বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

অনেকেই সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছেন। এখনো পর্যন্ত অনলাইনে-অফলাইনে অনেকেই নিত্য যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও মানবতার তাগিদে। কিন্ত এই যুদ্ধ করা আমার কাছে তেমন বিশেষ মহিমান্বিত কিছু নয়। কিন্তু, যুদ্ধটা যদি হয় ‘জীবন বাজি রেখে’, ‘মৃত্যুর পরোয়া না করে’, তখন সেটা আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়।

 

কারণও আছে। মনে পড়ে, অনেক আগে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী পড়ে রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম– পাকিস্তানী মিলিটারী এসেছে, দুয়ারে বুটের আঘাত শুনতে পাচ্ছি। মা আমাকে নিয়ে ছাদে উঠলেন, বাবাকে মিলিটারীরা বের করলেন উঠানে । এদিকে মা আমাকে কোত্থেকে একটি বন্দুক এনে দিলেন আর গুলি চালাতে বললেন। আমি বন্দুক হাতে নিয়ে উঠানে দাঁড়ানো পাকিদের দিকে তাক করলাম ছাদের জানালা দিয়ে। কিন্তু তখন হঠাত আমার মনে হল, এতগুলো সৈন্যকে তো মারা অসম্ভব, গুলিতে যদি সবাই মারা না যায়, যদি কেউ ফিরতি আমাকে গুলি করে দেয়? বরং এখনই তো বেশ আছি, পাকিরা আমাদের দেখছে না। তখন তো দেখে ফেলবে! আবার বাবার কথাও মনে পড়ছে। তাঁকেও বাঁচানো দরকার। কিন্তু তাতে আমাকে মরতে হতে পারে। আমি মরে যাব! গুলি খেয়ে! আমার বুক কাঁপছে, হাত কাঁপছে। মা ও তাগাদা দিচ্ছে, কীরে গুলি করনা। আমি জমে গিয়েছিলাম, নিজের মৃত্যু চিন্তায়। আর তখন আমার সাহসী মা বন্দুক নিয়ে গুলি শুরু করে। আর গোলাগুলির একটু পর দেখি মা গুলি খেয়ে নীতর হয়ে পড়ে আছেন! জেগে উঠে দেখি আমি কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলেছি!

 

আমি সেদিন বুঝেছিলাম, বাইরের সাহস আর ভিতরের ভীরুতা সমানুপাতিক। সেদিন থেকে যেখানেই দেখি/ শুনি ‘জীবন বাজি রেখে’ কেউ কিছু করেছে, তাকে আমার বীর মনে হয়। জীবন বাজি রাখা! সহজ কথা! ভাবলেই বুঝা যায় এটা কী পরিমান সাহসের কাজ, আত্মত্যাগের ব্যাপার। আর সেটা যদি হয় দশ বা ‘দেশ’-এর জন্য, ব্যক্তিগত কারণে নয়, তখন বুঝা কতটুকু মহত্ত্ব মিশে আছে তাতে!

 

আমি নিতান্ত তুচ্ছ। কারো কাছে তার মা-বাবা কিংবা তার প্রিয়া সবচেয়ে প্রিয় হতে পারে, কারো কাছে তার সন্তান। আমার কাছে, সরল স্বীকারুক্তি, আমার জীবনই সবচেয়ে প্রিয়।

 

তাই, দেশের সার্থে জীবন বাজি রাখা, অকুতভয় প্রাণ, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মত মানুষগুলোকে আমার হিংসা হয়, বাঙ্গালী হিসেবে গর্ব হয়। আর শ্রদ্ধায় চোখে জল আসে, কন্ঠ রোধ হয়ে আসে যতবার উনাদের আত্মত্যাগের কাহিনী পড়ি।

শুভ জন্মদিন, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর।

২৩৮জন ২৩৮জন
0 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য