বাংলাদেশের অতি সুপরিচিত এবং বিভিন্ন কারনে উজ্জ্বল জেলা হিসাবে আমাদের প্রান প্রিয় নারায়ণগঞ্জ এখন দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের মূখে মূখে।আমার জানা মতে এ দেশে যতগুলো জেলা রয়েছে তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলাটি মুলত ব্যাবসায়িক কারনেই বেশী পরিচিত এর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অত্যান্ত শীতল শীতলক্ষ্যা নদী পথ ব্যাবসা বানিজ্যকে আরো বেশী প্রসারিত করে।

১৯৮৪সালের১৫ফেব্রুয়ারী প্রায় ২৯৮ বর্গ মাইল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কে জেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয় যার মধ্যে ৫টি সংসদীয় আসন রয়েছে১৮৮২ সালে নারায়ণগঞ্জ কে মহকুমা এবং পরে তা ১৯৮৪সালে জেলায় রূপান্তরিত করা হয়২০১১সালের৫ই মে নারায়ণগঞ্জ সদরকে সিটি কর্পোরেশন করা হয়নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ৭টি থানায় বিভক্ত করা হয় নারায়ণ গঞ্জ সদর, ফতুল্লা থানা,সিদ্ধির গঞ্জ থানা, বন্দর থানা, আড়াই হাজার থানা, রূপগঞ্জ থানা সোনার গাঁও থানাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় উপজেলা ৫টি সেগুলোহলনারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা, বন্দর উপজেলা,আড়াই হাজার উপজেলা,রূপগঞ্জ উপজেলা সোনার গাঁও উপজেলামোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৩টি, গ্রাম১৩৩টি, মহল্লা৭৪টি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন  নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর থানার কদম রসুল সিদ্ধিরগঞ্জ পৌর সভা নিয়েকর্পোরেশন গঠিত হয়েছে রাজধানী ঢাকা থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর একটি থানা সিদ্ধিরগঞ্জঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটির মাঝা মাঝি সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের আর্ডারে।এখানে রয়েছে বিশ্ব গোডাউন খ্যাত সাইলো সরকারী খাদ্য গোডাউন,এর পাশেই রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী।মোট নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলাসিদ্ধিরগঞ্জে রয়েছে ২টি সরকারী ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ, ২টি বেসরকারী কলেজ, ১২টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি সরকারী মাদ্রাসা, ১টি ভোকেশনাল ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট, ১টি সার্ভে ইন্সটিউটমোগল সরকারের আমলে এই শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর থেকে ব্যবসায়িক রাজস্ব আয় ছিল হাজার ৪৪৭ টাকা ১০ আনা পয়সা। কোম্পানির আমলে ১৮৫০ সালেএই  শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর থেকে কোটি গজ চট বস্ত্রই উরোপ, আমেরিকায় রফতানি করে। তখন ১০০ চট বস্ত্রের মূল্যে ছিল টাকা।যার অধিকাংশই পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত হত।স্বৈরাচার এরশাদের আমল হতে আদমজী জুট মিলের কর্তৃত্ত নিয়ে সি বি এ নেতা নোয়াখালীর ছাদু ভাই গ্রুপ এর সাথে সিদ্ধির গঞ্জের শ্রমিক নেতা রেহান,কাসেমের সাথে প্রায় ককটেল এবং গোলাবাজী হত।এখানে আরো একজন জনপ্রিয় নেতা এসও এ সরকারী সফুরা খাতুন এর প্রতিষ্টাতা জনাব সফর আলী ভূইয়া উল্লেখ্যযোগ্য।তখন অনেক ছোট,মাঝ রাতে হঠাৎ গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠতাম দু,পক্ষের ককটেল বাজীতে।সর্বক্ষণ আতংকে থাকত পুরো মূল সিদ্ধিরগঞ্জ বাসী।নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতনের পর পর ছাদু ভাইয়ের সিবিএ নেতৃত্ত্বে ফাটল ধরান প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপটে মৃত রেহান সাহেব।ক্ষমতাসীন রেহান সাহেব পাটকলের নেতৃত্ত্বে আসার বেশ কয়েকটি বছর ভাল ভাবেই উৎপাদন চলছিল কিন্তু তার কিছু গোন্ডা-পান্ডাদের দূর্নিতীর কারনে পাটকলে ধষ নামতে থাকে,এক সময় আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন দল পাট কলটি বন্ধ করে দেন যা এখন এ ইপি জেড।পিতার মূখের কথা “সেই পাক আমল থেকে পাট কলে আছি,বড় আফসোস লাগে যখন দেখি নেতা নামক কিছু ক্ষমতাসীন লোকেরা কি ভাবে কাচাঁমাল পাট আমদানীতে দূর্নিতী করছে।আমদানী কৃত পাটে শীতলক্ষ্যার জল দিয়ে ওজন বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।প্রত্যহ সকালে যখন ষ্টোর রূম খুলি দেখি কিছু না কিছু মেসিনারিজ পার্টস চুরি হচ্ছে তখন বুকটা ফেটে যায়।আমরা শ্রমিকরা কাজ করতে করতে হয়রান আর নেতারা সেই শ্রমিকদের মাসের/সাপ্তাহিক বেতনের টাকা হতে চাদাঁ তুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে,কারো কিছই বলার নেই।জানা মতে আদমজীতে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট হাজার।

আসছে শেষ পর্ব…..

নারায়ণগঞ্জ এরিয়া

সহযোগিতায়:উইকিপিয়া

ছবি:খোকা রহমান

৭২৫জন ৭২৫জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ