ককেস্যপরিবেদনা
দুপুরে ইফতারির আয়োজন করতে যেয়ে গিন্নী চিৎকার শুরু করলেন, — কতবার করে বলেছি খেজুর নাই, তা হুজুরের কি কানে ঢুকেনি? কি করলে ঢুকবে? অগ্যতা দিলাম পরিমরি করে দৌড় শান্তিনগর মিনাবাজার। আজ মিনাবাজার ছিমছাম বেশ ,ফিটফাট সব কিছু। মাছ মাংসের দিকে দেখি কোন গন্ধ নেই, নেই তেমন লোকজন, এমনকি মাছ মাংসও কম। বেশ ভদ্র পোশাকের চার পাঁচজন ভদ্রলোক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু দেখছে টুকটাক জিজ্ঞাসা করছে।
আমি বেশ জোরেই এপাশের কর্মচারীকে জিজ্ঞাস করলাম– কাল পই পই করে আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছি মাংস বাসি কিনা !? আপনি কসম কেটে আপনাকে বিশ্বাস করতে বলেছেন, কিন্তু দিয়েছেন তো চরম বাসী গত রমজানের মাংস। দেখি কই আপনাদের ম্যানেজার ডাকেন তাকে বলে যাই, যদিও কোন লাভ নাই, আমরা বাধ্য আপনাদের নির্যাতন সহ্য করতে।
— জ্বী কি মাংস স্যার, ফেরৎ আনতেন, — মিন মিন করছে ব্যাটা।
—আরে চুপ যাও, কমেন্টারি খাতা দেও আমি অভিযোগ লিখে যাই।
শুটকি মন দিয়ে দেখা ব্যাক্তিটি বললো– আপনি কত কেজি মাংস নিয়েছেন কাল?
—–আপনি কি ম্যানেজার?, কাল বলেছি এই ছেলেকে আমাকে ফ্রিজের মাংস দিও না ও বলেছে আজকেই জবেহ করা আমরা ফ্রিজে রেখেছি, এই বলে দিয়েছে দশ কেজি। ব্যাটা কি বেতনের চেয়ে বিক্রির উপরে লাভ পায়?
উনি বললেন –কিছুই করার নেই। আমিও আমজনতা।
ওই দেন দরবার করতে করতে এটা কিনি ওটা শুকি। দেখি এক জায়গায় স্যূপ। চারটি কিনলে চারটি ডিম ফ্রি। মনের আনন্দে আটটি ডিম থুক্কু স্যূপ কিনে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
ডিম দিয়েছে একটি ক্লিয়ার পলি ব্যাগে। আমি রিকসায় বসে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে ডিমের অপরূপ শোভা দেখতে দেখতে বাড়ির পথে জ্যামে বসে আছি। মনে মনে তারিফ করছি বিপনন বুদ্ধির। ডিম ও ফ্রী দেয়া যায়। রিক্সায় একটু চলি একটু থামি। ডিমের রঙ আমাকে মোহিত করে তুললো। আমি সম্বোহিতে মত ডিমের দিকে তাকিয়ে কখনও ডিম পোচ, কখনও অমলেট, তাও আবার কখনও হচ্ছে সিঙ্গেল কখনো ডাবল, পুডিং, ডিমের তরকারি , কখন ঝাল ফ্রাই সেই কার্জনহলের মত। আহ্ জ্বিভ ভরে গেলো নোনা জলে। ডিমের প্যাক চোখের সামনে ঝুলিয়ে বার বার গুনছি ঠিক আটটিই আছে তো। আছে আছে, মহানন্দদে ঘাড় দুলিয়ে গুনগুন করে উঠতে একটি টান।
কি হলো ! ডিমের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই বুঝলাম আমার হাতে ডিমের ঝোলা নেই। কে নিলো, ইতিউতি উঁকি দেই বুঝলামই না– কোন মোটরসাইকেল আড়োহী নাকি পথচারী নাকি কার বিলাসী অথবা বাস যাত্রি?! এত মগ্ন ছিলাম ডিমে যে কে নিলো ডিমের থলে দেখলামই না। যাব্বাবা — ডিম ছিনতাইকারীকে খুঁজতে রিক্সায় দাঁড়িয়ে চশমা ঠিক করছি , টের পেলাম পায়ের কাছের ব্যাগটা নড়ে উঠলো। — এই ব্যাগ পরিস না বলে ঝুলে ব্যাগ ঠিক করতে যেয়ে দেখি ওটাও উধাও। এই এই করতে করতেই দেখি সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে, আর ব্যাগ নিয়ে পথচারী উলটা দিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আমায় টাটা দিচ্ছে। মোড় ঘুড়লেই বাসা। বাসায় এসে মনের বেদনা প্রকাশের আগেই গিন্নীর মুখ দেখেই মনে পড়লো আমি খেজুর আনতে গিয়েছিলাম। হাজিবিজি অনেক কিছু কিনেছিলাম খেজুর ছাড়া। ভাগ্যিস ব্যাগটা ছিনতাই হয়ে গেছে।
চেহারায় একটা ভাবগাম্ভীর্য এনে টিভি ছেড়ে বসলাম। দেখি এই মিনাবাজারের উপর জরিমানা ধার্য হয়েছে কলিজা ও মাংসে দামের ভিন্নতার জন্য। গিন্নীকে বললাম এই কাজে আজ আমি নিজেই সাক্ষী ছিলাম। মাঝে মাঝে মাঠে নামতে হয় বুঝলে।গিন্নি খেজুর নিয়ে আর না চিল্লিয়ে মিনাবাজারে গুষ্টি উদ্ধারে তৎপর হলো আর আমি এটা বলেছি কিনা ওটা বলেছি কিনা বলে ওদের পিন্ডিচটকালো।
সত্য হল —আমি তো জানিই না ঐ ব্যাক্তিবর্গ ভ্রাম্যমাণ আদালত। মনের বেদনার কথা গিন্নীকে ঈদের শাড়ি উপহার দেবার পর বলবো।

১৬টি মন্তব্য
ডিমও চুরি গেলো! পায়ের কাছে ব্যাগও। এতো দেখছি জব্বর ঢাক্কা শহর। ভাগ্য ভালো চলে এসছি। নতুবা যে কি হতো আমার ভদ্রলোকের!
হাসতে হাসতে মোটামুটি পেটে খিল।
রোজায় ধরলে এই হয় বুউউউউউ
হুম। 🙂
হেসেই চলছি :D) :D)
আপু কতোদিন পরে এলেন! আরোও লিখুন। আমাদের সোনেলাকে মাতিয়ে দিন আগের মতোন। -{@
আসলাম বলা যায় না সবসময়ই আছি। একফু বিরতি দেই। বুড়া হইছিতো।
আফনে বুড়া হইছেন? তাইলে তো হইলোই! আমিও আর নাই। 🙁
আহারে শেষ পর্যন্ত কোন ধরনেরই ডিম রান্না করে খাওয়া হলোনা,
ডিম ছিনতাই হয় এই প্রথম শুনলাম 🙂
বাজারের ব্যাগ ছিনতাইও,
ভাগ্য ভাল যে ভাবি আপনাকে ডিম আনতে দেননি’। ডিম না পেলে যে কি হতো, ভাবতেও শিউরে উঠছি।
অনেক মজা পেয়েছি খসড়া ভাইয়া 🙂
শুধু ডিম!! সংগে ক্যাপ্সিকাম, মুরগী, বারবিকিউ সস, স্যূপ সবই যে গেল।
:D)
:D)
কপাল ঠুকার ইমো কই, এই ভাই মডারেটর কপাল ঠুকার ইমো কই, একটু ঠুইক্কা দেহাইতাম। :D)
:D)
মডুরা কপাল ঠোকার ইমো কই, ইঞ্জা ভাইয়ের মাথায় ব্যামো—-
:D)
ডিম ডিম ডিগা ডিগা \|/
হা হা হা কিচ্ছু বলার নাই শুধু হাসতে হবে।দুঃখেও হাসবেন সুখেও হাসবেন।
কপাল খারাপ থাকলে যা হয়!! সুন্দর লিখনি। অনেক মজা পেলাম।