সেই সব দিনরাত্রি …

জুলিয়াস সিজার ২ মার্চ ২০১৪, রবিবার, ০৬:১৭:১৭পূর্বাহ্ন বিবিধ ২২ মন্তব্য

অনার্সের প্রথম দিকের দিনগুলোর কথা ভীষণ মনে পড়ে। প্রথম যেদিন হলে উঠলাম, রাতে ঘুমোতে গেলাম। ঘুম আসে না, ভীষণ কামড় দিচ্ছে ছারপোকা। আমি এইচএসসি পর্যন্ত গ্রামে বাড়িতে পড়াশোনা করেছি। বাড়িতে ছারপোকার কামড় খাওয়া পরের ব্যাপার, কোনদিন দেখিওনি আগে। তারপর হলের “প্রভোস্ট” স্যারকে গিয়ে অভিযোগ করলাম, ” স্যার ঘুমোতে পারি না, অনেক ছারপোকা”।
স্যার বললেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে, সার্টিফিকেট পাবে। কিন্তু ছারপোকার কামড় খাবে না এটা কেমন কথা?
স্যারের কথা সত্য। একসময় গা সওয়া হয়ে গিয়েছিলো। কামড় খেয়েই দিব্যি ঘুমোতে পারতাম।
আর একবার রাতে হল দখল নিয়ে বাইরে ভীষণ মারামারি হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর গুলির শব্দ শোনা যায়। আমার রুমে আমি একা। পাশের রুমে এক বড় ভাই থাকতেন ইকোনোমিক্সের। ছয় ফুট লম্বা অন্তত, জিম করা বিশাল শরীর। এই বিশাল শরীরের জন্য সবাই উনাকে বাঘা বলে ডাকতো। আমি আমার রুমে লাইট বন্ধ করে বসে আছি। উনি হঠাৎ দরজা নক করলেন। রুমে ঢুকালাম। দেখি বাঘা(বড় ভাই) কাঁপছেন ভয়ে, মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। শেষে বললেন আমি আজ তোমার রুমে থাকবো। অথচ উনার বডি দেখলেই কেউ ভয়ে মারামারি করতে আসবে না, আর আমি বাতাস একটু বেশি হলেই উড়ে যাবো। অনেক হাসি পাচ্ছিলো উনার অবস্থা দেখে।
আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবার তো বিখ্যাত। তাঁরা এক কেজি মাছ দিয়ে অন্তত ৩০ জন এবং এক কেজি মুরগি দিয়ে ৪০ জন খাওয়ান। এত ছোট মাছ এবং মুরগির মাংসের পিস করা মেশিন দিয়েও সম্ভব নয়। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো যে মানুষটি মাছ এবং মাংসের টুকরো করেন উনার হাতটা একটু ছুঁয়ে দেখবো। এত ছোট এবং হিসেব করে তিনি কিভাবে মাছ কাটতে পারেন! অবিশ্বাস্য!
থার্ড ইয়ারে একটা ফ্যামিলির সাথে সাবলেট থাকতাম। ছোট সংসার, সম্ভবত আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন, আত্মীয় স্বজনের সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিলো না। তাই একটা ছোট বাসা নিয়ে থাকতেন। এক রুমে নিজেরা অন্য রুমে সাবলেট দিয়েছিলেন। একবার ক্যাম্পাস থেকে এক ফ্রেন্ড আমার কাছে আসলো গ্রুপ স্টাডি করার জন্য। আমার একটাই বালিশ। রাতে দাদাকে বললাম, “দাদা, একটা এক্সট্রা বালিশ হবে আমাদের জন্য?”
উনি বললেন, ভাই আমরা স্বামী স্ত্রী দুইজন মানুষ এক বালিশেই শেয়ার করে ঘুমায়। আমাদেরও একটাই বালিশ। আমিও বালিশ শেয়ার করে ঘুমিয়েছিলাম।
আগের দিনগুলোই ভালো ছিলো। এখন ভালো লাগে না। দিন দিন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। সবকিছুই পেইন লাগে।

২৩১জন ২৩১জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য