লেখক হবো

সাবিনা ইয়াসমিন ২৩ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ০৯:৫৬:২৭পূর্বাহ্ন রম্য ৩৬ মন্তব্য

* আপনি লেখক ?

** হ্যা।

* আমি লেখকদের খুব সম্মান ও শ্রদ্ধা করি।

** কেন বলুনতো ।

* কেন আবার। আমি যেটা পারি না, তা যদি অন্য কেউ পারে তাহলে শ্রদ্ধা কেন করবো না।অবশ্যই করবো।

** বাহ ! দারুন বলেছেন। আপনিও কি লেখালেখি করেন ?

* না স্যার। তবে খুব চাই।কিছু লিখতে। কিনতু কিভাবে যে শুরু করবো ভেবে পাই না। আপনি যদি একটু সাহায্য করতেন তাহলে বেশ উপকার হতো।

** আপনি আগে কখনো কিছু লিখেছেন ?

* আপনার কাছে বলতে লজ্জা নেই। ছোটবেলা থেকেই আমার লেখালেখি করার খুব শখ।স্কুল ম্যাগাজিনে পরপর দুইবার যখন আমার লেখা কবিতা ছাপা হলো, তখনই বুঝেছিলাম। আমার জন্ম হয়েছে লেখক হওয়ার জন্যে। যখনই সময় পেতাম শুধু কবিতা লিখতাম।আমার এই গুনের কথা সর্বপ্রথম জানতে পারলেন আমার ক্লাস টিচার।বাড়ির কাজ করার খাতায় আমার লেখা কবিতা তিনি আবিস্কার করে ছিলেন। কবিতা পড়ে আমাকে পরম মমতায় কাছে
ডেকে, কান টেনে বলেছিলেন ‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’ আর যদি এইসব কবিতা লিখতে দেখি তাহলে পরীক্ষার খাতায় গোল্লা দিয়ে দিবো “।

** তারপর কি লেখা বন্ধ করে দিলেন ?

* মোটেই না।আমি ঠিক করেছিলাম আর স্কুলের খাতায় লিখবো না। জানতাম বিখ্যাত মানুষদের জীবন সহজ পথে এগোয় না। তার  প্রমান দেয়ার জন্যে আমি মনোবল না হারিয়ে অন্য খাতায় কবিতা লেখা চালিয়ে গেলাম।

** তারমানে আপনি কবি ? কবিতা লিখতেন ? ছাড়লেন কেন ?

* আমি এখন আর কবিতা লিখতে পারিনা।বলছি ,,সে এক করুন ইতিহাস।আমি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা চর্চা করছিলাম।একদিন,,উফফ ! সেইদিন ছিলো আমার লেখক জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয়, ভয়াবহ মর্মান্তিক দিন।আমি সবেমাত্র চমৎকার নতুন কয়েকটি কবিতা লেখা শেষ করে পড়ার টেবিল থেকে উঠতে যাচ্ছিলাম ,এমন সময় আমার পিতা মহারাজ সেখানে উপস্থিত হলেন।তার আগের দিন আমার বার্ষিক  পরীক্ষার খাতা বাড়িতে এসেছে,যেটাতে গণিতের শিক্ষক আমাকে অল্প নম্বর দিয়েছিলেন।শিক্ষক সাহেব প্রায়ই আমাকে গণিতে অল্প অল্প নম্বর দিতেন। এতে আমার তেমন সমস্যা না থাকলেও আমার পিতা মহারাজ ক্ষেপে যেতেন আর শিক্ষকের রাগ আমার উপর ঝাড়তেন। উনি যেহেতু আমার উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তাই তিনি আমাকে উত্তম মাধ্যম দিয়েই খুশি থাকতে পারলেন না। আমার কবিতা গুচ্ছ গুলোর দফারফা করেই স্থান পরিত্যাগ করেছিলেন। আমি শোকে দুঃখে কাতর হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কবিতার এতো অপমান মেনে নিতে পারিনি। কবিতা লেখা কাগজটি তুলে মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেললাম। হ্যা, খেয়েই ফেলেছিলাম। তারপর থেকে আর কবিতা লিখতে পারি না। কি করে লিখবো ! সেই যে কবিতা গুলো পেটে ঢুকলো আর বেরই হলো না।যখনই কবিতা লিখতে যাই অ-কবিতা হয়ে যায়।

** ওহো!! দুঃখজনক।

* ধন্যবাদ। তবে আমি এখন লিখতে চাই। আপনি অনেক বিজ্ঞ লেখক। একটু শিখাবেন ?

** আমি বিজ্ঞ নই। অভিজ্ঞ বলতে পারেন। লিখতে লিখতে অভিজ্ঞতা এসে গেছে। আসলে কে কি নিয়ে লিখবে এটা যার যার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার।আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। গল্প, কবিতা, উপন্যাস ঠিক কি নিয়ে লিখতে চান বলুন।

* এইতো মুশকিলে ফেললেন। আমি আসলে কি লিখবো এটা আগে থেকে কাউকে বলতে চাইনা। বলাতো যায়না, কে আবার আমার লেখার বিষয় বস্তু নিজের বলে চালিয়ে দেয়। এ যুগে কাউকেই বিশ্বাস নেই।

** দুঃখিত। তাহলে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারছিনা।

* বুঝেছি ,,আপনি আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইছেন।আমি লেখক হতে চাই জানার পর আপনার কাছে আমাকে আর ভালো মনে হচ্ছে না ।হতে পারে আপনি ঈর্ষান্বিত হয়ে পরছেন। না, না, আমার দিকে এভাবে তাকানোর দরকার নেই। আজ পর্যন্ত যাদের কাছেই লেখক হওয়ার ফর্মুলা জানতে চেয়েছি , তাদের সবাই শেষমেশ এভাবেই এড়িয়ে গেছেন।যাক গে। লেখক আমি হবোই।এটা ফাইনাল। কেউ আমায় রুখতে পারবেনা।

৪৫৫জন ৪২৩জন
1 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য