ভ্রমণ কথকতা………৪

ছাইরাছ হেলাল ১৩ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার, ০৯:৪০:২৫অপরাহ্ন ভ্রমণ ৩৪ মন্তব্য

প্রায় ভোর-রাত, জাঁক করে বসলাম, র’ মত নয়, উদ্দেশ্য ভাত-ঘুম বা ঝিমুনি টাইপ কিছু একটা। এ-ওর কাঁধে-বুকে মাথা ফেলে কাজ চলে যাচ্ছিল, এভাবে কতক্ষণ কেটেছে তা মালুম নেই, ঘুম ভেঙ্গে গেলে কফির ঘ্রাণ নাকে এসে পৌঁছুল ভাল করেই, খিদেটা-ও চনমনে, মোচরা-মুচরি শেষ করে হাল্কা কনুই চালিয়ে তাঁর পাক্কা-ঘুম কাঁচা করে কফির উৎস খুঁজে নিলাম।

উরি-বাস!! শালিরা দেখি সক্কাল বেলায়-ই চাঁদের হাট বসিয়ে ফেলেছে, ক্যাফেটি ব্যানার- ফেস্টুন আর পোস্টারে রমরমা, নূতন একটি বার্গারের প্রমোশনাল অফার, অতিকায় রেড-মাঙ্কিগুলো সাবড়ে যাচ্ছে সেগুলো ক্যাফেতে বসে-বসে, এমনিতে দাম পনের ডলার, এখন মাত্র সাত ডলার, প্রচার-টাইম বলে, আকার-আকৃতি দেখে একটু দমে গেলাম, প্রস্থে টেনিস বলের আকারের সমান কিন্তু উচ্চতায় বলের অর্ধেক, ভাবছি গোটা তিনেকের কমে কাজ হবে না। আর-ও ভাবলাম আমরা পূর্ব দেশীয় মানুষ, হারামিরা আমাদের কী-না-কী খাইয়ে পুটু মেরে দেয় তার ঠিক-ঠিকানা নেই, তাই প্রথমে একটি করে বার্গার ও কফি দিয়ে শুরু করি, দেখি-না-কী-হয় সিস্টেম।

কাউন্টারের নাদুস-নুদুস (ফাইন) গোলাপি শূকরী-ছানাটিকে জিজ্ঞেস করলাম বার্গারের সাথে কফি ফ্রি কী-না!! মৃদু হেসে প্রবল মাথা নাড়ানাড়ি এপাশ-ওপাশ, এবার আর একটু ঘন হয়ে নিচু স্বরে বললাম আমাদের দুজনকে অন্তত একটি কফি দাও, ভাগাভাগি করে খাই। এ-কথা শুনে চিড়ল দাঁত সব বের করে হেসে কুটি-কুটি, সাথে ছোট্ট প্লেয়ার্স থাকলে দাঁত তুলে ফোকলা করে দিতাম।

হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কাউন্টারের অন্য ধাড়ী শূকরীটি নিবিষ্ট-গোল-চোখে ঝিকমিকে শিকল-দাঁত মেলে আমার সঙ্গিনীকে গিলছে!! ঝট্ করে আড়াল দিয়ে দাঁড়ালাম, এ-শালি শিউর ‘রং’!! এবারে আমার দাঁত কেলানো!! দেখ হারামি কত বড় দাঁত!! ভেংচি!! অপ্রস্তুত ও লজ্জাইত করতে পেরে আনন্দ আর আনন্দ।

যে-ই-না কামড় বসাতে যাচ্ছি, মনে পড়ে গেল 83 X 7!! ধুর বাল বলে কু-চিন্তা ঝেরে ফেলে খেতে শুরু করে দিলাম, কিন্তু এ-কী!! আমি কোথায়!! কী খাচ্ছি!! সিদ্ধান্ত নিলাম স্বর্গ-ফর্গ সব বাদ, বাদ সব ঘুরাঘুরি, আমি আর কোথাও যাব না, পকেটে যে পর্যন্ত রেস্ত আছে সে পর্যন্ত ইট বার্গার, থিংক বার্গার ও স্লিপ বার্গার!! খোঁচায় সম্বিৎ ফিরে পেলে দু’টো কফি নিয়ে বাইরে এসে বসলাম, ঠাণ্ডা কফি পেলাম না, ঠাণ্ডা করেই খেতে হবে স্টারবাকের কফিটি।

অভব্য, অসভ্য, বদমাশ, নেমকহারাম সময় এখন উসাইন বোল্টের পিঠে সওয়ার হয়ে ছুটছে!!

হঠাৎ পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কান ঝালাপালা শব্দে লাউড স্পিকারে বিমানে সেঁধিয়ে যাওয়ার শেষ ঘোষণাটি ভেসে এলো, গাট্টি-বোচকা নিয়ে ভো দৌড়!! পড়ে রইল না-খাওয়া সাধের কফিটি, যে-টি তখন-ও উষ্ণ!!

ভাল কথা,
ভেজা-চোখ, নাতিদীর্ঘক্ষণের প্রবল জড়াজড়ি ও হাল্কা চুমা-চাট্টি সহ বিয়োগান্তক কিছু দৃশ্য কাট্‌ করা হলো (অবশ্য মিলেঙ্গে ফের)।

৩৯৭জন ৩৯৭জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ