মূল লেখায় যান

তেঁতুল : পর্ব ১ [হাফ সেঞ্চুরী পোষ্ট]

সোনেলা রোদ্দুরঅন্যান্য, পরিবেশ, ভ্রমণ৫২টি মন্তব্য


অনেক দিন থেকেই ভাবছি তেঁতুল নিয়ে কিছু লিখবো। ভাবনাটি এত বিশাল যে, এই লেখা কয়েক পর্বে হতে পারে। আবার এক পর্বেই ভাবনার মৃত্যু ঘটতে পারে। পাবলিক ডিমান্ড বলে কথা। তেঁতুলের এই ছবি দেখে কতটা লোল পাবলিকের জিহ্বার নীচে জমা হলো এবং সেই লোল কে কতটা বাইরে ফেলে দিলো তার উপর নির্ভর করবে পর্ব কতটি হবে। ‘ লোল কম লেখা কম ‘ এই হচ্ছে সুত্র।

কোথা হতে এলো এই তেঁতুল ? তেঁতুলের আদি নিবাস আফ্রিকার সাভানা অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়া। ধারণা করা হয় সুদান থেকেই তেঁতুল বাংলাদেশের মাটিতে এসেছে।

পরিচিতিঃ তেঁতুল সুবৃহৎ ও সুদৃশ্য চিরসবুজ বৃক্ষ। গাছ প্রায় ২৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ফুলের রং হালকা বাদামী বা হলুদ, ফুলে লালচে দাগ থাকে। পরাগায়ন ঘটে মূলত পতঙ্গ দ্বারা। ফল ১৫-২০ সে. মি লম্বা হয়।

ব্যবহারঃ তেঁতুলগাছের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস (কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা—সবকিছুই ব্যবহার হয়ে থাকে।

যেসব কথা না জানলেও চলে যেমন, বৈজ্ঞানিক নামঃ Tamarindus indica. বাংলা নামঃ তেঁতুল,
ইংরেজি নামঃ Tamarind tree. আদিবাসি নামঃ তাতু (রাখাইন), মেক্কেসি (খুমি), তিন্তিলি ফাং (গারো), হাও মং (মারমা), তন্থরি (বম), খেন- থিরি (গারো) ।

বাংলাদেশেই আছে পাঁচশত বছরের প্রাচীন তেঁতুল গাছঃ

চাপাই নবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের সুরলা গ্রামে এই প্রাচীন তেঁতুল গাছটি আছে। প্রায় দশ কাঠা জমিতে ছড়িয়ে আছে এই গাছটি। এর উচ্চতা প্রায় দেড় হতে পৌনে দু’শ ফুট। কেউ সঠিকভাবে এই গাছের বয়স বলতে পারেন না, তবে অভিজ্ঞ মহলের মতে কমপক্ষে ৫০০ বছর বয়স হবে এ গাছের। গাছটির মূল কাণ্ড বহু আগেই ভেঙে পড়েছে। গাছটির গোড়া ইট সিমেন্টের গাঁথুনি দিয়ে বেধে দেয়া হয়েছে।
সরকারী ভাবেই এই গাছটি সংরক্ষা করা হচ্ছে। গাছটির কাছা কাছি একটি সাইন বোর্ড লাগানো আছে, যাতে বলা হয়েছে এর কোন ক্ষতি সাধন করা যাবেনা। গাছে আশ্রিত কোন পাখির প্রতি ঢিল নিক্ষেপ করা যাবেন, কোন পাখি ধরা নিষেধ এখানে। স্থানটি পক্ষিকুলের অভয়াশ্রম হিসেবেও পরিচিত। এখনো গাছটিতে তেঁতুল হয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গাছের নিচে পূজা অর্চনা করে থাকেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ বর্তমানে এ গাছটি দেখতে আসেন।

গাছটিতে প্রচুর বক বসবাস করে। পাখির অভয়াশ্রম হওয়ায় বক স্বামী স্ত্রীরা নির্ভয়ে তাদের সংসার জীবন যাপন করে। এই প্রাচীন তেঁতুল গাছ এবং বক নিয়ে ভিডিও দেখুন এখানে ক্লীক করে।

যেভাবে এখন তেঁতুলের ভাবনা আমার মাঝে আছে, তা বজায় থাকলে জাতির সামনে  একজন তেঁতুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে লীলাবতী আবির্ভূত হবে এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই ।

প্রিয় পাঠক, পরবর্তী পর্বে যাবার পূর্বে  কয়েকদিনের জন্য ব্রেক। সাথেই থাকুন।

মোট পড়েছেনঃ ৩৩৬৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৫২টি মন্তব্য

  1. আপু পোষ্টের শুরুতে তেঁতুলের ছবি না দিলেও পারতেন। মুখ ভরে গিয়েছে। এখন কোথায় পাবো তেঁতুল ? ৫০০ বছরের প্রাচীন তেঁতুল গাছ !! এই প্রথম শুনলাম। আপনি প্রচুর পড়াশুনা করেন বুঝতে পারলাম। আপনি যে একজন তেঁতুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে আবিভুর্ত হবেন এ বিষয়ে ামার কোন সন্দেহ  নেই । ব্রেক বেশি দিন চাইনা কিন্তু।

  2. আমরা একজন তেঁতুল বিশেষজ্ঞ পেয়ে গেছি ভাবতেই কোথায় যেন জল জল ভাব এসে যাচ্ছে।
    ভালই হলো বকদের অভয়ারণ্য হয়ে। ভাগ্য ভাল বক ধার্মিকদের অরণ্য হয়নি।
    অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

  3. লোল কম লেখা কম? হা হা হা হাসতে হাসতে শেষ আমি… কই পান এতো মজার কথা। আমার লোল বেশি পরছে। ছবিতে হামলা করার চেস্টাও চালাইছি। কত বছর যে খাইনা।

    তেঁতুল বিশেষজ্ঞ শুনে যেন কেউ আবার অন্য কিছু না ভাবে? 😛

    ভিডিও টি দেখলাম, কত্তো বক !!! এমন সুন্দর সংরক্ষনের জন্য সরকার এগিয়ে এসেছে এটা নিশ্চিত ভালো একটা খবর।

    অপেক্ষা কিন্তু বেশি করতে পারবনা, জলদি পরের পর্ব দিন তেতুল বিশেষজ্ঞ, ওরফে ভত্তা বউ, ওরফে ঢঙ্গি। 🙂

    1. আপনার লোল বেশি পরেছে জেনে আনন্দিত আমি। লেখায় তো আপনার ধারেকাছেও যেতে পারবোনা। হাহুতাশ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন আপনি। মনে আছে। বলা যায় আপনার কাছে শিখছি। তেঁতুল বিশেষজ্ঞ পার্ট ও আসবে 🙂 বেশি অপেক্ষা করতে হবেনা।

  4. তেঁতুল বিষয়ে একটা থিসিস করলেও পারতেন
    কত ডক্টরেট ডিগ্রীধারী এখন পথে ঘাটে
    ড: লীলাবতী শুনতে কিন্তু ভালোই লাগবে।

    প্রাচীন গাছটি সম্পর্কে এই প্রথম জানলাম,
    কখনো নাচোল গেলে অবশ্যই দেখে আসবো।
    এমন পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

     

  5. সত্যি বলতে তেঁতুল আমি একেবারেই খেতে পারি না, তবে দেখলেই খেতে মন চায়, যেমন এখন ছবি দেখে মন চাচ্ছে তেঁতুল খেতে….

    আপনেকে অনেক ধন্যবাদ শতবর্ষী এই তেঁতুল গাছ দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য…

     

  6. তেঁতুলিয়া বাজারে একটা বিশাল তেঁতুল গাছ আছে দেখে ছিলাম আমি।

    বিশাল তেঁতুল গাছ দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

    আমাদের বাড্ডাতেও প্রাচীন এক তেঁতুল গাছ আছে। আমাদের বাজার এরিয়া সেটা- নাম তেঁতুল তলা। গাছটা এখনো আছে, তবে প্রতি বছর ডালপালা কাটার কারণে গাছটাকে ছোট দেখায়। কয়েক বছর আগেও তার আকার বিশাল ছিলো।

  7. তেঁতুল বলেও শুরু করলে গল্পটা তেঁতুল গাছ আর তাকে নিয়ে ঘিরে উঠা সমাজ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সাথে পাখিদের অভয়ারণ্যকে নিয়ে লিখে ফেললেন। তেঁতুল গাছের বিভিন্ন নামও সংগ্রহ করেছেন। ভালোই হল, নিত্য সব নতুন জিনিষের সাথে পরিচয় ঘটছে।

    তবে এখনো তেঁতুল কে উপস্থাপন করেন নি, তার গুণাগুণ আর আকর্ষণ শক্তি সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। দ্রুত সেগুলি নিয়ে আবার লিখুন।

    শুভ কামনা জানবেন।

     

  8. হাফ সেঞ্চুরী পোষ্টের জন্য অভিন্দন। হাফ সেঞ্চুরী পোষ্টে লোলময় হলে ফুল সেঞ্চুরীতে কি হবে ভাবতেই আছি। প্রাচীন গাছটি সম্পর্কে জানলাম।

  9. অর্ধ শতকের জন্য অভিনন্দন ব্লগার লীলাবতী। তেতুল পোস্ট ভালো হয়েছে। যদিও তেতুল আমার খুব একটা পছন্দের জিনিস না। 😛
    সোনেলা ব্লগের প্রতি আপনার ভালোবাসা আর ডেডিকেশন দেখে আমি মুগ্ধ। আপনি আপনার মত লিখতে থাকুন। পাশেই আছি। শুভকামনা।
    সোনেলায় এটা আমার প্রথম কমেন্ট!!!

    1. আমি ধন্য হয়ে গেলাম ভাইয়া। সোনেলায় আপনি প্রথম মন্তব্য করলেন আমার পোষ্টে। প্রথম থেকে আছি এখানে, একটা মায়া জন্ম নিয়েছে। মনে হয় সোনেলা আমার সন্তান। ধন্যবাদ ভাইয়া -{@

  10. ভাল ব্যাটসম্যান রা ফিফটি করলে দলের বাকিরা তাঁকে অভিনন্দন জানায় । আমি ও আপনাকে অভিনন্দন জানালাম । তবে ক্রিজের অপর প্রান্তে আমিও আছি কিন্তু , একদম অখ্যাত বা কুখ্যাত যাই বলেন না কেন । হয়ত কিছু দিনের মধ্যেই সেঞ্চুরি করব । আরেকটা কথা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন । আপনার কাছে কিন্তু একটা খাওয়া দাওয়া পাওনা থাকল । ভাল থাকবেন ।

  11. হাফ সেঞ্চুরী করে ফেললেন নাকি!!!! মিস্টির পরিবর্তে তেতুল অবশ্য মন্দনা। সহকারী ব্যাটসম্যান দের কাধে কাঁধ মিলিয়ে ( রান আউট না করিয়ে দিয়ে) সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে চলুন। অভিনন্দন আপনাকে।

    1. আপনাকেও আসল তেঁতুলিয় শুভেচ্ছা -{@ তেঁতুল বাবা কোথায় আছেন,কেমন আছেন তা অবশ্য জানি না :p

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।