মূল লেখায় যান

বাতাসে লাশের গন্ধ – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

বিষফোঁড়াএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৩০টি মন্তব্য

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
 
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা – একি তবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?
জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন।

বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ –
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
বাতাসে লাসের গন্ধ
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা…

রক্তের কাফনে মোড়া – কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার – স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন –
স্বাধীনতা – আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

 

মোট পড়েছেনঃ ৫১২৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. আমার শৈশব স্মৃতি অনেকটা জড়িয়ে আছে রুদ্র দা’দের পরিবারের সাথে, রুদ্র দা’র ছোট ভাই হিমেল বরকত আমার খুব ভালো বন্ধু, হিমেল এখন জাহাঙ্গীগরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলার সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত, একসাথে কতো আড্ডা, কতো স্মৃতি, সব যেন আবারও রঙিন হয়ে উঠলো। ধন্যবাদ আবিদ রোজীনা।

  2. সেই কলেজ জীবন থেকে এই প্রিয় কবির কবিতার সাথে পরিচয়।
    আজ আপনার পোষ্টের দ্বারা আরো তাজা হয়ে উঠল সেই সব বিবর্ণ সময়ের স্মৃতিগুলো। কিছুক্ষণ নস্টালজিয়ায় ভোগালো।
    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এমন একটি পোষ্টের জন্য।
    শুভসকাল। -{@