মূল লেখায় যান

মাস্তানের কবলে একদিন

কামাল উদ্দিনভ্রমণ২৬টি মন্তব্য

একপাশে সু-উচ্চ পাহাড় শ্রেণী, অন্য পাশেও বিশাল গাছে গাছে পরিপূর্ণ এলাকা। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দুইটি সমান্তরাল রেলপথ। দূরে পাহাড়ের ঢালুতে ছাড়ানো ছিটানো কয়েকটি আধিবাসি কুড়ে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের উপারে অস্তমিত সূর্যের আলোকচ্ছটার কিছু ভাঙ্গা অংশ কয়েকটি গাছের মাথায় শোভা পাচ্ছে। পাখিদের কিচির মিচির বাদ দিলে একেবারেই শুনশান। একটা রেল স্টেশন এতো শুনশান হয় কি করে? স্টেশনের নাম মাস্তান নগর। স্টেশনের মূল বিল্ডিং এর ভেতর কয়েকটি গরু বাঁধা দেখে বুঝতে অসুবিধা হলো না যে স্টেশনটা পরিত্যাক্ত। তো এই বেলায় ক্যমেরায় ভালো ছবি আসার কোন কারণ নাই, ক্যামেরা প্যাকআপের আগে তাও কিছু ছবি উঠাই।

আমি আর আমার সঙ্গী আলোচনা করছি স্টেশনটার এমন একটা নাম কি করে হলো? স্টেশন থেকে বের হওয়ার পথে ছোট একটা মুদি দোকানের সামনে দু’জন লোক বসা। পেছন থেকে ডাকলো ভাইজান একটু শুনবেন? আপনারা কিসের ছবি তুললেন? আমি বললাম প্রকৃতির। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এর পথে রেল লাইন ধরে হেটে মাস্তান নগর এসেছি জেনে এতো বড় হা করলেন যেন ওখান দিয়ে আস্ত একটা রেল গাড়ি চলে যেতে পারবে। সে আরো অনেক প্রশ্ন করলো কিন্তু আমাদের উত্তর সেই একটাই। কাউকে ফোন দিলো, আর আমাদের জন্য চা বিস্কুটের অর্ডার দিলো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আমাদেরকে এখনি এখান থেকে বের হয়ে ঢাকার বাসে চড়তে হবে এসব বলে পার পেলাম না। কেক চা খেলাম এবং বেড়িয়ে আসলাম স্টেশন থেকে।

আসল চমক যে বাকী ছিল তা টের পেলাম একটু পরেই। সামনের কাঁচা মাটির পথ ধরে মোটর সাইকেল নিয়ে তিনজন এসে নিমিষেই আমাদের ঘিরে ধরলো। ইতিমধ্যে আরো একটা সিএনজি এসে ওদের দলটা তিন থেকে পাঁচে উন্নীত করলো। সিএনজি থেকে দুজন নামল চকচকা দুইটি চাপাতি নিয়া। মুহুর্তেই মনে পড়ে গেলো দিনে দুপুরে শত শত লোকের সামনে পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যা করা হয়েছিলো এমন চাপাতি দিয়া। আর সাথে সাথেই মোটর সাইকেল আরোহীদের একজন ওর জামা উঠিয়ে দেখিয়ে দিলো ওর কাছে রয়েছে একখানা পিস্তল। আশে পাশে সাহায্য পাওয়া যাবে কিনা চারিদিকে চোখ বুলিয়ে সন্ধ্যার অন্ধকারকে আরো কালো করে দেওয়া একটা ইট ভাটার চিমনি দিয়ে প্রচন্ড গতিতে বেড়িয়ে আসা কালো ধোয়া ছাড়া আর কিছুই নজরে এলো না। আবারো আমাদেরকে সেই পুরোনো বকবকানি চালাইতে হলো। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রেল লাইন ইত্যাদি ইতাদি….

এক সময় মোটর সাইকেল চালকের নির্দেশে আমাদেরকে সিএনজি তে করে সামনের দিকে রওয়ানা হলো। মনের ভেতর কু ডাক ডাকছে। এক সময় সামনে ছোট্ট একটা বাজারে প্রবেশ করলাম। আমাদের নিয়ে বসাল একটা গরিবানা রেষ্টুরেন্টে। এই বাজারের চারিদিকের সব মানুষকেই শত্রু পক্ষের মতো মনে হলো। কিন্ত চাপাতি ওয়ালারা এখানে আমুল বদলে গেলো। আমাদের আপ্যায়নের জন্য বেশ তৎপরতা শুরু করে দিলো। কিছু না খেলে ছাড়বে না দেখে এক কাপ চা খেতে চাইলাম। চা খাওয়ার পর ওরাই সিএনজি ভাড়া দিয়ে আমাদের বারইয়ারহাট বাসষ্টেন্ডে পাঠিয়ে দিলো। ঘাম দিয়ে জ্বর সারল। আমি জানি এসবই হচ্ছে আমার সাংবাদিক মার্কা ক্যামেরাটার গুণে বা দোষে।

মোট পড়েছেনঃ ১০৬৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৬টি মন্তব্য

  1. আনন্দের মাঝে বিষফোঁড়া হাজির না হলে কি হয়! বাপরে ভীষণ ভয়ের ব্যাপার। ওরাতো আগ পিছ কিছু ভাবেনা।কপাল ভালো খারাপ কিছু হয়নি। মারধর করলে তো হাড্ডি মাংস এক করে দেয় , শুনেছি যদিও। ঈশ্বর সহায় হোন। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন

    1. আমার বিশ্বাস এই এলাকায় বড় কোন সন্ত্রাসীদের কোন একটা কার্যক্রম রয়েছে। তবু আমাদের ভাগ্য ভালো ছিলো বলে বেঁচে গেছি আপু,,,,,,,,,,,শুভ কামনা জানবেন।

  2. কামাল ভাই কিছু দিন পর পর ক্যামেরা বদলায় । আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না একটি ক্যামেরা রেখে আরেকটি কেনার দরকার কি। এখন বুঝলাম ক্যামেরা কেয় চিজ হেয়। কামাল ভাই ভাল একটি দূর্ঘটনা থেকে বেচেঁ ফিরেছেন তার জন্য কিছু না করলেও অন্তত ক্যামেরাটার জন্য একটা মিলাদ মাহফিল দেওয়া অবশ্যক ছিল।

  3. শিরোনাম পড়ে ভেবেছিলাম কোনো ফকির বাবার দরবার দেখতে গিয়েছিলেন। পড়ে দেখি আসলেই মাস্তানদের এলাকা! যাক, তবু্ও ভালোয় ভালোয় ফিরে আসতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো।

    শুভ কামনা 🌹🌹

  4. ছবি ছাড়া মনে হয় বেশী কিছু এইই লিখলেন, অবশ্য আগেও সামান্য পড়েছি।
    এই তো অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে, হাঁটি-হাঁটি পা না, দৌড়-দৌড় পায়ে।
    সমূহ বিপদ থেকে আল্লাহ বাঁচিয়েছেন।
    কিছু টাইপিং মিস্টেক আছে, ঠিক করে নিন।

  5. “ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এর পথে রেল লাইন ধরে হেটে মাস্তান নগর এসেছি জেনে এতো বড় হা করলেন যেন ওখান দিয়ে আস্ত একটা রেল গাড়ি চলে যেতে পারবে।”

    খুব মজা পেলাম।
    আচ্ছা, আপনি কি ভ্রমণ বিলাসী? নাকি কাজের সূত্রে ভ্রমণ করেন?

  6. ভাই,
    আজই আমি ভিক্টোরিয়ার পোস্ট দিতে চাই। আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। পোস্টে ছবিগুলো কিভাবে সংযুক্ত করতে হয় জানিনা। সম্ভব হলে জানাবেন প্লিজ।

    1. আপনার ফ্লিকার একাউন্ট না থাকলে একটা ফ্লিকার একাউন্ট খুলে নিন। ফ্লিকার একাউন্ট খুলতে হলে উয়াহু একাউন্ট থাকতে হবে। প্রত্যেক ইয়াহু একাউন্টই একটা করে ফ্লিকার একাউন্টে ১০০০ পর্যন্ত ছবি ফ্রিতে রাখার অনুমোদন দেয়। ওখান থেকে লিঙ্ক দিয়ে ব্লগে ছবি দিতে হবে। আসলে বিষয়টা আমি ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবো না। তবে চাইলে আপনার পোষ্টে ফ্লিকার একাউ্ট খুলে দিতে আমি সহায়তা করতে পারবো। যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে ০১৭১১৩৯০২৪২