তাইতো আজ নারী পুরুষ সমান তালে চলছে ঘরে বাহিরে।
    অনেক সুন্দর লেখায় মুগ্ধতা একরাশ।
    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানবেন নিরন্তর।

  3. এখন আমাদের উচিত সময়োপযোগী, আত্মবিশ্বাসী স্বাধীনচেতা মানবী তৈরি করা। যে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সমাজকে বোঝাবে। পরিবারকে বোঝাবে। বাধা তো আসবে। তবুও এগিয়ে যেতে হবে।
    শুভকামনা।

  4. একদিন সুদিন আসবে সেই প্রত্যাশা রাখি আজকের নারী দিবসে।
    বিভারা ইচ্ছে মতো ইচ্ছে গুলো পূরণ করবে।
    খুব সত্যি বিভার ইতিবৃত্ত।
    সব বিভাদের জন্য শুভকামনা অবিরত

  5. পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের মুক্তি দিতে আমরা পারিনি। নারীরা আজও ভোগ্য পণ্য হিসেবে বিবেচিত। এই অবস্থার উত্তরণ দরকার যা শুধুমাত্র মানসিকতা পরিবর্তনেই সম্ভব।

    নারী দিবসের শুভেচ্ছা দিদি ভাই। শুভকামনা রইলো।

    1. দিন তো বদলেছে সবার জন্যই কিন্তু মনমানসিকতা, ধ্যান ধারণা এখনো আগের মতই আছে নারীদের প্রতি। নারীরা এখন আরো বেশি ধর্ষিত, নিপীড়িত হচ্ছে ঘরে-বাইরে সমান তালে। কাজের ক্ষেত্র গুলো যেন আরো বিভীষিকাময়, শিশুরা ঘরে থেকে ও নিরাপদ নয় পুরুষের কাছে। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা অবিরাম

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?