সেই ছেলেবেলা নেই
আমাদের স্কুল ছিল মধুপুর
একদিন ছুটি হল মধ্যদুপুর
পথে ছিল ধু ধু মাঠ খাঁ খাঁ রোদ্দুর
নির্জন মাঠে চোখ যায় যদ্দুর।
তেরনলা বিল ছিল ঠিক মাঝপথে
সেই স্মৃতি ভেসে ওঠে আজ মনরথে
ওইটুকু পথ যেতে কেটে যেত বেলা
ফিরবার পথে হতো কত শত খেলা।
বিলটার নীল জলে মাছেদের দল
সারাক্ষণ নাচে গানে করে কোলাহল
কাতল-বোঁয়াল-রুই-টাকি-সরপুঁটি
আনন্দে মেতে রয়, করে খুনসুটি।
বিলপাড়ে মন কাড়ে কদমের গাছ
বাবুই – চড়ুই – টিয়া করে গান নাচ
ছাতা মেলে আছে আহা!
ফুলগুলো ডাহা ডাহা
আছি যেন মামনির আঁচলের ‘কাছ’।
রোদ্রের খরা তোপে
কদমের সেই ঝোপে
বিশ্রামে ছিল এক ক্ষুদে খরগোশ
ফুল আর ঘাসবনে
অন্তরে সেই ক্ষণে
কি যে সন্তোষ, আহা কি যে সন্তোষ!
মাথা-গায়ে হাত ‘বুলে’
আমি ক’টা ঘাস তুলে
খাওয়ালাম তাকে।
বহুদিন পরে যেন খুঁজে পেল মা’কে।
মাহফুজা এলো যেই
হারালো সে পলকেই
আতংকে দিশেহারা, কে পায় আর তাকে!
মুহূর্তে মনটা উঠেছিল কেঁদে
সাধগুলো উবে গেল নিয়েছি যা বেঁধে
সেই শোকে আজও কাঁদি, আজও ভারী মন
গেঁথে আছে তেরনলা, কালীতলা বন।
আহা সেই ছলাকলা
কদম-কেয়ার তলা
আজ আর নেই!
জীবনের পথ তাই হারিয়েছে খেই?
আহা সুখেভরা আমাদের ছেলেবেলা নেই!
————————0 0————————-




৩২টি মন্তব্য
“বিলটার নীল জলে মাছেদের দল
সারাক্ষণ নাচে গানে করে কোলাহল
কাতল-বোঁয়াল-রুই-টাকি-সরপুঁটি
আনন্দে মেতে রয়, করে খুনসুটি।”
সবাই দল বেঁধে নেমে পড়ি জলে
মাছ ধরি উৎসবে স্কুল হলে ছুটি।
ভাল লাগলো। শুভ কামনা।
শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দাদা।
বেশ বড় করে ফেলেছেন অনেক শুভ কামনা রইল কবি দা
কোথায় ছোট করা যায়, যদি একটু পরামর্শ দিতেন, উপকৃত হতাম।
আসলেই সেই ছেলেবেলা নেই। যখন একা থাকি, তখন খুব মনে পরে। আহা, মধুময় ছেলেবেলা।
ভালো লাগলো ছড়াটি।
ধন্যবাদ
এখন শুধুই খুঁজতে থাকি হিরণ্ময় ছেলেবেলা
কবির কবিতার সঙ্গে নিজের ছেলাবেলার কথা জেগে উঠলো।
খুব মনে পড়ে ভাই।
ছেলেবেলাটা একটা সোনালী সময় ।এই সময় আর কখনোই কারো জীবনে ফিরে আসবে না। কিন্তু বা চোখ বুজলেই সেই মধুর সময় গুলো ।
মনে পড়ে যায়
ধন্যবাদ আপু।
পুরনো স্মৃতি যেন ফিরে পেলাম কবি।যদি কবিতাটি আপনার কণ্ঠে আবৃত্তি শুনতে পারতাম মনটা আনন্দে ভরে যেন।দারুণ কণ্ঠ আপনার।শুভ কামনা রইল।অপেক্ষা সোনেলা ফের মিলন মেলার তখন আপনর কবিতা পাঠ শুনব।
ইনশাআল্লাহ সুযোগ আসবে। অপেক্ষায় থাকলাম ভাই।
আহা! সুখে ভরা ছেলে বেলা
আর নেই আর নেই
আসবেও না কোনো কালে
ছন্দে ছন্দে ছেলেবেলায় ফিরে
যাওয়া দারুণ আনন্দের
চমৎকার লিখেছেন ভাইয়া
তোমরা সাহস দাও বলেই লিখতে পারি।
দুরন্তপনা কিশোরকাল ভুলে থাকা যায় না। মধুময় স্মৃতি।
ধন্যবাদ ভাই।
আপনার লেখায় নিজের ছোটবেলা ফিরে পেলাম।
তাইলে সম্ভবত ঠিক লিখেছি। ধন্যবাদ আপু।
চোখের সামনে দূরন্ত শৈশব এসে হেসে খেলে গেলো প্রতিটি শব্দের গাঁথুনিতে। সোনা রঙের সোনালী দিন গুলি……
অফুরান শুভেচ্ছা ও শুভকামনা আপা।
মুহূর্তে মনটা উঠেছিল কেঁদে
সাধগুলো উবে গেল নিয়েছি যা বেঁধে
সেই শোকে আজও কাঁদি, আজও ভারী মন
গেঁথে আছে তেরনলা, কালীতলা বন।*****
সত্যিই মনটা ছেলেবেলার জন্য কাঁদে।
শুভ কামনা।
একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা আপু।
হারানো ছেলেবেলার আক্ষেপ-সুর ছন্দে ছন্দে খুব সুন্দর করে তুলে এনেছেন।
যা হারায় তা আর ফিরে আসে না/আসবে না, কিছু রেশ তার থেকেই যায় আনন্দ-বেদনায়।
অন্তহীন শুভকামনা ও ভালবাসা ভাই।
সুন্দর বাল্যবেলার কাহীনি নিয়ে বেশ ভাল লাগার কবিটা খানি।
মন ছুয়ে যায়।
ধন্যবাদ ভাই।
আপনার লেখা পড়ে স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো মানসপটে ভেসে এলো। আহা! ছেলেবেলার মত সোনালী সময় আর ফিরে আসবেনা।
চমৎকার লেখা পড়লাম ভাই।
আপনার মন্তব্য আমাকে শক্তিশালী প্রেরণা দেয়। ধন্যবাদ ভাই।
ছন্দে ছন্দে ছেলেবেলা তাও চিঠির মোড়কে। বোনাস পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা রইলো
শুভেচ্ছা ও শুভকামনা
যদি মধুময় ছেলে বেলা আবার ফিরে আসতো? নতুন আলোকে ছেলেবেলা উপস্থাপন দারুন লেগেছে ব্যস্তপাখি।
ভাল থাকুন,শুভ কামনা সব সময়।
আর গ্রুপের কথা বলবো না আপনাকে।ঘি যোগার হোক, রাধা নাচুক,তারপরে যদি আপনার সময় হয়।
করোনার ভয়াল থাবা কেটে যাক। ভালোবাসি। ভাল থাকুন।