অগ্নিকাণ্ড এবং অগ্নিনির্বাপক

রুমন আশরাফ ২৬ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ০৯:৪৬:১৯অপরাহ্ন পরিবেশ ১০ মন্তব্য

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নি নিভানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করি ঠিকই, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং অগ্নিকাণ্ড যেন না ঘটে সেসব নিয়ে খুব একটা ভাবিনা আমরা। না মানি কোনও নিয়মনীতি, না মানি যথোপযুক্ত সেইফটি কালচার। অগ্নিকাণ্ডের অনেকগুলো কারণের মধ্যে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অন্যতম। অথচ এসব শর্ট সার্কিট যেন না ঘটে তার জন্য কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করি না। সামান্য কয়েকটি টাকা বাঁচানোর জন্য ইলেকট্রিক ডি.বি প্যানেলে উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করি না। ইলেকট্রিক্যাল সেইফটি মেনে চলি না। কেমিক্যাল মালামাল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কি কি নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক তা আমরা জানি না। আর জানলেও সঠিক নিয়মটি আমরা মানি না কিংবা মেনে চলি না। কোটি টাকা খরচ করে ব্যবসায় লিপ্ত হই, বড় বড় ফ্যাক্টরি গড়ি। অথচ এসব জায়গায় অগ্নি নির্বাপকের ব্যবস্থাও ঠিকভাবে রাখি না। অনেক অফিস কিংবা ফ্যাক্টরিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপক দেখেছি। আবার কিভাবে এগুলো ব্যবহার করতে হয় তাও দেখেছি অনেকেরই কাছে অজানা। এদিকে আবার অগ্নি নির্বাপণের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির অপ্রতুলতা তো আছেই। আবার বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সেইফটি নিয়ম মানা হয় না।  যথেষ্ট পরিমাণ জলাধারের অভাবও পরিলক্ষিত হয়। জরুরী নির্গমন ব্যবস্থাও রাখা হয় না অনেক দপ্তরে। ধূমপানের জন্য “স্মোকিং জোন” রাখা হয় না। তাছাড়া বেশীরভাগ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের সল্পতাও বিদ্যমান।

 

অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং সেফটি কালচারের প্রতি চরম উদাসীনতার জন্যই প্রতিবছর বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে হেফাজতে রাখুন। আমীন।

২০৩জন ১৩২জন
6 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ