কবিতা লেকতে পারো?(২)

বন্যা লিপি ৩০ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ১২:৫৯:৪৭পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৭ মন্তব্য

বই পড়ার জন্য, প্রধান গ্রণ্থাগারিক অফিসার নারায়ন সাহা রায়ের টেবিল দেখিয়ে দিয়েছেন তাপস’দা। =”নিশ্চিন্তে এখানেই বসে বই পড়, অন্য কোথাও বসা লাগবেনা। এখানে হরেক মানুষ আসে। কেউ তোদের ডিস্ট্রাব করবেনা। ননারায়ন সাহা রায়ের পেছনে বেশ বড় একটা জানালা। বই পড়ার মাঝে মাঝেই চোখ চলে যায় জানালা পার হয়ে ওপারের খালে’র দিকে। নৌকা বাঁধা ঘাটে। মাছ ধরছে জিবীকার তাগিদে নৌকার মাঝি।এ কেমন মাছ ধরা? জাল আছে। কিন্তু এ কেমন জাল? বিরাট বড় বাঁশের তিনকোনা করে জাল আটকানো!! বাঁশের সাঁকো’র মতো বানিয়ে তার দাঁড়িয়ে বাঁশে আটকানো জাল পা দিয়ে পানিতে নামিয়ে দিচ্ছে, কিছুক্ষন পর আবার হাতে ধরা রশি ধরে টেনে বাঁশের খাঁচা সহ জাল টেনে তুলছে!!চকচকে রুপালি মাছগুলো কি সুন্দর লম্ফঝম্ফ করছে!!! কখন যেন আপন মনেই চোখে মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে।নারু কাকু (নারায়ন সাহা রায়) দেখে ফেলে। নারু কাকু= কিরে? কি দেখে এত হাসি? ” না কিছুনা ” সবাই যেন চোখে চোখে রাখে!! এমন ক্যান? মা একদিন পাকড়াও করলেন! বনা, লাভলী হঠাৎ বন্ধ করে দিলো যাওয়া। মা’ও নিষেধ করলেন। ওখানে আর যাওয়া চলবেনা। কিন্তু এখন উপায়? বইএর নেশা পেয়ে বসেছে যে!! কত্তো কত্তো বই ওখানে!! তাপস’দা ভরসা। বই এনে দেবেন, পড়া হয়ে গেলে ফেরত নিয়ে যাবেন। তাপস’দা কি ভালোে! কি ভালো! নিয়মের বাইরে গিয়ে, কতদিন বইপড়া’র নেশা যোগান দিয়ে গিয়েছেন!! একদিন তাও বন্ধ হলো। স্থানান্তর হলো পাঠাগার। এর তার কাছ থেকে শুরু হলো সংগ্রহ। দাদুর বাসার বিশাল আরমারিটা নজরে পড়লো, ব্যাস্। আর পায় কে? মায়ের কত বকুনি!!! কে শোনে কার কথা? গভীর রাতে রুমে আলো জ্বলতে দেখে বাবা’র ধমক “= তুই এখনো ঘুমাসনি? লাইট বন্ধ কর!!” উপায় খুঁজে বের করতে সময় লাগলোনা। সন্ধ্যা নামতেই চুপি চুপি হারিকেন জ্বালিয়ে খাটের নীচে আড়াল করে লুকিয়ে রেখে, লাইট অফ্ করে ডিম ডিমে আলোতে একরাতে ৩/৪টা বই সাবাড় করে ফেলতে ফেলতে মুয়াজ্জিনের ধ্বনি কানে এসে লাগে। আলো ফুটে উঠতেই চোর পায়ে সদর দরজা খুলে, বাইরে থেকে শেকল টেনে বন্ধুদের ডেকে প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে পরা।সবাই ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগেই আবার ঘরে ফেরা।
বইএর নেশায় দিনরাত্রির হিসেব করা হয়না। পাশের বাসায় স্কুলের দিদিমনি ভাড়া এসেছেন। মাঝে মাঝেই যেতে হয় ইংরেজি ট্রান্সলেট নিতে। কখনো বিরক্ত হননা। খুশি হয়ে নিজ হাতে লিখে দেন। একদিন চোখ গেলো দিদিমনি’র উকিল স্বামী’র আইনের মোটা মোটা বইগুলোর পাশাপাশি শরৎ বাবুর রচনাবলী। ঠিক হলো, পরীক্ষাটা শেষ হোক আগে, পরীক্ষা শেষ হতেই ৬ খন্ডের রচনাবলী একসপ্তাহে সাবার!! স্কুলের পাঠাগার থেকে সংগ্রহ শুরু হলো অষ্টম শ্রেনী থেকে। তাও মাত্র কিছুদিনের জন্য। বন্ধ হলো তাও। মা প্রায়ই হুমকি দেন পুড়িয়ে ফেলবেন বই। ভয়ে লুকিয়ে রেখে রেখে চলতো বই পড়া। বাবা কিছু বলেন না। শুধু পরীক্ষা’র আগে আগে ধমকান। রাত জেগে বসে থাকা বাবা প্রেসক্লাব থেকে এসে পড়া ধরবেন।

চলবে……..

কবিতা লেকতে পারো?// ১

৫২৩জন ৩৮৬জন
0 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য