মূল লেখায় যান

নিমন্ত্রণ

সাখাওয়াত হোসেনএকান্ত অনুভূতি১৭টি মন্তব্য

আমাগো বাংলাদেশে এমন কেউ আছে কইয়া আমার মনে নাই যে শাপলা চিনে না।  হারাবিশ্বে প্রায় আশি হান জাতের শাপলা দেহা যায়,  তার মধ্যে সাদা রংয়ের শাপলা অইলো আমাগো জাতীয় ফুল। সাদা অইলো পবিত্রতার চিহ্ন। তাই সাদা  শাপলাই জাতীয় ফুল হওয়া উচিৎ  অইছে। এই শাপলা ফুল আমাগো দেশের খালে-বিলে অহরহ ফোইট্টা থাহে।

বর্ষাকালে আগে আমাগো  বাড়ির সামনে কুমে মেলা ফোটতো।  তহন কুম মেলা ক্ষাই আছিলো,  অনেক পানি থাকতো, লগি ঠাঁই  পাইতো না। কেড়াই নাও, গয়নার নৌকা চলতো আর নৌকা বাইচ অইতো। আমরা বন্ধুরা সবাই মিল্লা হলডুগানি খেলতাম আর নৌকা বাইচ দেকতাম।  অনেক  মজা অইতো।

ডুবাইয়া শাপলা আর শালুক তুলতাম। শাপলার ডাঁটা ভাজি আর শালুক পুড়া এতই স্বাদ আছিলো যে আমরা রসুই ঘরেই খাওয়া শুরু কইরা দিতাম। শাপলার ভাটের খৈ আর মুয়া খাইলে হারাদিনে  আর খাওয়ার কতা মনে অইতো না।

আমাগো কুমের পানি মেলা টলটলে। যহন চান্দের মনভরা জোছনার মায়াবী আলো কুমের পানিতে চুমু খায় তহন ঝলমল কইরা পানি ঝিলিক পারতে থাহে, মনে অইতো পুরা কুম খিলখিল কইরা হাসতাছে। এই হাসির  মনকাড়া দৃশ্য কোনদিন ভুলবার না।

তয়, এহন মাটি ভরাট করে কুমের সৌন্দর্য আর রূপকে আরো মায়বী ও জাদুকরী করা অইছে। কুমের চার পাড় নানা জাতের বাহারি সবুজ গাছে ঘেরা। গাছে সারাদিন পাখি কিচমিচ করতেই থাহে। কুম যেন রূপের সিংহাসন নিয়ে বসে আছে। প্রকৃতি কুমকে সাজাতে গিয়ে কোনো কিছুর কমতি রাহে নাই।

তাইতো, প্রতিদিন দূরদূরান্ত  থাইকা মেলা মানুষ মুগ্ধ হয়ে মন জুড়ানো কুমের অপরূপ সৌন্দর্য্যকে একনজর  দেকতে আসে।

আপনারা যারা এখনো এই মনোরম চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেকতে ফুরসত পাননাই তারা চোখ ও মনের প্রশান্তির জন্য একটিবার ঘুরে যাবেন। আপনাদের সবার কাছে আদর ভরা নিমন্ত্রণ রইলো।

মোট পড়েছেনঃ ১০৭৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৭টি মন্তব্য

  1. সুন্দর কথণ আর চিত্রণ প্রিয় কবি।
    মনে ভরে গেলো প্রকৃতির ছোঁয়ায়।
    এ যেন আমার হারানো দিনের স্মৃতি, নিমন্ত্রণ ভুলবো কেমনে।
    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রেখে গেলাম অন্তহীণ।

  2. সুন্দর বর্ণনা । “আপনারা যারা এখনো এই মনোরম চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেকতে ফুরসত পাননাই তারা চোখ ও মনের প্রশান্তির জন্য একটিবার ঘুরে যাবেন। আপনাদের সবার কাছে আদর ভরা নিমন্ত্রন রইলো”।– সবিনয়ে নিমন্ত্রণ গৃহীত হল।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।