শিশু

ছাইরাছ হেলাল ৪ আগস্ট ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ১০:৫২:২৯অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪০ মন্তব্য

মহামতি দেবরাজ জিউসের পান-ভোজনের আমন্ত্রণে একমাত্র মর্ত্যবাসী হয়ে তাঁর দরবারে এসেছি, ঢুকেই বিশেষ বার্তা পেলাম (বার্তা প্রেরণের বিশেষ ব্যবস্থা বিদ্যমান), দ্বারের কাছে অপেক্ষাকক্ষে বসে শ্যেন দৃষ্টি পেতে অপেক্ষা করতে হবে, অপেক্ষা করতেই আছি করতেই আছি, চক্ষু ঠিক্‌রাইয়া রগ্‌ড়াইয়া কিছু দেখিও না শুনিও না, ব্যাপার না, জো হুকুম চালু রইল।

প্রবল ঊষা কালে ঘরকর্তার জরুরী এলানে রোরুদ্যমান হয়েও তথাস্তু বলে এ যাত্রা প্রাণে বাঁচি, (দুজ্ঞা দুজ্ঞা দশভুজা, রক্ষা কর মা ……মা……ষষ্ঠাঙ্গে প্রণাম সহ সব কিছু)
আজিকে তাঁর রান্নাবিরতি!!
অগত্যা প্রচুর নিরানন্দ চিত্তে গাত্রোত্থান ও সামান্য নাস্তাপাতি শেষে যথাসময়ে রসুই গমন।
ইয়াহু বলে আড়মোড়া ভেঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া।
ইসপেশাল শুঁটকি রান্না, লইট্টা ফিস, (প্রকাশ থাকে যে এ লইট্টা সেই লইট্টা!!! না) ও বরবটি রসুন।

হঠাৎ দ্বাররক্ষীর সাথে প্রথমে হাল্কা কথাবার্তা থেকে উচ্চস্বরে চিল্লাফাল্লা মর্ত্যবাসী এক রমণীর সাথে, এই রমণী কী করে এই দরবার অব্দি পৌঁছল তা বোধগম্যের বাইরে। ভাবছি চিৎকার-চেঁচামেচির উৎসস্থলের কাছে গিয়ে দেখব বুঝব ঘটনাটি কী, গজেন্দ্রগমন বা থপ থপ হুম হাম বা সর্পিল গমনাগমন বা ভারিক্কি তালে, চকিতে বার্তা এল ‘খামোশ’।
প্রথমে হালকা, এরপর ধাপে ধাপে ঘন চিৎকার-চেঁচামেচি, রক্ষীর কথা বুঝতেই চাইছে না, আজ জিউস কর্তার বিচার সভার দিন না, আজ কারো আর্জি তিনি শুনবেন না, মর্ত্যবাসিনী কিছুতেই কিছু মানতে চাইছে না, সে বিচার চাইতে এসেছে। অনড় রক্ষী। শুরু হলো ফুঁপিয়ে কান্না থেকে আট্টালি পাট্টালি কান্নাচিৎকার, কান্নার রোল উঠে গেল। রক্ষী নট নড়নচড়ন,
ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে লক্ষ্য করলাম হঠাৎ কান্না বন্ধ করে চোখ মুছে কোচর থেকে ছোট্ট একটি শিশি বের করে রক্ষীকে দেখিয়ে বলল এবার বিষ খেয়ে এখানে আত্মহত্যা করবে,
সেই অমোঘ অব্যর্থ আদি অস্ত্র আত্মহত্যা, রক্ষী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকে থামিয়ে অস্তব্যস্ত হয়ে ভিতরে চলে গেল।
এই ফাঁকে ভাল করে নিবদ্ধদৃষ্টি দিলাম বিচার প্রার্থিনীর দিকে। এখানে এই মুহূর্তে পুরো বর্ণনা দেয়া সমীচীন হবে না, তবে একটি দ্রব্য দেখে কি ভাবব কী লিখব বুঝতে পারছি না। হাতের নেটের পুঁটলিতে বড়সড় বেশ কিছু কাঁচাপাকা সুপারি ও কিছু পান সযত্নে রাখা, ভেবে কিনারা করে পারছিনা, জিউসের সুরাভ্যাস আছে কিন্তু পান-সুপারির অভ্যাস কখন কী ভাবে!!
প্রহরী দ্রুত ফিরে এসে মর্ত্যরমণীকে নিয়ে দেবরাজের দরবারে উপস্থিত করল।
দরবারে প্রবেশ করতে করতে ইতি-উতি করছিলাম, প্রেমের তীর ছুঁড়া-ছুঁড়ির দেবী আফ্রোদিতিকে একপলক দেখতে পারলে নয়নের পরাণ ঠাণ্ডা হত। এ্যাথিনা ও থেটিসকেও দেখারও ইচ্ছে, খুব ই;
জিউসের কাছে তবক দেয়া পান-সুপারি নিবেদন করে আর্জি পেশ করল চোখের বাঁধ না মানা জল মুছতে মুছতে,
তার সাধের পুতুলের চুল ছিঁড়ে ফেলেছে কেউ একজন,
ঠ্যাং বাঁকা করে ফেলেছে আছাড় মেরে মেরে, (এই সাধের পুতুল কোন এক কালে তালেবর অপদার্থ প্রেমিক দিয়েছিল) পুতুল নষ্টকারী এই অপরাধীর কঠিন সাজা প্রার্থনা করছেন।
কিছুই বুঝতেছি না, জিউস হাসি চেপে খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে ফরিয়াদির বয়ান শুনে রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে স্বর্গের সব থেকে সুন্দর একাধিক পুতুল দিতে চাইলেও তা নিতে অরাজি থেকেই কঠিন বিচারের প্রত্যাশা জারি রাখলেন। অতঃপর জিউস শাস্তি মঞ্চে অপরাধীকে হাজির করার হুকুম দিয়ে আমার দিকে চোখ টিপলেন!
চোখের পলকে কাঁথায় মোড়ানো অনিন্দ্যসুন্দর এক শিশুকে হাজির করা হল শাস্তির জন্য।
কোথায় গেল কান্নাকাটি চিৎকার চেঁচামেচি, এক লাফে ফরিয়াদি প্রহরীর কাছ থেকে বাচ্চাটি ছিনিয়ে নিয়ে ভো-দৌড়ে দরবারের বাইরে।
ঈশারায় টেবিলে আসার ইঙ্গিত দিয়ে মহামান্য জিউস তবক দেয়া পান মুখে পুড়ে হাসতে হাসতে সুরাটেবিল সাজাতে হুকুম দিলেন।

আফ্রোদিতি আপনি কুঁথায়!!

৫০২জন ৫০২জন
0 Shares

৪০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য