দিন শেষে তুমি শুধুই নারী : পর্ব- ১

খসড়া ৭ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১১:৩৮:২৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৭ মন্তব্য

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বড় ভাই খাটে বসা। মেঝেতে বসে ছন্দা ভাইয়ের হাটুতে মাথা রেখে কাঁদছে চিৎকার করে— ভাইয়া ওরা আমার বিচার বসিয়েছিল। ভাইয়া ওরা আমার বিচার বসিয়েছিল। ভাইয়া ছন্দার মাথায় হাত রেখে বলল– আবিদ কোথায় ছিল?

— আম পরে ওকে ডেকে এনেছি, ও আসার সাথে সাথে ওরা সুর পালটিয়ে ফেলেছে।

— তোমাকে একা পেয়ে অপমান করার চেষ্টা করেছে কারন ওরা তোমায় হিংসা করে।

অবাক হয়ে ছন্দা ওর বড় ভাইয়ের কথা শুনলো। ওর ভাই ওর কান্না দেখে নিজেও কাঁদছে। এই ভাই ওর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ভাই। যে ভাইকে দেকভাল করে ছন্দা আজ ছন্দার বড় আশ্রয় হয়ে তার মাথায় হাত রেখেছে।

ত্রিশবছর আগে ছন্দার বিয়ে হয় যখন ছন্দা ছিল আর্কিটেকচারের ফাইনাল ইয়ারে। ওর নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই বিলিন হয়ে গিয়েছিল। পেয়েছেও অনেক ভালবাসা আদর। কখনওই নিজেকে অসম্মানিত মনে করেনি। কিন্তু এতদিন পর যে আঘাত ছন্দা পেলো তার জন্য মোটেই প্রস্তুত সে ছিলনা।

অনেকদিন পর গ্রামের বাড়িতে সপরিবারে সবগুলি ননদ,দেবর,ভাসুর সহ ছন্দারাও এসেছে। বাড়ির বউ হিসেবে এখানে ছন্দাই গৃহকর্ত্রী। এই বাড়ি দেকভালের জন্য একটি পরিবার বাস করে। ছন্দারা এলে ওরাই কাজ করে অন্যান্য কাজের লোক সহ। বাড়ির কোথায় কি আছে না আছে সব ওরাই জানে।

কাজের মহিলাটিকে ডেকে ছন্দা বিভিন্ন জিনিস চাইতে লাগলো,– এই দিয়াশলাই কই?

— তুমি আনো নাই? না আনলে আমি কোত্থেকে দেব?

— কি বাজে কথা বলছো জানো যে আমরা আসলে গ্যাসে চুলা জ্বালাবো এগুলি আনার কথাতো ফোনে বলে দিয়েছি।

— আচ্ছা যাও রশুন আনো।

— রশুন নাই?

কেন?

আমি কি জানি তোমার চাচা আনে নাই?

গরম্মশল্লা আছে নাকি তাও নাই??

এই সময় চাচার খুব উত্তেজিত স্বর,  এই কি হয়েছে রে? এত মেজাজ নিয়ে আসছো কেন? আমরা তোমার মেজাজ দেখবো নাকি? কোন লাটবাহাদুর আসছে মেজাজ দেখাতে? জীবনটাই আমরা নষ্ট করে ফেললাম এবাড়িতে থাকিতে থাকতে। কি পেলাম? আবার মেজাজ দেখায়?

— এই তোমার বরের কি হইছে? এই চাচা দাড়াও, কি হইছে? কি বলছ? দাড়াও!!

চাচা হনহন করে ঘর থেকে বেড় হয়ে গেল উঠানে ,ওখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে গালাগালি করলো কিছুক্ষন। ছন্দা ঘর থেকে বেড় হবার সময় চাচী বলল— চাকুটা দাও পটল ছিলবো?

রাগে লজ্জায় ছন্দা বলল— লাগবে না, তুমি চলে যাও এক্ষুনি এ বাড়ি থেকে।

— রাগ করো না ও এমন করেইতো কথা বলে তুমি যানো।

ছন্দা ঘর থেকে বাইরে বারান্দায় বসতেই তরকারি কুটতে থাকা এক মহিলা জিজ্ঞাসা করলো –কি হয়েছে চাচার?

ছন্দা জবাব দিল– মনে হয় থাকবে না আর তাই ছুতা খুঁজছে।

— সাথে সাথে চাচার তীব্র চিৎকার ও গালাগালি আবার শুরু হল। চিৎকার চেঁচামেচি করে চাচীকে নিয়ে বেড় হয়ে গেল বাড়ি থেকে। চাচা চলে যাবার পর ছন্দা বলল– এত্ত সাহস,  আর না,  এ এবাড়িতে আর থাকতে পারবে না। একটু পরেই একাই এলো চাচীকে বাড়িতে রেখে। ছন্দা জিজ্ঞাসা করলো– কি চাচা, চাচী আসবে না?

— আসবে না কেন আসবে, একটু পরে আসবে?

কাজের লোকের সাথে কাজ না করার জন্য ছন্দা কৈফিয়ত চেয়েছে । তাতে রূঢ় স্বরে রুক্ষ আচরণ করেছে কাজের লোক। এতগুলি ননদ ওখানে বসে সব শুনলো কিন্তু ওকে কিছুই বলল না।

===== চলবে

২৪১জন ২৪০জন
0 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য