গুচ্ছকবিতা : করোনাকালের কাব্য

সাম্যবাদী পরমেশ্বর ||
তিনি সকলের, সকলেরই তিনি
যেমন ক্ষুদার্থ বাঘেদের তেমনি-
প্রাণভয়ে পালিয়ে ছোটা হরিণের;
যেমনি মানুষের তেমনি- নিরীহ প্রাণীদের
দুরান্ত কোলাহল মুখর পাখিদের
জলে দাপিয়ে বেড়ানো মাছেদেরও।
তিনি যেমন হাতিদের তেমনি-
হাঙর ও তিমিরদের, জল, স্থল এবং
অন্তরীক্ষের সকল প্রাণীদের
এমন কী ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রতিটি জীব
একইভাবে জীবাণু-ভাইরাসের।
তোমরা যেমন- নিজের মঙ্গল আর
খাদ্যের জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করো
ওরাও তেমনি-জীবন-জীবিকার জন্য
তাঁর প্রার্থনায় মাথানত করে-
তা হলে ভেদ অভেদের দ্বন্ধে না যেয়ে
যৌক্তিকভাবে একথাটি মানতেই হবে
তিনিই পরমেশ্বর, তিনি কারো একার নন
তিনি বিশ্বব্রম্মান্ডের; সমতল-পাহাড়,
সাগর, মহাসাগর গ্রহ নক্ষত্রের পরেও
যদি কিছু থাকে, একচ্ছত্রভাবে তিনিই
সবার, সবাই তাঁর সবার কথা ও প্রার্থনা
তাঁকে যে শুনতেই হয়।
সৃষ্টির সব তাঁর কাছে সবাই সমান
কেউ নয় তুচ্ছ ছোট-বড় ধূলির ধরায়।
০৮ এপ্রিল ২০২০
ঘরবন্দীর প্রলাপ ||
তোমরা আমায় ঘরবন্দী রেখে
মনের সুখে বাইরে ঘুরে
ঝালমুড়ি খাও মেখে;
জানালা দিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখি
জনস্রোতে যায় যে ভেসে
আদেশ নিষেধ সেকী।
যায় যে ছুটে অযুত নিযুত মানুষ
কেউ যেন মানতে চায় না আইন
নেই কী তাদের হুঁশ
মানে না কেউ নিয়ম কানুন আইন
কাজে-কর্মে শৃঙ্খলা নেই
কীসের কোয়ারান্টাইন।
০৬ এপ্রিল ২০২০
এতসব পাপ-তাপ এত অনাচার
মুখ বুজে সয়ে গেছে অদৃশ্যআধার
নিতে পারেনি সে যে বুক ভরে দম
তবু থামাওনি তোমার অশণীবিক্রম।
রুদ্রমূর্তি সে আজ ধরেছে ভীষণ
মনে করেছে ধারণ জিঘাংসার পণ
এবার করবে সে ধ্বংস সর্ব অহঙ্কার
ক্ষোভের আগুনে সে করবে ছারখার। ।
তুমিতো ভেবেছো মানুষ তুমিই মহামতি
নিজেদের অহংধর্মে করেছো তার ক্ষতি
তার ভয়ে তোমাদের থেমেছে উল্লাস
একঘরে হয়ে এখন করছো বসবাস।
এখনো যে আছে সময় হউক সুমতি
সদাশয় হোক সবে বসুধার প্রতি
তা না হলে নেবে সে চরম প্রতিশোধ
লাভ হবে না শেষে হলেও শোধবোধ।
০৪ এপ্রিল ২০২০
এ আঁধার কেটে যাবে ||
একদিন এই একান্তবাস,
ঘরবন্দী জীবনের অবসান হবে,
কর্মমুখর হয়ে ওঠবে অফিস-আদালত
বিদ্যাপীঠ ও খেলার মাঠ, গমগম
করবে হাট-বাজার ক্রেতা-বিক্রেতার
সমাগমে, পাখিরা গাইবে গান
আবার জমবে মেলা
গাছতলা বটতলায়।
তাই, অধির অপেক্ষায় বসে আছি
কোনো এক প্রসন্নভোরের, সেদিন
এক উন্মুক্ত ময়দানে সমবেত হয়ে
মেঘমুক্ত আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি
দেখবো, আর রাতে এ্যালুমিনিয়াম
চাঁদের আলোয় উঠোনে বসে জমিয়ে
তোলবো ঠাকুমার ঝুঁলির আসর।
একদিন এ আঁধার কেটে যাবে
উজ্জল ঝলমলে আলোয় ভরে ওঠবে
আমাদের আঙ্গিনা আমাদের চারপাশ
রঙিন ঘুড়িতে ছেয়ে যাবে নীল আকাশ।
০২ এপ্রিল ২০২০
করোনাক্রান্ত সময়
চলতে চলতে হঠাৎই গন্তব্যপথ
ঝাঁপসা হয়ে গেল, আলোর মশালটাও
পড়ে গেল অতল খাদের তলায়, নিমিষেই
আঁধারে ঢেকে গেল চিরচেনা পথ-ঘাট
দুঃসহ ঘরবন্দিজীবন এখন
জীবনের অমোঘ নিয়তি।
কাহাতক করা যায় ভয়ের সাথে বাস
কখন জানি অদৃশ্য আততায়ী
শরীরটাকে করে ফেলে গ্রাস
কখন জানি ভয়ে ভয়ে হয়ে যায়
প্যানিক এ্যাটাক।
স্বজনে স্বজন চিনে না এখন
নিজঘরে স্বজনকেও দিতে চায় না ঠাঁই
কোনো করুণা নাই, মানুষের প্রতি মানুষের
এ-সময়ে দেহবন্দী ঘরবন্দী মন
সেও বাসে না ভালো, আগের মতোন।
এমন সময় এখন কেউ কাউকেই
করে না বিশ্বাস,
বিশ্বাস করে না এক হাতকে, অন্য হাত
মানুষ কত অসহায় এখন প্রকৃতির কাছে।
২৬ মার্চ ২০২০




২২টি মন্তব্য
আসলে আমরা সত্যি সত্যি অসহায়, করোনা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
এ ক্রান্তি কালে আমরা তার-ই সাহায্য প্রার্থনা করি।
ছাইরাছ হেলাল ভাই!
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তায় এখন একমাত্র ভরসা
নত মস্তকে তাই তাঁরই করুণা ভিক্ষা চাই।
একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে
সবকটি কবিতায় দারুণ
সুরাইয়া পারভীন
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা আপনাকে।
“এমন সময় এখন কেউ কাউকেই
করে না বিশ্বাস,
বিশ্বাস করে না এক হাতকে, অন্য হাত
মানুষ কত অসহায় এখন প্রকৃতির কাছে।”
বাস্তবতাকে তুলে এনেছেন আপনার কবিতায়।
রুটিন করে লিখে যান সময়ের পাতায়।
ভাল লাগলো। শুভ কামনায়।
সুপায়ন বড়ুয়া দাদা। শুভেচ্ছা জানবেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাল থাকবেন ভাইজান। নিয়মিত লিখেন ভাল লাগবে। শুভ কামনা।
হ্যাঁ সৃষ্টিকর্তার ইশারায় সব হয়, উনিই আমাদের সবাইকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে আর আমরা মানুষরা নিজেদের স্বার্থ, লোভ -লালসা ,অহংকার এ ডুবে অন্যদের ক্ষতি করি, হত্যা করি। আজ তার খেসারত কড়ায় গন্ডায় উসুল করছেন পরমেশ্বর । ভালো থাকুন সবসময় শুভ কামনা রইলো
এখন আকাশ ও জমিনের মালিকের কাছে অবনত মস্তক। একমাত্র তিনিই রক্ষা করতে পারেন।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সাবধানে থাকবেন।
অনন্যসাধারণ লেখা। শুভেচ্ছা । দোয়া করবেন।
অনেক ধন্যবাদ ভাই। শুভ কামনা!
একগুচ্ছ করোনাময় কবিতা। ভাগ্যিস লেখা থেকে করোনা ছড়ায় না, নইলে….
কেমন আছেন প্রফেসর সাহেব?
ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন? সাবধানে থাকবেন।
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
আপনি ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
শুভ কামনা রইলো 🌹🌹
বেশ সময়োপযোগী কাব্যকথন দাদা।
শুভকামনা শতশত।
দাদা ধন্যবাদ আপনাকে!
সময়ের এক অনবদ্য কথন কবিতার প্রতিটি পরদে। ভালো থাকুন সবসময়
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সাবধানে থাকবেন।
ভাললাগা জানালাম।
ধন্যবাদ ভাই! সাবধানে থাকবেন!
গুচ্ছ কবিতা ভালো লেগেছে ভাই।
করোনাকালের কবিতা, কবিদের লক ডাউন নেই 🙂
শুভ কামনা।
ধন্যবাদ প্রিয় জিসান ভাই। শুভেচ্ছা জানবেন। ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।