গোলাম আযম , ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাক্তি। তাকে কেন্দ্র করেই মুলত পরিচালিত হয়েছে বাঙ্গালীর ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী শক্তি । দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর একনিষ্ঠ সেবক , অখন্ড পাকিস্তান রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ এবং সবচেয়ে বড় রাজাকার হিসেবে তার পরিচিতি। তার অপরাধের বিচারের রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে কলঙ্কমুক্ত হবে বাঙ্গালী জাতি।

গোলাম আযম ৭ নভেম্বর, ১৯২২ (বাংলা ১৩২৯ সালের ৫ই অগ্রহায়ণ) সালে ঢাকায় (লক্ষ্মী বাজারস্থ শাহ সাহেব বাড়িতে তার মাতুলালয়ে) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার গ্রাম বিরগাও-এর (কুমিল্লা) একটি মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও ঢাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্সের উপর বিএ ও ১৯৫০ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৫৪ সালে আযম সাঈদ আল মওদুদীর ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হন। ১৯৫৪ সালের ২২ এপ্রিল তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন ও তাবলিগ-ই-জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীতে সহযোগী (মুত্তাফিক) হিসেবে যোগদান করার পর ১৯৫৫ সালে গ্রেফতার হয়ে রংপুর কারাগারে অবস্থানকালেই জামায়াতের রুকন হন। ১৯৫৫ সালের জুন মাসে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এর এক বছর পর তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং রাজশাহী বিভাগীয় আমীরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্রমেই দলে তার পদমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকে ও ১৯৫৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহন করেন।

গোলাম আযম তার একটি লেখায় আল্লাহ্‌র ভুল ধরেন। নাউজুবিল্লাহ

১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান মৌলবাদী ধর্মীয় কাজকর্মের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ও আযম গ্রেফতার হন। তাকে আট মাস আটক করে রাখা হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর (সভাপতি) পদে অধিষ্ঠিত হন এবং এই পদটি তাকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হয়েছিল।  দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর তাত্ত্বিক নেতা বা গুরু হিসেবেও পরিচিত।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় গোলাম আযম পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধীতা করেন । আযমের বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ২৫ মার্চের পর থেকে জামায়াতের মুখপত্র বলে পরিচিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হত। ২৫ শে মার্চ রাতে সংঘটিত অপারেশন সার্চলাইট এর ছয় দিন পর গোলাম আযম ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে একটি ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে।…আমি বিশ্বাস করি যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা পূর্ব পাকিস্তানী মুসলমানদের নিকট হতে কোন প্রকার সাহায্য পাবে না।”
২০ জুন, ১৯৭১ সালে করা একটি মন্তব্যে গোলাম আযম পাকিস্তানের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্তন করেন। মন্তব্যটি ছিল, “পাকিস্তনি বাহিনী পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রায় সকল সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিয়েছে।”
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে গঠিত শান্তি কমিটিতে আযম গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ও । এই শান্তি কমিটির সদস্যরা পাকিস্তনি সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করত। তারা স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন হিন্দুদের সম্পদ ও জমি দখল করে সেগুলো পূণঃবিতরন করত। বিশেষ করে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা শান্তি কমিটির হয়রানির শিকার হয়েছে বেশি। শান্তি কমিটির সদস্যরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে রাজাকার সদস্য সংগ্রহ করত। রাজাকারের জন্য প্রাথমিকভাবে আযমের জামায়াতে ইসলামী থেকে ৯৫ জন সদস্যকে সংগ্রহ করা হয় যাদেরকে খুলনার শাহজাহান আলী সড়কের আনসার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া যুদ্ধের সময় জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান আশরাফ হোসাইন জামালপুর জেলায় ২২ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মিলিশিয়া বাহিনী আলবদর গঠন করেন। ১২ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে আযম ও মতিউর রহমান নিজামী এই স্বাধীনতা আন্দোলনকে ভারতের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে একটি বিক্ষোভের ডাক দেন ও তাতে নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধের  ৩০শে জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে তার দল এদের দমনে সর্বাত্মক চেষ্ঠা করছে এবং এ কারণেই দুষ্কৃতিকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। আযম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল টিক্কা খানসহ অন্যান্য সেনা অফিসারদের সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় তার বিশদ আলোচনা করেন।
১২ আগস্ট, ১৯৭১ সালে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত একটি বক্তব্যে বলেন, “তথাকথিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকারীরা ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু।”

গোলাম আযমকে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও অভিযুক্ত করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে তিনি রাও ফরমান আলীর সাথে এক গোপন বৈঠক করে এই হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা তৈরী করেন।  ১৯৭১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযমের পশ্চিম পাকিস্তান সফরকালে একটি সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণ দুই কিস্তিতে ছাপা হয়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে তার দলের সদস্যদের সংঘর্ষের বিভিন্ন বিবরণ ও পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জামায়াতকে মনে করতো পহেলা নম্বরের দুশমন। তারা তালিকা তৈরী করেছে এবং জামায়াতের লোকদের বেছে বেছে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর লুট করছে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এতদসত্ত্বেও জামায়াত কর্মীরা রাজাকারে ভর্তি হয়ে দেশের প্রতি রক্ষায় বাধ্য। কেননা তারা জানে ‘বাংলাদেশ’ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন স্থান হতে পারে না। জামায়াত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না।” (দৈনিক সংগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)

১৯৭১-এর পর বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা
গোলাম আযম ১৯৭১ সালের পরও  বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। তিনি মধ্য-প্রাচ্য ও পাকিস্তানের অনেক নেতাকে এই নতুন জন্ম নেয়া জাতিকে স্বীকৃতি না দিতে তদবির করেন। তার এই তদবির সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ঢাকা বিশ্বব্যিদালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের লেখায় পাওয়া যায়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ১৯৯২ সালে গঠিত গণআদালতে উপস্থাপন করেন। এই গণআদালত জাহানারা ইমাম ও অন্যান্যদের দ্বারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত হয়েছিল। জাহানারা ইমাম এই অভিনব গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের দাবি তুলেছিলেন এবং হাজার হাজার জনতা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল।

দৈনিক প্রথম আলো অনুসারে, তিনজন বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা গোলাম আযমের বিরোদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বাঙ্গালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন সাইদ শামসুল হক, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করেন বোরহানুদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আনিসুজ্জামানের উপস্থাপিত অভিযোগের কিছু বিশেষ অংশ হল…..

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলে গোলাম আযম পাকিস্তানে বসে মাহমুদ আলী ও খাজা খয়েরউদ্দীনের মত দেশদ্রোহীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি নামে একটি সংগঠনের সূচনা করেন এবং বিভিন্ন দেশে পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার আয়োজন করতে থাকেন। তিনি এই উদ্দেশ্যে দীর্ঘকাল পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমীর বলে পরিচয় দিতেন।

১৯৭২ সালে গোলাম আযম লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠন করেন এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে আবার এই ভূখণ্ডকে পাকিস্তানের অংশে পরিনত করার ষড়যন্ত্র করেন। ১৯৭৩-এ ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অফ স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটিজের বার্ষিক সম্মেলনে এবং লেসটারে অনুষ্ঠিত ইউকে ইসলামিক কমিশনের বার্ষিক সভায় তিনি বাংলাদেশ বিরোধী বক্তৃতা দেন। ১৯৭৪-এ মাহমুদ আলীসহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে তিনি পূর্ব লন্ডনে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির একটি বৈঠক করেন। বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিনত করার প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে দেখে এই সভায় স্থি করা হয় যে, তারা এখন থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নিয়ে একটি কনফেডারেশন গঠনের আন্দোলন করবেন। এই সভায় গোলাম আযম ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাংলাদেশে ফিরে অভ্যন্তর থেকে কাজ চালানোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাক্ত করেন। ১৯৭৭-এ লন্ডনের হোলি ট্রিনিটি চার্চ কলেজে অনুষ্ঠিত একটি সভায় তিনি এ কথারই পুনরাবৃত্তি করেন এবং সেই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পাকিস্তানি পাসপোর্ট ও বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আগমন করেন।

১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে গোলাম আযম রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামি যুব সম্মেলনে যোগদান করেন ও পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকল মুসলিম রাষ্ট্রের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি সাতবার সৌদি বাদশার সঙ্গে সাক্ষাত করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে অনুরোধ করেন। ১৯৭৪ সালে রাবেতায়ে আলমে ইসলামির উদ্যোগে মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এবং ১৯৭৭ সালে কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন।

অনুরূপভাবে গোলাম আযম ১৯৭৩ সালে বেনগাজিতে অনুষ্ঠিত ইসলামি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য লবিং করেন। একই বছরে ত্রিপলিতে অনুষ্ঠিত ইসলামি যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে হানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

১৯৭৩ সালে গোলাম আযম মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুসলিম স্টুডেন্টস এসসিয়েশন অফ আমেরিকা এন্ড কানাডার বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিনত করতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।

১৯৭৭ সালে গোলাম আযম ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইসলামিক ফেডারেশন অফ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশবিরোধী বক্তৃতা করেন।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন
১৯৭৮ সালে গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট ও বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদী ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। কিন্তু তিনি ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে কোন প্রকার বৈধ ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে অবস্থান করেন এবং তার জন্মসূত্রে এদেশে থাকার অধিকার রয়েছে এই অধিকারবলে দেশত্যাগে অস্বীকৃতি জানান। ২০০০ সালের পর গোলাম আযম সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তার উত্তরসূরী হলেন মতিউর রহমান নিজামী।

গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ
১১ জানুয়ারি, ২০১২ সনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক গোলাম আযম ১৯৭১ সনে মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার হন।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ এক নং মন্তব্যে ।

৪১০জন ৪০৫জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

  • প্রজন্ম ৭১

    গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ৩(২) ধারা অনুযায়ী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, এক কোটি নর-নারীকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
    জামায়াতের এই নেতার বিরুদ্ধে ১০০ টিরও বেশি অপরাধের জন্য ৫২টি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সারাদেশে ৫১টি অভিযোগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিধু দারোগাসহ ৩৮ জনকে হত্যা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
    ৩৬০ পৃষ্ঠার মূল তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে ৪ হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে । রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ৫২টি ঘটনার শতাধিক অপরাধের ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে। জামায়াতের শীর্ষনেতা অধ্যাপক গোলাম আযমকে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন প্ররোচনাকারী ও উস্কানিদাতা।
    রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত বলেন, ’৭০-এর নির্বাচনের আগ থেকেই পাকিস্তানি জান্তার সঙ্গে অধ্যাপক গোলাম আযমসহ অন্য পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ’৭১-এর ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে পাক হানাদার বাহিনী। এ অভিযান শুরুর কয়েক দিনের মাথায় ’৭১ সালের ৪ এপ্রিল অধ্যাপক গোলাম আযমসহ পাকিস্তানপন্থী ওই নেতারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং সামরিক প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সাক্ষাতের সময় নাগরিক কমিটি ও শান্তি কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীকালে মুসলিম লীগ নেতা খাজা খায়ের উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যবিশিষ্ট শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির দৈনন্দিন কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল ৬ জনের একটি ছোট কমিটি। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন এ কমিটির দুই নম্বর সদস্য। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে সারাদেশে শান্তি কমিটি, মুজাহিদ কমিটি, রাজাকার আলবদর ও আলশামস বাহিনী গড়ে তোলা হয়। এসব বাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। এই সহযোগী সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ তদারকি করতেন গোলাম আযম। তিনি এসব বাহিনীর জন্য অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতেন। ইসলামী ছাত্র সংঘের ছাত্রদের ট্রেনিং দেয়া হোত এসব বাহিনীতে। ’৭১ সালের ১৪ আগস্ট বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন গোলাম আযম। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম এসব বাহিনী গঠনই শুধু করেননি, প্রশিক্ষণ শিবির ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে সালাম নিয়েছেন। অপারেশন সার্চলাইট শুরুর চারদিন পরই তারা এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। তারা বলেন, এ অভিযান সঠিক ছিল। এ অভিযান না হলে পাকিস্তান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেত। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী বাহিনীর মাধ্যমে যা কিছু পরিচালিত হয়েছে, তার সবকিছুই হয়েছে গোলাম আযমের মূল নেতৃত্বে। সব ঘটনার জন্য বস্তুত তিনিই দায়ী। অভিযোগ গঠনের এ উপাদানগুলো আমরা তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন থেকে পেয়েছি। রানা দাশগুপ্ত আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঈদের দিন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল থেকে ৩৮ জনকে এনে কৈরতলী এলাকায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে গোলাম আযম সম্পৃক্ত ছিলেন।

  • জিসান শা ইকরাম

    রায় কার্যকর হবে কি হবে না তার চেয়ে বেশী মুখ্য যে , একটি সরকার এদের বিচার করেছিল প্রচুর সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও।
    সবচেয়ে কষ্টের অনুভূতি এই যে , যারা ১৯৭১ এ এই দেশের বিরুদ্ধে ছিল , ১৯৭১ এর পরেও যারা এই দেশের বিরোধিতা করেছে , বর্তমানেও যারা ১৯৭১ এ তাদের দেশ বিরোধী ভুমিকাকে সমর্থন করে , তাদের বিচারের প্রশ্নে জাতি এক হতে পারেননি। যা একটি কৃতজ্ঞ জাতির জন্য একান্ত কাম্য ছিল।

    • প্রজন্ম ৭১

      ‘ রায় কার্যকর হবে কি হবে না তার চেয়ে বেশী মুখ্য যে , একটি সরকার এদের বিচার করেছিল প্রচুর সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও।
      সবচেয়ে কষ্টের অনুভূতি এই যে , যারা ১৯৭১ এ এই দেশের বিরুদ্ধে ছিল , ১৯৭১ এর পরেও যারা এই দেশের বিরোধিতা করেছে , বর্তমানেও যারা ১৯৭১ এ তাদের দেশ বিরোধী ভুমিকাকে সমর্থন করে , তাদের বিচারের প্রশ্নে জাতি এক হতে পারেননি। যা একটি কৃতজ্ঞ জাতির জন্য একান্ত কাম্য ছিল। ‘ — একমত আপনার সাথে ।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য