মূল লেখায় যান

আফসোস

এস.জেড বাবুএকান্ত অনুভূতি২২টি মন্তব্য

স্বাধীনতা তোমার কি দুই চোখ বন্ধ !
কার কোলে ঘুমাও তুমি ?
যেন হাজার বছর অনাহারে কাতর !
তৃষ্ণার্ত বুকের জমি ।
একটা ভোজন পূঁজা করি আয়োজন
একটা মন্ডপ সাজাই তবে !?
রূপার কলশে লাল গাইয়ের দুধ
সোনার থালায় ফল রবে ।

তৃষ্ণা মেটেনা ? নেশা কাটেনা ?
রক্ত মাংসের বলী চাই ?
ভয় নেই !
তাজা লাশের খবরে- পুরুনো কবর
মিডিয়ায় পায়না ঠাঁই ।
ওহে স্বাধীনতার মনিঋষি গণ
তাজা মাংসের গন্ধ পাও ?
নাকি দুচারটা লাশে ক্ষিধে মিটেনা;
প্রতি নাস্তার টেবিলে চাও ?

ও আচ্ছা !!
কেউ মরেনি তোমার ? ছাত্র মরেছে ?
খবরে অচেনা মুখ ?
পাশের ঘরে তোমার সন্তান ঘুমিয়ে
দেখে জুড়িয়ে আসো দুই চোখ।
ভয় নেই জানি, তোমার ছেলেটা
পাশ্চাত্যের স্কুলে পড়ে !!
কারণ,
তুমি যে অক্ষাংশে আইনের শাষক
সেথায় বিচার কাঁদে অবিচারে ।

ফাঁকা রাস্তায় মরে বাসের চাপায়
মাতাল চালকের হাতে,
ধরা খায় কভূ জনতার রোষে
প্রায়ই ছাড়া পায় মধ্যরাতে।
কেউ মরে, গলে অন্ধ গলিতে
কেউ রক্তাক্ত রাজপথে,
বাবা-মা যাদের মানুষ করতে
তুলেছে তোমাদের হাতে।

ভিটে মাটি বেঁচে, দুই বেলা খেয়ে
দিন গুনে বুড়ো বাপ,
শিক্ষায় দিক্ষায় মানুষ হবে `মানুষ ‘
পালাবে অভিশাপ ।
আর কয়টা দিন পায়না সময়
ছাত্রটা মানুষ হওয়ার,
যে মানুষ জ্বালাবে মানচিত্রে প্রদীপ
সে লাশ হয়, কাঁধে বাবার।

বলি,
খানিক সময় পেলে ছাত্র হইও আবার
প্রবাসী সন্তানের পাঠশালায়,
শুনে নিও কেমন ওই মানচিত্রের শাষন
এদেশে তোমরা যে ভূমিকায় ।
শুনেছি-
কচি বাঁশ বাঁকে হাতের পরশে
পাকা কঞ্চি বাঁকে আগুনে,
তবে,
আগামী প্রজন্মটাকে স্বাধীনতা দাও
অন্তত নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে ॥
–
আফসোস
যদি আমার ছেলেটা মেধাবী তালিকায়
কলেজ পাশ করে ফিরে,
বলবো
যাদের বাবার ব্যাংক ব্যালেন্স নেই
তাদের নামতা হলেই চলে রে ।
ভীনদেশে যাবি ? স্পন্সর হবে না
ডোনেশন হবে না জোগাড়
থাক বাবা,
গাঁয়ের বাজারে গ্রোসারী খুলবো
কি দরকার অত পড়াশোনার !!

যেদিন স্বাধীনতার ঘুম ভেঙ্গে যাবে
তোর সন্তানকে ডেকে তুলিস ,
যদি স্বাধীন বিচারে অপরাধ কাঁদে
মেধাবী হতে বলিস ॥
–
___০৮/১০/২০১৯

মোট পড়েছেনঃ ১২১২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. আমরা স্বাধীনতাকে মুখেই বলি কেউ অন্তরে ধারণ করিনা। স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে এর মর্ম মহত্বকে বুঝতে হবে। আজ আমরা স্বাধীন হয়েছি পাশাপাশি হয়েছি শৃঙ্খলবন্দী। এমন স্বাধীনতাই কি আমরা চেয়েছিলাম?

    চমৎকার অনুভাবী লেখা ভাই। শুভকামনা।

  2. আফসোস হতেই ক্ষোভের জন্ম হয়। ক্ষুব্ধ মনে বিক্ষোভ ছাড়া আর কি-ইবা আসবে! স্বাধীনতা কবে তুমি স্বাধীন হবে?

    ” ভিটে মাটি বেঁচে, দুই বেলা খেয়ে
    দিন গুনে বুড়ো বাপ,
    শিক্ষায় দিক্ষায় মানুষ হবে `মানুষ ‘
    পালাবে অভিশাপ ।
    আর কয়টা দিন পায়না সময়
    ছাত্রটা মানুষ হওয়ার,
    যে মানুষ জ্বালাবে মানচিত্রে প্রদীপ
    সে লাশ হয়, কাঁধে বাবার।”

    এক্সিলেন্ট!

  3. ও আচ্ছা !!
    কেউ মরেনি তোমার ? ছাত্র মরেছে ?
    খবরে অচেনা মুখ ?
    পাশের ঘরে তোমার সন্তান ঘুমিয়ে
    দেখে জুড়িয়ে আসো দুই চোখ।
    ভয় নেই জানি, তোমার ছেলেটা
    পাশ্চাত্যের স্কুলে পড়ে !!
    কারণ,
    তুমি যে অক্ষাংশে আইনের শাষক
    সেথায় বিচার কাঁদে অবিচারে ।

    শুধু বলব অসাধারণ।বাক্য ও শব্দের যথাস্থানে ব্যাবহারে চমৎকার একটি বিদ্রোহী কবিতা।

  4. স্বাধীন দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে থাকতে এক সময় অভিযোগ আর অভিমানেরা মাথা তুলে দাঁড়াবেই। প্রতিবাদী হয়ে উঠবেই। খুঁজবেই মুক্তি এমনি সব প্রতিবাদী লেখনীর মাধ্যমে।

    দারুণ ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।