মূল লেখায় যান

তাদেরই রক্তে স্বাধীন স্বদেশে মাথা উচুঁ করে হাঁটি

নওশিন মিশুমুক্তিযুদ্ধ৫৩টি মন্তব্য


১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের  তেজী মুক্তিযোদ্ধা আজাদকে পাকিস্তানী সেনারা ধরে নিয়ে গিয়ে রাখে রমনা থানায়। আজাদের মা ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বলেন বলেন, “শক্ত হয়ে থেকো বাবা। কোন কিছু স্বীকার করবে না।” প্রতিজ্ঞা করে আজাদ মায়ের কাছে । আজাদ তখন মার কাছে ভাত খেতে চায়। মা ভাত নিয়ে এসে ছেলেকে আর পায়নি। আর কোনদিন ও মায়ের বুকে ফিরে আসেনি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আজাদ।

১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন আজাদের মা। ঠিক ৩০ আগস্টেই মারা যান তিনি। পুরো ১৪বছর ভাত মুখে তুলেন নি। কেবল একবেলা রুটি খেয়ে থেকেছেন। কারণ তার একমাত্র ছেলে আজাদ ভাত চেয়েও খেতে পারেনি সেদিন।

১৪বছর তিনি কোন বিছানায় শোন নি। মেঝেতে শুয়েছেন, শীত গ্রীষ্ম কোন কিছুতেই তিনি পাল্টাননি তার এই পাষাণ শয্যা। কারণ তার ছেলে নাখালপাড়া ড্রাম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এম.পি হোস্টেলের মিলিটারি টর্চার সেলে বিছানা পায়নি।
এইত এক তেজী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদ এবং তার দুঃখিনী মায়ের  ইতিহাস।

শহীদ আজাদ আর ২৯,৩০,৩১ অগাস্ট ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে যারা নিখোঁজ হয়েছেন তাদের জন্য উৎসর্গ করে Obscure এর গান – “আজাদ”
পারছিনা আর সইতে মাগো, আমি এ যন্ত্রনা
মন চাইছে ঠিক বলে দেই মুক্তির আস্তানা
আঙ্গুলগুলো অবোস ভিষণ, একটিও নেই নখ
হয়তো আজই টর্চার সেলে তুলেই নেবে চোখ
স্বাধীন হল বাংলা তবু মায়ের চোখে জল
কোথায় আমার আজাদ তোরা কেউতো এসে বল
জ্বলছে আগুন বুকে নিয়ে স্বাধীতার সাধ
ফিরেছিস যারা বীরের বেশে তোরাই তো আজাদ।।

পারছিনা আর সইতে মাগো বিষ কি কোথাও নাই?
মুক্তির খোঁজ কি করে দেই, ওরা…ও আমার ভাই
তোমার মাখানো ভাতের সে স্বাদ এখনো ভুলিনি মাগো
ভাতের থালা সামনে নিয়ে এখনো কি রাত জাগো?

এই ছিল মোর জাদুধনের মুখের শেষ বুলি
খুঁজে পাইনি আজো তারে, কোখায় দিয়েছে বলী?
পেরিয়ে গিয়েছে কত…. অশ্রুতে গাঁথা রাত
আমি সেই মা আজো বেঁচে আছি, হারিয়ে গেছে আজাদ।।

ঘুমহারা চোখে কত না রাত, কাটিয়েছি তোর শোকে
লাল-সবুজের সাজানো দেশ, তবুও এঁকেছি বুকে
কত আজাদের ভিরে গর্বিত এই মাটি
তাদেরই রক্তে স্বাধীন স্বদেশে মাথা উচুঁ করে হাঁটি
স্বাধীন হল বাংলা তবু মায়ের চোখে জল
কোথায় আমার আজাদ তোরা কেউতো এসে বল
জ্বলছে আগুন বুকে নিয়ে স্বাধীতার সাধ
ফিরেছিস যারা বীরের বেশে তোরাই তো আজাদ।

পারতেই হবে সইতে মাগো, যত দিক যন্ত্রনা
কিছুতেই আমি জানতে দেবনা মুক্তির আস্তানা
আঙ্গুলগুলো অবোস ভিষণ, একটিও নেই নখ
হয়তো আজই টর্চার সেলে তুলেই নেবে চোখ
স্বাধীন হল বাংলা তবু মায়ের চোখে জল
কোথায় আমার আজাদ তোরা কেউ তো এসে বল
জ্বলছে আগুন বুকে নিয়ে স্বাধীতার সাধ
ফিরেছিস যারা বীরের বেশে তোরাই তো আজাদ।।

এখানে শুনুন/ডাউনলোড করুন   mp3

ইউটিউব লিংক

মোট পড়েছেনঃ ১১৩৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৫৩টি মন্তব্য

  1. ভালো লাগলো পোস্টটির জন্য, খুব কাছ থেকে Obscure-এর “আজাদ” গানটির জন্ম হতে দেখেছি কাছ থেকে। Obscure ব্যান্ড-এর ভোকাল টিপু ভাই আর তাঁর স্ত্রী শাওন মাহমুদের (শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের কন্যা) অক্লান্ত পরিশ্রম নিজ চোখে দেখেছি।

  2. আনিসুল হকের “মা” বই পড়ে চোখে পানি আসবেই। এ সেই আজাদ আর এক মা এর গল্প। গানটা শুনতেই চোখ ছলছল করে উঠলো। এটা আজ প্রথম শুনলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ারের জন্য।

  3. নেট স্লোএর কারণে গানটি শুনতে পারিনি এখনো, তবে শুনে নেবো। শহীদ আজাদ সহ সকল শহীদদের এর প্রতি রইলো অগাধ শ্রদ্ধা। ধন্যবাদ এমন পোষ্টের জন্য।

  4. পৃথিবীর ইতিহাসে এ এক বেদনা কর অধ্যায়।এমন তথ্যপূর্ণ লেখা সোনেলার সবাইকে এই মাসে অনন্ত একটি করে হলেও লেখা উচিত তাতে অজানা অনেক কিছুই জানা যাবে।আর আমাদের মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে।ধন্যবাদ।

  5. বোকা মুক্তিযোদ্ধারা কেবল দেশকে ভালবেসে ছিলেন । চতুর রাজনৈতিক রা একে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে ।

    মাথা হেট করে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আজ আর আমাদের কিছুই করার নেই !!!!!

    হে বাংলার সূর্য সন্তান রা তোমরা শিখিয়েছ কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয় । আমরা পারিনি আজও তোমাদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে ।

    ক্ষমা করো এই অকৃতজ্ঞ দের । ।

  6. ভালো লিখেছেন নওশিন মিশু।
    আপনার কাছে থেকে আরো লেখা চাই।

    বাঙলা মায়ের চেতনা আপনার চারপাশটাকে ঘিরে থাকুক পরম মমতায় আর দ্রোহের প্রেরণায়।

    দারুন একটা পোষ্টকে স্টিকি করার জন্য ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

  7. আনিসুল হকের “মা” উপন্যাসটি যখন পড়েছিলাম এত বিমোহিত হয়ে গেছিলাম!! একজন শহীদ জননীর আত্মত্যাগের কথা জেনে!!
    আর “৭১ এর দিনগুলি” বইটির মধ্য দিয়ে আম্মা জাহানারা ইমাম তো আমাদের চিনিয়ে গেছেন একদল স্বাপ্নিক কে “রুমি,বদি,আজাদ,জুয়েল”।
    রুমিদের সেই স্বপ্ন আমরা কতটা ধারন করতে পেরেছি জানি না।শুধু জানি বড্ড ঋণী আমরা ওদের কাছে, শহীদ জননীদের কাছে।

    স্যালুট ৭১ এর সেইসব দীপ্তময় তরুন ও তাদের অতুলনীয় মায়েদের।

  8. মা ছেলে শিক্ষা দেন , কোন কিছু যেন প্রকাশ না করে
    নির্যাতনে আজাদ মৃত্যুকেই বরন করে নেন।
    মা ১৪ বছর ভাত খাননি
    ঘুমিয়েছেন মেঝেতে।

    কত বীরদের আত্ম ত্যাগে আমরা আজ স্বাধীন
    কত মায়ের চোখের পানিতে আমরা আজ স্বাধীন।

    গান সহ সংক্ষেপে এই ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  9. ভোরে জেগেই পড়েছি এই পোষ্ট। এমন সন্তান আর মায়েদের জন্যই আমরা এই দেশটি পেয়েছি। দুজনকেই শ্রদ্ধা জানাই। গানটি শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ধন্যবাদ আপনাকে এমন পোষ্টের জন্য।

  10. ছেলেবেলা থেকে আপনার ইতিহাস, রাজনিতীর প্রতি গভীরতা প্রচুর ।
    যা আমার উপলব্ধি হল !

    কিন্তু বরাবর ই এসব ব্যাপারে উদাসীন !!

    মনেরটা বাহিরে প্রকাশ করি না ।।।

    ভাবতেছি ইতিহাস বা রাজনৈতিক কিছু লিখব …

    তবে কিছু মৌনতার ভাবাবেগ থেকে যাবে !!!

    যদি পরিপূর্ণতা আনতে পারি আপনাকে উৎসর্গ করব ,, কেমন ?? 🙂

  11. সঞ্জয় কুমার ঠিক বলেছেন “মাথা হেট করে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আজ আর আমাদের কিছুই করার নেই !!”
    নওশিন মিশু, অনেক ধন্যবাদ আপনার এই পোষ্টের জন্য।
    একজন মা তাঁর নিজের থেকেও সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। মা আর সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু দেশমাতৃকার প্রয়োজনে মা তাঁর সন্তানকেও বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি। প্রতিজ্ঞা করিয়েছেন যত বাধাঁই আসুক না কেনো সে যেনো কিছুতেই মুক্তির আস্তানা না বলে। মায়েদের এই আত্মত্যাগ, সন্তাদের টর্চার সেলে নির্মম যন্ত্রনা সহ্য করেও মুখ বুঝে পড়ে থাকা, এতোসবের পরেই আজ আমরা স্বাধীন। তাঁদের এতোসব আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন স্বদেশে আজ মাথা উচুঁ করে হাটিঁ।

    সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্বরণে।

  12. একটা অসাধারন গান দিয়ে দিন শুরু করলাম। “আজাদ তখন মার কাছে ভাত খেতে চায়। ” – আমাকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। ভিডিও ক্লিপ দেখে কষ্ট হলো – আমরা আসলেই স্ক্রিন প্লে লেখতে শিখিনি। যদি পারতাম আমি যা দেখতে চেয়েছিলাম তা কোনদিন তৈরি করে দেখাতে। আপনাকে ধন্যবাদ।

  13. মহান এই ‘মা’-দের আমরা বুঝতে আজো ব্যর্থ হয়েই আছি। নইলে দেশের অবস্থা এরকম থাকতনা।

    পোষ্ট প্রদানকারীকে অনেক ধন্যবাদ বিবেক-জাগানিয়া এরকম একটা পোষ্ট দেওয়ার জন্য।

  14. অথচ পরিহাসের মতো শোনালেও সত্যিটা এই – আজাদদের ধরিয়ে দেওয়া সামাদ (৭০ এর দশকে নিওন সাইন সামাদ নামে পরিচিত) একজন বীর উত্তম। এই দুঃখ আমি রাখবো কোথায়

    1. অকথ্য নির্যাতনের কারনে উনি বাধ্য হয়েছিলেন তারমানে এই না যে দেশ স্বাধীন করার জন্য তার ভূমিকা মিথ্যা হয়ে যাবে। আমি দুঃখিত আপনার সাথে একমত হতে পারলামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।