সেই গন্ধ

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে ৬ নভেম্বর ২০১৬, রবিবার, ১২:০২:৩৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩০ মন্তব্য

picsart_11-05-11-03-15

মানুষের জীবনে গন্ধের প্রভাব অপরিসীম। রাতে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ, দূর থেকে ভেসে আসছে কামিনী ফুলের সুঘ্রাণ, মন ভাল হবেই। মনকে সতেজ, প্রফুল্ল রাখতে সুগন্ধের জুড়ি নেই। আবার মনের প্রফুল্লতা নষ্ট করতে দুর্গন্ধের জুড়ি নেই। সব কিছুরই আলাদা আলাদা গন্ধ আছে। গন্ধহীন কি কোনকিছু আছে এই জগতে?

কোনো কোনো সময় প্রাপ্ত বিশেষ গন্ধ মানুষ ভুলতে পারেনা। মনে হলেই সে গন্ধ নাকে চলে আসে, এ কারণে গন্ধের কাছাকাছি বা স্পর্শে থাকতে হবে মানুষকে এমন কোনো কথা নেই। পিচ্চি কালে মায়ের শরীরের সুগন্ধ  এখনো অনুভব করি, মা এবং সেই সময় থেকে অনেক দূরে থেকেও। কেহ কেহ তার প্রিয়জনের শরীরের সুগন্ধ অনুভব করেন, কেহ কেহ প্রিয়ার চুলের সুগন্ধ অনুভব করে প্রতিনিয়ত। এই অনুভবে পছন্দের একটি বিষয় থাকে। প্রবল ভাললাগার মানুষের শরীরের ঘ্রাণ মানুষকে তার প্রতি অনুরক্ত করে রাখে। একারণেই দেখা যায় চোখ বেধে দিয়ে অনেকের মাঝ থেকে শুধু গন্ধ দিয়ে প্রিয় মানুষকে খুঁজে পান মানুষ।

ভুমিকা শেষ, এবার কেন এই লেখা? তা বলি:
দুদিন আগে শাহাবাগ থেকে উত্তরা রুটের বিআরটিসি এসি বাস এ উঠলাম সকাল সাতটা ত্রিশ মিনিটে। সকালে ভীড় নেই তেমন বাসে। রাস্তাও ক্লিয়ার, জ্যাম নেই তেমন। বেশ ভাল বাসের ভিতরকার পরিবেশ। বাসের মাঝামাঝি ডান পাশের জানালার পাশে বসলাম। ঠান্ডা সকালে একটু ঘুম ঘুম অবস্থা। ফার্মগেট অতিক্রম করার পরার পর ঝিমুনি শুরু করলাম, মহাখালী ফ্লাইওভার উঠছে বাস এটুকু মনে আছে এরপর ঘুম। তীব্র এক গন্ধ লাগছে নাকে, স্বপ্নে পাচ্ছি না তো এমন গন্ধ? ঘুমই ভে্ঙ্গে গেলো। ঘুম ভাঙ্গার পরে চলন্ত যানবাহনে কিছুটা বোকা বোকা হতবুদ্ধি হয়ে যাই আমি, হয়ত সবারই এমন হয়। জেগে উঠে বুঝতে বুঝতে কয়েক মুহূর্ত লাগলো। রেডিসন হোটেল দেখে বুঝলাম কোথায় যাচ্ছি। কিন্তু কিসের গন্ধ পাচ্ছি? চাবুকের মত গন্ধটি এবার মস্তিস্কে আঘাত করলো। বনানী নেমে গিয়েছেন অনেক যাত্রী। আমার বাম পাশে বাননী থেকে ওঠা নতুন যাত্রীর গা থেকে এই গন্ধ বের হচ্ছে। এমন দুর্গন্ধ কোনো মানুষের গা হতে নির্গত হতে পারে! কোনো জন্তু জানোয়ারের গা হতেও এমন দুর্গন্ধ বের হয় কিনা জানিনা। নাক আর কতক্ষণ চেপে রাখা যায়? কী করি কী করি, আমি তো এই দুর্গন্ধে আজ মরেই যাব। আচ্ছা যদি আমি আজ এখন মরেই যাই, পত্রিকায় কি এমন শিরোনাম আসবে? – দুর্গন্ধে ব্লগার সজীবের মৃত্যু!  উফফ কী যে করি? : (আচ্ছা আমার পোস্ট মর্টেম করবেন কে? তিনি কি আমার ফুসফুসে এই দুর্গন্ধ পাবেন? মুহুর্তের মধ্যে শুন্য শুন্যালয় আপু, কৃন্তনিকা আপু আর শিশিরকনা আপুর কথাও মনে এলো। গতকাল আমার প্রিয়াকে পারফিউম গিফট করেছি, একই ব্রান্ডের বডি স্প্রে নিয়েছিলাম একই সাথে আমি। টি-সার্ট এর নীচে হাত দিয়ে শরীরে হাত ঘসে নাকের কাছে হাত আনলাম। উহু কিসের কী? এই দুর্গন্ধের কাছে জগতের সমস্ত সুগন্ধ পরাস্ত হবে। অবশেষে সিট থেকেই উঠে পড়লাম। দুর্গন্ধরাজ জিজ্ঞেস করে’ ভাই কি সামনে নামবেন’? আরে না ভাই, বসতে বসতে পায়ের রগে টান পরেছে, একটু দাঁড়িয়ে থাকি – বলি আমি। এই বলে সিট থেকে উঠে ড্রাইভারের কাছে গিয়ে দাঁড়াই।

বিমান বন্দর থেকে কয়েকজন উঠলেন। খালি সিট দেখে কিছুটা প্রতিযোগিতা করে দুজন গিয়ে বসলো দুর্গন্ধরাজ এর পাশে খালি সিটে। মনে মনে বলি – যাও বসো মাগার টিকতে পারবা না। ফলাফল – এক মিনিটের মধ্যেই দুজন সিট থেকে উঠে প্রায় দৌড়ে আমার কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। একজনকে কানের কাছে জিজ্ঞেস করলাম ” ভাইয়া সিট থেকে উঠলেন যে? পা ব্যাথা করছে নাকি? ”   :p  উত্তরে তিনি বললেন ” জি ভাই পায়ে ব্যাথার কারণে বসতে পারিনি, আপনিও? ”   :D)

সেই দুর্গন্ধকে কিছুতেই তাড়াতে পারছি না, আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সে….

১২৫জন ১২৫জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য