মূল লেখায় যান

করোনাকাব্য

নাজমুল আহসানকবিতা১৬টি মন্তব্য

ইসকা মিয়া ‘রিশকা’ চালায়
আরামবাগের গলিতে।
আমার কাছে মনের কথা
করল শুরু বলিতে।

দেশে নাকি আইছে আজব
মরনব্যাধি করোনা!
আমি অধম কেমন আছি-
চিন্তা তো কেউ কর না!

শুনছি আবার আনছে টিকা।
তেলেসমাতি কারখানা!
তাইলে কি এই ব্যামোর কাছে
তোমাদের সব হার মানা?

তোমরা তো কেউ নিচ্ছ শুনি,
সবাই নিচ্ছ না টিকা!
আর কতদিন চলবে এমন
‘পলিটিশ’ আর নাটিকা?

এই করোনা গাও-গেরামে,
এই করোনা টাউনে।
হাওয়া খায়া বাইচা আছি
তোমাদের লকডাউনে।

টিকা দিয়ে জীবন চলে?
ক্ষুধা পেটে? দরকারে?
লোকের বলাবলি শুনি-
আহার দেবে সরকারে!

আমার আহার কাহার পেটে?
কে খেয়েছে আমার ভাগ?
নিজেরে আজ নিজেই দুষি,
নিজের উপর যত রাগ!

করোনাতে মরতে রাজি,
ক্ষুধায় মরতে রাজি না।
ব্যামোর ভয়ে পালায়ে যাব?
দেখা যাক। সে আজই না!

চালের কেজি তিন কুড়ি আর
আলুর কেজি বিশ টাকা।
পেটের ক্ষুধা হিসেব মানে?
পকেট আমার বিষ-ফাঁকা!

আমার দুঃখ আমি বুঝি,
তোমার কথা জানি না।
করোনাটা মানি আমি,
লকডাউনটা মানি না।

(ছবিঃ মনিরুল ইসলাম)

মোট পড়েছেনঃ ১২২১জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৬টি মন্তব্য

  1. নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে লক ডাউন একটি অভিশাপ আমাদের দেশে। অব্যবস্থাপনায় এদের কাছে বেঁচে থাকার সামগ্রী পৌছে না।
    একদিন আয় না করলে এদের পরিবার না খেয়ে থাকে।

    ছন্দের কবিতায় বাস্তবতা তুলে এনেছেন ভালো ভাবেই।
    শুভ কামনা।

    ** ম্যাসেঞ্জার এ ম্যাসেজ দিয়েছি।

    1. এরকম কঠিন একটা পরিস্থিতি সামাল দিতে যে দক্ষতা আর আন্তরিকতা দরকার, তার কোনোটাই আমাদের নীতিনির্ধারকদের নেই। সবাই নিজের ধান্দা নিয়ে আছে।

  2. ছন্দের তালে তালে আবারো কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরলেন। লকডাউন কার কতোটা উপকার করছে তা আজ প্রমাণিত। এসব খেটে খাওয়া মানুষ আর মধ্যবিত্ত দের একদম পথে বসিয়ে দিয়েছে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন

  3. ইশকা মিয়া রিক্সাওয়ালা জানেন না তার প্রকৃত ঋণ কতো। জানলে যা বলতো সেইসব শব্দ দিয়ে কবিতার ছন্দ মিলতো কিনা সন্দেহ আছে।
    ৮ জুন ২০২০ইং এর জরিপে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি জানিয়েছিলো ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমান ৭৯ হাজার টাকা। অথচ দেশের ৯৮% মানুষই এই ঋণ নেননি।

    ইশকা মিয়ারা তিন কুড়ি টাকায় চাল কিনতে গিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির শিকার হতে দ্বিধা করে না। আর তথাকথিত স্বাস্থ্যসেবকেরা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে লকডাউনকেই একমাত্র হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।
    না খেয়ে সব ঘরের ভিতর মরে পরে থাকুক, লকডাউন চলবে!

  4. লকডাউনের এই পদ্ধতি কার্যকর নয় খুব একটা। মানুষ প্রাইভেট কার নিয়ে ঠিকই যাতায়াত করছে। যত ভোগান্তি সব দিনমজুর এবং নিম্ন আয়ের মানুষের।

    যাক তবু কবিতাতেও পা দিলেন। কবিতার জগতে স্বাগতম।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।