মূল লেখায় যান

পঙ্গপাল গুজবে আতঙ্কিত কৃষক

মাহবুবুল আলমসমসাময়িক৩০টি মন্তব্য

মাহবুবুল আলম।।

বাংলাদেশ যেন দিনে দিনে গুজবের দেশে পরিনত হচ্ছে। অার ফেসবুকের কল্যাণে এর ডালপালা বিস্তার করে প্রতিনিয়ত মানুষকে
বিভ্রান্তির চক্করে ফেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি ফেসবুকে
গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে কক্সবাজারের টেকনাফে
পঙ্গপালের আক্রমন শুরু হয়েছে। টেকনাফের লম্বরী গ্রামের একটি বাড়ির আম গাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের শাখা-প্রশাখায় সম্প্রতি দেখা মিলে এক ধরনের এ পোকা। পোকাগুলো গাছের পাতা সম্পূর্ণ রূপে খেয়ে ফেলছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে
হৈচৈ পড়ে যায়। কৃষি বিভাগও নড়ে চড়ে বসে।

এই গুজবে কান দিয়ে দেশের কৃষক ও কৃষি খামারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষি মন্ত্রনালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা
দ্রুত কক্সবাজার ছুটে যান। এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর জানান যে-কক্সবাজারের টেকনাফের লম্বরী গ্রামে গাছে যে পোকাগুলো বসছে এবং গাছের ক্ষতি করছে, সেই আলোচি পোকা পঙ্গপাল নয়। এটি তেমন ক্ষতিকর পোকাও নয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করা যাচ্ছে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাসফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়।

পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন। অতিসম্প্রতি ঘাসফড়িং সদৃশ এসব পোকা আবারও দেখা দিলে কৃষি মন্ত্রণালয় এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

মন্ত্রণালয় বলছে, শুক্রবার (০১ মে) সকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকেও পৃথক টিম রওনা দিচ্ছে। ঘাসফড়িং সদৃশ লোকাস্ট গোত্রের স্থানীয় এ পোকার শনাক্তকরণসহ আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসে এ টিম কাজ করবে।

জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও-এর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আহমেদ আকজায়েজ টেকনাফে ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে বলেন, এ পোকা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি পঙ্গপাল নয়, কীটনাশক স্প্রে করার পর এদের বেশির ভাগই মারা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এসব পোকা দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেষ করছি এই বলেই যে, সব সময়ই দেখা গেছে
দেশবিরোধী এবং দেশের অগ্রগতি যাদের পছন্দ
নয় এমন গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক
সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর দেশের একশ্রেণির শিক্ষিত
মানুষও জেনে বা না জেনে ফেসবুকে ছড়িয়ে
দিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে।
একেতো মানুষ করোনার ভয়ে আতঙ্কিত ও শঙ্কিত
তার ওপর একের পর এক গুজব ছড়িয়ে জনজীবনকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলছে যা মানুষের
মনোজগতে বেশ প্রভাব ফেলছে।

মোট পড়েছেনঃ ১২২৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. যারা ফেসবুকে মন্তব্য করেন বেশীরভাগই তারা ভিতরের খবর না পড়েই হুজুগে মাতেন। রাজনীতি, ধর্ম, ব্যক্তিগত আক্রমণ টাই এদের মূল উদ্দেশ্য। অনলাইন পোর্টাল গুলো র দোষ দিবো বেশী তারা চার্ম বাড়াতে খবরগুলো নিজের মাধুরী মিশিয়ে লেখেন। আসল খবরের ধারেও থাকেনা বেশীরভাগ খবর। পঙ্গপাল নিয়ে আপনার তথ্যপূর্ণ পোষ্ট আমাদের কে ভুল ধারণা থেকে মুক্তি দিবে। ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভ কামনা রইলো

  2. সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বর্তমানে আজগুবি গুজবে নাজেহাল জীবন যাপন করছি আমরা। এখন সঠিক খবর খুঁজে বের করাই মুস্কিল হয়ে পড়েছে। একদিকে খবর প্রচার হলো, তো আরেকদিকে শুরু হয়ে যায় এর বিকৃতি। পঙ্গপালের ব্যাপারে আমার প্রশ্ন হলো, কৃষকরা কি এখন পোকামাকড়ও ঠিকমতো চিনতে পারছে না! বিশেষ করে যারা বংশ পরম্পরায় কৃষির সাথে জড়িত তাদেরতো প্রায় সব ধরনের পোকামাকড় সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকার কথা! তারা কেন আতঙ্ককিত হলো? গুজব তখনই বিস্তার লাভ করে, যখন নির্দিষ্ট জিনিস-বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছু সঠিকভাবে জানা না থাকে। এক শ্রেণীর ঘাসফড়িং এর পাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সেই অবস্থাকে পঙ্গপাল হামলার সাথে কেমন করে তুলনা করা সম্ভব!

    1. ম্যাডাম! পঙ্গপালের সাথে কৃষক দূরে থাক অনেক শিক্ষিত লোকও পরিচিত নয়! এটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বেশির ভাগ আক্রমণ করে থাকে। তবে এবার ভারতে যা হয়েছে তা গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায়ই হয়েছে। পাকিস্তানেও আক্রমন হয়েছে। আর পাকিস্তানের ভূপ্রকৃতির কথা আমরা মোটামুটি জানি। তাই বলে আমাদের এখানে যে আক্রমন
      হবেনা তাতো বলা যায় না।
      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
      বাবু সোনাদের জন্য আদর। সাবধানে থাকবে।

  3. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহুল পোস্টের জন্য অবশ্যই অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
    আসলে আমরা আর কিছু পারি বা না পারি
    আজগুবি গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে ওস্তাদ। আসল ঘটনা কি ঘটলো সেটা না জেনেই ঘটনার বিকৃতি করে বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছি। এ যেনো মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

    চমৎকার উপস্থাপন

  4. ওয়াও ! কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেবো
    সমসাময়িক লেখায় আপনার মতামত তুলে ধরার জন্য।

    অবাক পৃথিবী, আজব ব্যাপার
    গুজবে ভাষছে দেশ
    মানুষ যখন বিপদে পরে
    ওরা করে যায় মিথ্যার বেসাতি
    করে যায় উপহাস।
    ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  5. ফেইসবুক হচ্ছে গুজবের কারখানা, ওখানে গুজব তৈরি হয়।

    আজ চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের একটা অনুষ্ঠান দেখলাম। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার একজন কর্মকর্তার ভিডিও সাক্ষাৎক্ষার ছিলো, তিনি বলেছেন এটি পঙ্গপাল নয়।

    এমন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ভাই।
    শুভ কামনা।

    1. জিসান ভাই! “ফেইসবুক হচ্ছে গুজবের কারখানা, ওখানে গুজব তৈরি হয়।”
      একদম খাঁটি কথা। তারপও ফেসবুক বাদ দিতে পারছি না।
      ধন্যবাদ। ভাল থাকবে।

  6. যাক সত্যটা জেনে মনে শান্তি পেলাম ভাইয়া। মানুষ তো রিতিমত হৈচৈ শুরু করে দিয়েছিল। খুব ভালো লেগেছে সতটা জেনে। এসব গুজবের কারণেই দেশের আজ এবস্থা। ধন্যবাদ ভাইয়া, ভালো থাকবেন।

  7. করোনাকালে গুজবে কান দিলেই বিপদ, পঙ্গপালের নামে নিরীহ ঘাসফড়িংকে নিয়ে গুজবে কান না দেওয়াটাই সমীচীন।
    খুব ভালো পোস্ট দিলেন ভাই, এই জন্য অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।