মূল লেখায় যান

কর্মসংস্থান ব্যাংকের খালা

নাজমুল আহসানরম্য৩৫টি মন্তব্য

আমি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা শুরু করেছি কিছুটা আগাম! আমি যখন নিজের ব্যক্তিগত ফোন পেলাম, তখনও পুরো এলাকায় মোবাইল ফোনের সংখ্যা হাতে গোনা। আর ওই সময়টায় আমার বয়সী কারও কাছে ফোন থাকাটা একেবারেই অস্বাভাবিক ছিল; বিশেষ করে সেই গ্রাম-মফস্বল এলাকায়। কারও পকেটে ফোন বেজে উঠলে ধরে নেওয়া হত, তার ফোন-ফ্যাক্সের দোকান আছে। আমার মনে আছে, এলাকার এক বয়স্ক ভদ্রলোক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- তোমার এইটা কি গ্রামীণ না নকিয়া?

গ্রামীণফোন ২০০৫ সালে ডিজুস নামের একটা নতুন সংযোগ বাজারে ছাড়ল। এই ডিজুস তখন ছেলেপেলেদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। দুই টাকা সাতাশি পয়সা দিয়ে সারারাত কথা বলা যেত! মুরব্বিরা এদের নাম দিলেন “ডিজুস পোলাপান”। বাজারে আসার কয়েকদিনের মাথায় আগের সংযোগটা বাদ দিয়ে একটা ডিজুস কিনে ফেললাম। এবং সেটা আজ অবধি ব্যবহার করছি।

বেশিদিন ধরে একই সীম যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁরা “রং-নাম্বার” ঝামেলার সাথে পরিচিত হওয়ার কথা। পুরনো দিনের ল্যান্ডফোনের মতো আমার ডিজুসে রং-নাম্বার ফোন আসা শুরু হল। অবশ্য শুরুটা ছিল অনেক আগেই।

প্রথম দিকে প্রায়ই যে ফোনটা আসত, সেটা ছিল শিমুর। নতুন নতুন নম্বর থেকে ফোন আসত। মাঝ রাতে ফোন বেজে উঠত। রিসিভ করার পর কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে একটা হাঁসের মতো কণ্ঠ বলত- ‘হ্যালো, শিমু?’

একবার এক ভদ্রলোক ফোন দিলেন। সালাম দিলাম। উনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন- ‘মান্নান ভাই কই?’
বলা বাহুল্য, এটা আমার বাবার নাম। তারমানে বাবার কোনো বন্ধু ফোন দিয়েছেন। আমি আবার সালাম দিলাম, আঙ্কেল ডাকা শুরু করলাম। পরে দেখা গেল এটা রং-নাম্বার ছিল।
এই ভদ্রলোক পরে একাধিকবার ফোন দিয়েছিলেন, ‘মান্নান ভাই কই?’

একদিন এক প্রবাসী ফোন দিলেন। শুরুতেই বুঝে ফেললাম এটাও ভুল নাম্বারে এসেছে। কিন্তু ভদ্রলোক মরিয়া হয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে তিনি ঠিক নাম্বারেই ফোন দিয়েছেন। অনেকক্ষণের চেষ্টায় তাকে বোঝানো গেল।
ফোন কেটে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় উনি আবার ফোন দিলেন। ‘ভাই, আমার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। সৌদি আরব থাকি। এবার দেশে গিয়ে আমার শ্যালকের ফোন নাম্বার আনছি। সে নাম্বার দিতে ভুল করছে! দেখেন না ভাই, আমারে কোনো হেল্প করতে পারেন কিনা। কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারতেছি না!’
আহারে!

সবচে’ বেশি যে রং-নাম্বার ফোনটা আমি পাই, সেটা হচ্ছে শামিম ভাইয়ের। এই শামিম ভাইয়ের বাড়ি বগুড়ায়, মাটিডালি মোড়ে তাঁর অটোমোবাইল সার্ভিসিং-এর ব্যবসা আছে।
প্রায়ই ফোন আসে, ‘শামিম ভাই, গাড়ির কী অবস্থা?’
– ‘শামিম ভাই, ট্যাকা পাইছেন?’
– ‘শামিম ভাই, ডেরাইভার কই?’
একদিন এরকম একজন ফোন দিয়েছেন, শামিম ভাইকে চান। আমি তাকে কলব্যাক করলাম। কাহিনীটা কী জানার জন্যে। যা জানলাম, সেটা আতঙ্কিত হওয়ার জন্যে যথেষ্ট। এই শামিম ভাই তাঁর ভিজিটিং কার্ডে ভুল করে আমার নাম্বার ছেপেছেন!

আজ সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে এক মহিলার ফোনে। ‘ছার, আপনি কি অফিসে আইছুইন?’
আমি বললাম, ‘কে?’
মহিলা বললেন, ‘আমি সালেহা। কর্মসংস্থান ব্যাংকের খালা!’

মোট পড়েছেনঃ ৯৯৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৩৫টি মন্তব্য

  1. হা হা হা এই অবস্থা নাকি | আসলে এই ব্যাপার গুলো খুবি বিরক্তিকর | আপনি তো পুরুষ তাই অল্পতেই পার পেয়ে যান | কিন্তু আমিও সেই 2005 থেকে এখন অব্দি ডিজুস ব্যবহার করছি আর সেই রকম রং নাম্বারের অত্যাচার | মুশকিল হয়েছে যখনই মেয়ে কণ্ঠ শোনে তখন আর রাখতে চায়না | আমিও রিসিভ করে ফোন ফেলে রাখি | কাটুক তাদের টাকা কাটুক আমার তাতে কি 🙂

    1. শুরুর দিকে বিষয়টা মজার ছিল। এখন বিরক্তি থেকে সহ্যের বাইরে চলে গেছে। আমি বেকার মানুষ, কেউ ঘুম ভাঙিয়ে যদি জিজ্ঞেস করে- “অফিসে আইছুইন?”, কেমন লাগার কথা বলেন 😀

  2. গ্রামীণ না নকিয়া :D)

    আপ্নে তাইলে ডিজুস পুলাপাইন্দের একজন! 😀

    ক্যান জানি মনে অইতাছে আরো কয়েক কিসিমের ফোনকলের কথা চাইপ্যা গেছেন।
    ‘ছার, আপনি কি অফিসে আইছুইন?’

    *অ.ট. ডরাইয়া ডরাইয়া কমেন্টাইছি। প্রোপিকে যে ফডু লাগাইছুইন, দ্যাখলেই ডর করে। 🙁

  3. ডিজুস পুলাপাইন। বেশ বেশ। আমারো হইতে ইচ্ছে হয়।

    গল্পের নামটা টাস্কি খাবার মত। শেষ লাইনের আগ পর্যন্ত আটকে ছিলো।
    মজার একটা পোস্ট। অনেক শুভেচ্ছা!

  4. ছার, আপনি তাইলে সোনেলায় আছুইন? আমাদের গোলাপ বাবার পোস্টটার কি হইলো মামু? আপনি কি গোলাপ ফুলের মত পোস্ট খাইলাছেন?
    আপনার এত্ত নাম পাওয়া তো ভাইগ্যের কতা। মান্নান ভাই, শামীম ভাই আবার সিমুও :p

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?