মূল লেখায় যান

শরতের নিশিযাপনে।

প্রদীপ চক্রবর্তীএকান্ত অনুভূতি২৬টি মন্তব্য

বিশাল নদীর উপর পানসি করে আমরা কয়েকটা দিন কাটাতে চাই।
চোখের আলোয় ভেসে উঠা রাতের অন্ধকারের চাঁদ। আর গভীর বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বনুহাঁসের শব্দ জানান দেয় শরৎ এসেছে।

কচিকাঁচা ঘাসে শিশির মাড়িয়ে রোদ আসে।
ভরদুপুরে চঞ্চল জলের স্রোতে
রূপালি মাছ খেলা করে।
আকাশের মেঘমালার ন্যায় শ্বেত শুভ্রতায় ফুটে উঠে শরতের কাশফুল।
নদীর কিনারা আর ইরিধানের মাঠ জুড়ে আগমনী গন্ধ।
সে সুযোগে আমরা হারিয়ে যাওয়া গল্প খুঁজে বেড়াই।ঝরাপাতার বুকে তুমি তখন ভূগোলের ম্যাপ আঁকো।
সমস্ত ক্লান্তি শেষে ফেরারি রাখাল গোষ্ঠে ফিরে।
আরক্তভায় রক্তিম হয়ে বিদায় নেয় শেষ বিকেলের গোধূলী।
দূর হতে আসে ভাটিয়ালি গান।
আমরাও সুর ধরি।
পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যা হলে রাত্রি নামে।
রাতের আঁধারে পাখিরা নিঃশব্দে উড়ে বেড়ায়।
আমরা আবার পানসিতে বসে চাঁদের আলোমেখে রূপকথার কাব্য লেখি।

গোটা পৃথিবীর নিশিযাপনে,
আমরা অতন্দ্র প্রহরী সেজে ঈশ্বরের সৃষ্টিশীল জগতকে অনুভব করি।

.

ছবিঃ সংগৃহীত।

মোট পড়েছেনঃ ১০৬৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. দেখে খুব ভাল লাগছে যে, প্রতিজন কবি সাহিত্যিকের মনের ভিতর শরতের ছোঁয়া লেগেছে। যার ফলে প্রতিভাযশঃ কবি সাহিত্যিকরা তাঁদের মনের মাধুরী দিয়ে কাব্য গল্প ও কবিতা লিখে যাচ্ছেন। সবার লেখা পড়ে আমিও শরতের মাঝে ডুবে যাই।
    দাদাভাই,
    আপনীর লেখায় শরতের যে ছোঁয়া পেয়েছেন তা আমি কোনদিন পাবো না। তাতে দুঃখ নেই। দাদা ভাইয়ের কবিতাটা পড়েই শরতের ঘ্রাণ প্রান ভরে নিলাম। খুব সুন্দর লিখেছেন। শুভ কামনা রইলো।

  2. বাহ্। দারুন ব্যাপার পানসি যাপন। শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করলাম আপনার সুনিপুণ লেখনীতে। দাদা শরতের নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরে উঠুক সবার মন। শুভ কামনা রইলো। শুভ সকাল

  3. ঈশ্বরের সৃষ্টিশীল জগতের সৌন্দর্য দেখতে হলে অতন্দ্র প্রহরী হতে হবে বৈকি। সব চোখে প্রকৃতির সব রুপ ধরা পড়ে না। ছবিটা খুব সুন্দর।

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. জাগতিক সৌন্দর্যকে এভাবে অনুভব করতে হয়।
      আর এ সৌন্দর্য অনুভবের জন্য সুন্দর মনের প্রয়োজন।
      আর এ জন্য কখনো অতন্দ্র প্রহরী হতে হয়।
      ধন্যবাদ দিদি।

  4. দাদা আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি তারা শরতের শরীরে যে কতো রুপ তাতো বর্ণনা করে শেষ করবার নয়।
    আপনি দারুণ শরত বন্দনা লিখেছেন।
    থৈথৈ পানি চারিদিকে যেন সাগর মহাসাগর। গাছপালার শ্যামলিমায় সাজসজ্জার বাহার।
    খুব ভালো লিখেছেন দাদা।
    আপনার সাথে ঘুরে এলাম ইরি ধানের ক্ষেত মাঠঘাট।
    শারদীয় শুভেচ্ছা রইল দাদা।

    1. সত্যিই প্রতিটি ঋতু গ্রামের অনন্য মাত্রা বহন করে।
      গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট্ট নদীর তীরে বেড়ে ওঠা কাশফুল আর বাড়ির আঙ্গিনায় ফুটে ওঠা শিউলি জানান দেশ শরৎ এসেছে।
      তখন প্রকৃতি আগমনী গন্ধ মাখে।
      আমার বেশ ভালো লাগার ঋতু হলো শরৎ।
      .
      সাধুবাদ জানাই, দিদি।
      ভালো থাকুন অনেক।

  5. প্রদীপ চক্রবর্তী ভাইয়া,
    আপনার শরতের উপখ্যান ভিন্নমাত্রা এনেছেন,সেটা হলো আপনার অনুভূতির শক্তি। দারুনভাবে উপলব্ধির প্রকাশ করেছেন। শরতের ভাবনায় কম বেশী সবাই আলোড়িত হয় বা হন। তবে আপনার গভীরতা অতুলনী।
    খুব ভাল থাকুন,শুভ কামনা সব সময়।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।