আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-নয়)

সুরাইয়া নার্গিস ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৭:৩৯:১৭পূর্বাহ্ন গল্প ১২ মন্তব্য

“আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব নয়)

-তুমি কেমন আছো..?
-আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি।
-তারপর তোমার খবর বলো বয়স তো অনেক হলো এবার কারো গলায় মালাটা পড়িয়ে দাও। অনেকদিন কোন বিয়ের দাওয়াত পাই না পেট ভরে খেতে পারব।
-হি হি হি হি হি পাগল তুমি কি বাসায় না খেয়ে থাক, যে আমার বিয়েতে পেট ভরে খাবে 😂
-না রে পাগলী, বান্ধবীর বিয়ে বলে কথা একটু আনন্দ ফুর্তি বেশি হবে এই আর-কি আর যদি বিয়েতে সুন্দরী কোন নারী আমার প্রেমে সাড়া দেয় তাহলে তো জীবন ধন্য। একটা প্রেম করার সুযোগ পাব, জীবনে তো কেউ প্রেমের অফার করলো না হা হা হা হা।

কখনো কাউকে বলার সুযোগ দিয়েছো, আর বললেও সবাইকে প্রত্যাখান করছো, বলতে বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করবো প্রেম আমি করবো না বলেই সব বাদ দিতে এখন প্রেম,বিয়ে নিয়ে ভাবো নাকি বললো শীলা।আরে মজা করলাম রে পাগলী দোস্ত তারপর বলো কি অবস্থা তোমার, চাকরিটা তো ছেড়ে দিলে এখন কি করছো..?
শীলা বাসা আর টিভি দেখি মাকে সময় দেই ভালোই সময় কেটে যায়।

-আরাফ!
-বলো।
-আন্টি আঙ্কেল কেমন আছেন.?
-আমার কথা বলে.?
-সবাই ভালো আছে।
তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তোমাকে সবাই চিনে, ভালোবাসে, মাঝে মাঝেই মা প্রশ্ন করে কি রে শীলার কি বিয়ে হয়ে গেছে.?
-আমি বলি নাহ্।
আগের মতো যোগাযোগ হয়না তবে আজ বাড়ি ফিরে মাকে বললো শীলা ভালো আছে।

-শীলা হেসে বললো, তোমার ও বয়স কম হলো না এবার একটা বিয়ে করো আন্টিকে একটু বিশ্রামে দাও।
-আরে শোন আমার মা অন্য মহিলাদের মতো ঘরে বসে থাকে না, সারাদিন পার্টি,সমাজ সেবা করে বেড়ায় বাসায় ১০ ঘন্টা থাকলে ১৪ঘন্টা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন মন খারাপ করে কথা গুলো বললো আরাফ।

-শীলা চা খাবে না কফি, -এই গরমে কিছুই খাব না চল বরং উঠি একটু ছোট খালার বাসা হয়ে যাব বলেই শীলা উঠে দাঁড়াল।
-আরে বসো এক কাপ চা খেয়ে যাও বললো আরাফ।
– আচ্ছা চা শেষ করেই খাবার শীলার ইচ্ছা না করলেও খাবার খেল আরো কিছু গল্প করার পর দুজনেই ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে গেল।
-আসছি পরে মোবাইলে যোগাযোগ করবো আজ সময় নেই তোমার সাথে অনেক কথা জমে আছে দোস্ত নিরিবিলি পরিবেশে বলতে হবে এই হৈ হুল্লু-রে বলা যাবে না বলেই শীলা ক্যান্টিন ত্যাগ করলো আরাফ শীলাকে বিদায় জানিতে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

প্রিয়া এবার ৮ম শ্রেণিতে পড়ে গায়ের রংটা আরো উজ্জল হয়েছে, বয়সের সাথে মানানসই স্বাস্থ্য লম্বাটা প্রায় ৫’ ৩ ইন্সি হবে, ভাসা ভাসা চোখ সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ সুন্দরী নারী। মা এখন আর প্রিয়াকে একা স্কুলে যেতে দিতে ভরসা পায়না মিরা স্কুলে নিয়ে যায়, সামনে স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষ পড়াশোনার ব্যাপারে প্রিয়া খুব সিরিয়াস ভালো রেজাল্ট করতে হবে।

রাতের আকাশে সারি সারি তারা দেখা গেল। মেঘমুক্ত রাতের আকাশকে ভালোই লাগছে তার এর আগে এতো ভাল করে আকাশকে লক্ষ করেনি আরাফ। এমন তন্ময় হয়ে আকাশ দেখছে প্রথম বার মনটা আজ বেশ ভালো কলেজ বন্ধ ছিলো, সারাদিন শীলার সাথে ঢাকা শহর ঘুরে বেড়িয়েছে দুপুরে বাইরে খেয়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছে।
আরাফ ভাইজান,আকরাম আঙ্কেল আপনাকে ডাকছে একটু ড্রইংরুমে আসুন সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কি জানি আলোচনা করবে বলেই কাজের মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে আরাফের উওর ….

….চলবে।
সুরাইয়া নার্গিস।

৩৪৩জন ২৩০জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য