জীবনবোধ ( ব্যাবহার ও অধিকার)

মোঃ মজিবর রহমান ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ০৬:০৫:৩২অপরাহ্ন অন্যান্য ২৭ মন্তব্য

জন্ম সৃষ্টি জীবন। চলার পথ হয়তো কখনই মসৃণ নয়। সেই মায়ের পেট থেকে বাহির তারপরই সচল বা অচল, সমতা বা বন্ধুর পথ।

অভিজ্ঞ  অনভিজ্ঞ ধরাধরি গমণ। চলতে হয় অনেক তিক্ত মিষ্ট পথ বেয়ে। আমরা মানুষ একে অপরকে কোন কর্ম বা গুন নিয়ে দোষারোপ হরহামেশায় করি। কিন্তু আমার মনে হয় সবই অতীব প্রয়োজন জায়গায় জায়গায় জিবনের ক্ষেত্রে।

বেশ কিছু বছর গাঁও গ্রামে পুলিশ মটর বাইকের চালকের উপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেই চলেছে। পুলিশ আছে যেমন ছ্যাচড়া তেমনি সাধারণ মানুষও কম না।

আইন ও ব্যাবহারঃ   বেশ কয়েক বছর আগে এক সাধারণ কৃষক অবস্থাশালী,  আছে মটর বাইক। এক গ্রামে বা বংশে একটি বাইক মানে সবাই চালক। তাই একদিন হাট ফেরত পথে পুলিশের ব্যারিকেট। থামাও মটর। থামালো।

মটর বাইকের চারিপাশ চেয়ে দেখে কাগজের প্রতি খোজ । শেষে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ইনস্যুরেন্স লইয়া টানাহেচড়া।

নাই নাইই। দেব কোত্থেকে? কাগজ নাই টাকা দাও। টাকাও নাই। পুলিশ ব্যাটাও টাকা ছাড়া বোঝেনা। বাইকের লোক ও টাকা নাই ছাড়া কথা নাই। এই ঠেলাঠেলি করতেই চলে বেশ কয়েক মিনিট মানে আধা ঘন্টা। পুলিশের দাবী ৫০০/= টাকা দিতেই হবে, এই এই করতে করতে ৫০/= টাকা দাবী, তাও নাই । শেষে লাথি পিছনে যা ভাগ। দূর থেকে দুই একজনের এই দর্শনে হাসাহসি চলেছেই চলছে।

গ্রামের একজন বাইক ওয়ালাকে বলে পঞ্চাশ টাকা দিলে অপমানের লাথি খাওয়া লাগতনা। এইবার  বাইকের ওয়ালার উত্তর,” বেগুনের পাতা উল্টিয়ে বেগুন পেলে বারবার পাতা উল্টিয়ে দেখি আর আছে কিনা। তাইলে।

ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়।

মানুষের প্রতি মানুষের অধিকারঃ  এখন আমাদের দেশে নারীবাদি আন্দোলন ও তাহার পক্ষে অনেক পুরুষ ও নারী প্রত্যক্ষ আন্দোলন করেন কিন্তু বাস্তবে ঘরে তাদের আদর্শ খুজে পাওয়া যাবে না আন্দোলনের নিতিবাক্য। ।

আমি সমাজ ডেভেলপ বা সমাজের অবহেলিত নারীদের সামাজিক, আইন ও আর্থিক উন্নতির জন্য এন.জি.ও.তে জীবিকার তাগিতেই চাকরি করেছি। কিন্তু এই সব উচ্চ সুউচ্চ নারী নেত্রী ও কর্তাব্যাক্তিগনের বাসায় থাকেনা সময়াধিকার। কিছু আছে স্বামীদের দায়দায়িত্ব ত্যানাতানা আবার কিছু পুরুষের বাড়ীতে নাই নারীর সম অধিকার।

কিছু উন্নত নারী ও পুরুষ কারোর ফ্যামিলিতে নাই সুখ শান্তি। যে যার মত চলে। কে কার বিছানায় ঘুমায় তা নিয়েও খোজ খবর রাখেনা। কারণ তারা
মনে হয় সঠিক তাদের ইজ্জত অন্যের ঘরে থাকলেও নো চিন্তা ডু ফুর্তি। তাদের কাছে মনে হয় চামড়ায় চামড়ায় থাকে কি সমস্যা??? আসলেও কি তাই???

আমার সাবেক কর্মস্থলের ইডি বলতেন সে কাজের মেয়ের সাথে থাকে আমি তো না করিনা। বলুন এইটা কি নারীর অধিকার!!! এইটা নারীর সমাজের বা ধর্মের বা পরিবার মানাসই???

অনেক পুরুষ আছে সংসার ঠিক রাখার জন্য বউয়ের সব আব্দার মেনে নিয়েই বাবা মাকে , ভাইবোনকে দূরে রাখতে বাধ্য হয়। আমি মোহাম্মদপুরে  থাকার সময় এক ফ্যামিলির ভাবি তাঁর শাশুড়িকে মেরে বের করে দিতেন সেই ভাই ছেলে সন্তানের জন্য মেনে নিতেন। আবার উল্টাও দেখেছি। শশুড় শাশুড়িকে সন্মান খাবার দাবার দেয়।

এমন মানুষ সকল দেশ সমাজে কম বেশি আছে, থাকবেও। এরও মাঝে মানুষের জীবন। হয়ত ধরন কাহীনির কিছু হেরফের। অনেকের ইছা বা পুরুষের দোষ অনেক যা নিম্ন তুলে আনলাম। আসলে আমরা ধর্ম, আইন কানুন থেকে দূরে। কারন ধর্ম ক্ষেত্রে প্রগতিশীলরা বা আধুনিকবিদরা বাড়াবাড়ি বলে। আমার যা ইচ্ছা তাই করব তাই পরিধান করব। আসলেই কি তাই সম্ভব বা স্বাভাবিক মনে হয়?  আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপ বা আধুনিকতার দোহায় দিয়ে নারীর সমান অধিকারে ব্যাস্ত থাকি কিন্তু বাস্তবে কি চাই তাই জানিনা।

নিম্নের তথ্য কাটকপি( লেখক তাহনিয়া তরিক)ঃ 

আধুনিক বিশ্বে নারী সমস্যার ভয়াবহ চিত্র :
* ইংল্যান্ডে প্রতি ৪ জনে তিন জন মেয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বেশির ভাগ নির্যাতনকারী হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা সহকর্মী।
* ভারতে নারী ভ্রুণ হত্যা এবং নারী সন্তান হত্যার জন্য বিগত শতকে ৫০ মিলিয়ন নিখোঁজ রয়েছে। ২০০০ সালে পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে ১০০০ নারীকে খুন বা Honour Killing করা হয়েছে।
* বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কমপক্ষে ১২.৫ লাখ অবিবাহিত কিশোরী গর্ভ ধারণ করে।
* সুসভ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি হাজারে ৩০৭ জন নারী সহকর্মীদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। সেখানে প্রতি মিনিটে একজন নারী হারায় তার সম্ভ্রম।
* ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন নারী ধর্ষিতা হয় এবং ১৪ জন নির্যাতিত হয়।
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের শতকরা ৫০ জন বিয়ের আগে সতীত্ব নষ্ট করে এবং ১০ জনে ৫ জনের বিবাহ তালাকে পর্যবসিত হয়।
* সৌন্দর্যের লিলাভূমি ফ্রান্সে ২৪০ টিরও বেশি সেক্স ক্লাব রয়েছে।
* নারী দিবসের পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়কারী চীনও কন্যা সন্তান রফতানি করে আয় করে ১৫০ কোটি ডলার।
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরীর আত্মহত্যার চিত্র শতকরা ৭৬ ভাগ।
* অস্ট্রিয়ায় কর্মস্থলে শতকরা ৮০ জনের মত মহিলা জীবনে একবার কিংবা একাধিকবার বিভিন্ন মাত্রার যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
* জার্মানীতে কর্মস্থলে শতকরা ৭২ জনের মত মহিলা জীবনে একবার কিংবা একাধিকবার বিভিন্ন মাত্রার যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
* লুক্সেমবার্গে জীবনে অন্তত একবার ৭৮% মেয়ের যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
* হল্যান্ডেও একই অবস্থা উপরন্তু ৩৬% মেয়েরা রীতিমত ভায়োলেন্সের শিকার হন।
* সম্প্রতি চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার ভারতকন্যা নামধারী জ্যোতি সিং পান্ডে বিশ্বের নির্যাতিত নারীদের সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। (সূত্র : ইন্টারনেট)
আমার বাংলাদেশে নারীর অবস্থা : নারী কেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যার বিষবাষ্পে জর্জরিত আমাদের প্রিয় এ জন্মভূমির চারপাশ। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চব্বিশ বছরে এ দেশে পতিতালয় বেড়েছে প্রায় ৩০ হাজার। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে নবেম্বর মাসে নারী নির্যাতনের কয়েকটি চিত্র নিম্নরূপ, যদিও বাস্তব অবস্থা আরও অনেক বেশি ভয়াবহ:
নারী ধর্ষণ-৪৮৫, গণধর্ষণ-১৫৬, ধর্ষণের পর হত্যা-১৯০, শ্লীলতাহানি-১৯০, এসিডদগ্ধ-৬১, নারী অপহরণ-১১৫, যৌন নির্যাতন-৩৮, গৃহপরিচারিকা হত্যা-১৬, নারী ও শিশু পাচার-১৮, পতিতালয়ে বিক্রি-১৩, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা-১৫, যৌতুকের কারণে হত্যা-২৮২, শারীরিক নির্যাতন-৩৭৮, নারী হত্যা-৮৩৫, উত্ত্যক্ত-৪৩, বাল্যবিবাহ-৮৪, নারী অগ্নিদগ্ধ-২৩। (সূত্র: মহিলা পরিষদ)

 পুরুষের বিছানা সঙ্গী হওয়া,
সন্তান জন্ম দেয়া,
স্বামীর বাড়ির ১৪ গোষ্ঠীর সকলের সকল কাজ করে দেয়া
পান থেকে চুন খসলে সকলের অত্যাচার সহ্য করা
বাপের বাড়ি হতে কারি কারি যৌতুক নিয়ে আসা।

এই সবের মুলে কি শুধুই পুরুষ দোষী। অনেক ক্ষেত্রে দেখবেন অধিকার হরনে মহিলারা জড়িত।

প্রথমত বলি বিছানা সঙ্গী শুধু পুরুষের চাহিদা?

সন্তান জন্ম কি শুধুই পুরুষের জন্য।

পুরুষ কি নিজ বাড়ী ছাড়া শশুর বাড়ীর কাজে মন দেয় না?

অনেক পুরুষের সাথে কি সকল পুরুষ মিলান উচিত না সকল নারীর সাথে সকল নারীর গুন মিলানো উচিত।

যার যেমন বা যে এলাকায় যা প্রচলন। যৌতুক প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে কনের পক্ষ অনেকাংশে দায়ী। আবার বরের পক্ষের বাড়াবাড়ি তো আছেই।

সকল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা মহান আল্লাহর হাতেই, আর তাঁর অবাধ্য আমরা তাঁর দেওয়া নিয়ম থেকে দূরে সরে যাওয়ায় বড় বিশৃঙ্খলা এখন সারা বিশ্বেই।

ধর্মকর্ম নাই, বড়দের সন্মান নাই, ছোটদের স্নেহ নাই, মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা ভালবাসা নাই।

আমাদের সকলের উচিত, ” যেমন কুকুর তেমন মুগুর।” যেমন স্বভাব তেমন স্বভাবই দেওয়া উচিত।

আজ এখানেই সমাপ্তি। আগামী পর্বে অন্য বিষয় নিয়ে আসব ।

২৯৮জন ১০৯জন
8 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ