মূল লেখায় যান

মহামান্য শেখ মুজিব হে প্রমিথিউস বাংলার

মর্তুজা হাসান সৈকতকবিতা, সমসাময়িক, সাহিত্য২৩টি মন্তব্য


মহামান্য শেখ মুজিব, হে প্রমিথিউস বাংলার, আরও একবার আপনি
উঠে আসুন টুঙ্গীপাড়া, সবুজে সবুজে মোড়া ছবির মতন সেই গ্রাম
থেকে, কিংবা উঠে আসুন ধানমণ্ডির ৩২ নাম্বার, ঢাকার প্রতিটি
রাজপথ থেকে। মহামান্য হে স্থপতি, পদ্মা মেঘনা যমুনার কোল বেয়ে
আরও একবার ফিরে আসুন আম জাম কাঁঠালের নিবিড় ছায়া, এই
সাধের বাংলায় আপনার। টুঙ্গীপাড়া থেকে উঠে আসা হে মহান
প্রমিথিউস, মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসী সন্তান, আপনাকে আরও একবার আসতে
হবে হাজারটা গ্রাম থেকে বাংলার, বড্ড মমতায় জাগিয়ে তুলতে
হবে আর পনের কোটি ঘুম যাওয়া বিবেক। জাগিয়েছিলেন যেমনটা
সাড়ে সাত কোটি সন্তান, একাত্তরের বিভীষিকাময় দিনগুলোতে সেই।

বাংলার প্রতিটি বৃক্ষ, পাখি, নদী, মাঠ, মাটির সোঁদা গন্ধে আপনাকে
ফিরে আসতে হবে হে মহামান্য শেখ মুজিব। যেমনটা ছিলেন ৭ই
মার্চের সে মহাকাব্যিক ভাষণ, রেসকোর্সে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাকে-,
“রক্ত যখন দিয়েছি, আরও দেবো, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে
ছাড়বো ইনশাল্লাহ।“ নামগোত্রহীন অসংখ্য বেজন্মা আজ চারপাশে
আপনি ছাড়া কেউ নেই সবুজ শাড়িটার সম্ভ্রম বাঁচায় হে প্রমিথিউস।

ঘাতকের বুলেটের সাধ্য কি আজ? হে মহামান্য শেখ মুজিব, বাংলার
প্রমিথিউস, দেখুন না পঁচাত্তর উত্তর প্রজন্ম বড্ড দুঃসময়ে, ত্রাণকর্তা
নেই কোনো। ফুল, পাখি, মাটি ও মানুষের হে অকৃত্তিম বন্ধু দেখুন না,
মুজিবকোর্ট পরিহিত কিছু বিকারগ্রস্থ, বর্বরদের নারকীয়তা, হিংস্রতা
আপনার হিরকদ্যুতিময় উজ্জ্বলতাও ম্লান করে দেয়। গাঙ্গেয় বদ্বীপ,
স্বপ্নসৌধ যত আপনার বিনির্মাণ জেগে তাই, আপনাকে আসতে হবে
আসতেই হবে, শোক, জরা কতকাল বয়ে যাবো হে বাঙালির পিতা?

আপনাকে আসতেই হবে হে মহামান্য শেখ মুজিব, দেখুন ৩২ নাম্বার
ধানমণ্ডি থেকে আপনার প্রেরিত পবিত্র সনদ স্বাধীনতার, চরমপত্র
মুক্তির, যে মেজর পাঠ করেছিলো আপনার সপক্ষে, আপনার রচিত
অমর সঙ্গীত, হিরকদ্যুতিময় একাত্তর-, “এবারের সংগ্রাম, আমাদের
মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।“ জলে-স্থলে,
আকাশ-বাতাসে, অন্তরে অন্তরে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে হতে যা
ছড়িয়েছিলো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। হাজারটা সূর্যের অম্লান
জ্যোতির্ময়তাকে সেই, যাকে একদা উপপ্রধান সেনাপ্রধান করেছিলেন
আপনি, আপনার অনুগত সে মেজরের ক্রেডিট বলে চালিয়ে দেয়
একদল মধ্যসত্ত্বভোগী! ‘রুপো আর হীরেয়’ যেনো পার্থক্য নেই আজ!

তাই আপনাকে উঠে আসতে হবে টুঙ্গীপাড়া, সবুজে সবুজে মোড়া ছবির
মতন সেই গ্রাম থেকে অথবা ধানমণ্ডির ৩২ নাম্বার, ঢাকার প্রতিটি
রাজপথ থেকে, কিংবা আপনাকে আসতে হবে পদ্মা মেঘনা যমুনার
কোল বেয়ে আম জাম কাঁঠালের এই নিবিড় ছায়ায়। ত্রিশ লক্ষ শহিদ,
আপনার একটা আঙ্গুলের নির্দেশে যারা অকাতরে বিলিয়েছে অমূল্য
প্রাণ, নইলে ভেঙে যাবে ঘুম তাঁদের, ভেঙে যাবে ঘুম। ধৈর্যের স্নিগ্ধতা
কার আর এত, আপনি উঠে আসুন, উঠে আসুন হে প্রমিথিউস বাংলার।

ইউটিউব লিংক

মোট পড়েছেনঃ ১১৩৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৩টি মন্তব্য

  1. আমার কবিতাগুলো নিয়ে বদরুল আহসান খান’র কণ্ঠে একক আবৃত্তির এ্যালবাম ‘দুঃসময়ের বন্দরে দাঁড়িয়ে’র’ পঞ্চম কবিতা এটি। কবিতাটি আগামীকাল রাত ১১ টায় বৈশাখী টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি হবে। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এসএ টেলিভিশনের বেলাশেষের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখা আমার কবিতা, ‘হে স্বাপ্নিক তোমাকে নিবেদিত পংক্তিমালা। সে কবিতাটিও সোনেলায় প্রকাশিত।

      1. বৈশাখী টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে আজ আবৃত্তি হবে এ কবিতাটি। গতকাল এসএ টেলিভিশনে আবৃত্তি হয়েছে, হে স্বাপ্নিক, তোমাকে নিবেদিত পংক্তিমালা কবিতাটি। এসএ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানটি আজ ভোর রাত সাড়ে চারটায় পুনরায় প্রচারিত হবে ভাইয়া। 🙂 🙂

    1. প্রায় মাস দুই অনলাইনের বাইরে ছিলাম ভাইয়া। অনিয়মিত হয়ে পড়েছি সব জায়গাতেই। ইচ্ছে আছে নিয়মিত হওয়ার। 🙂 🙂

      দুটো টেলিভিশনে গেলো আগস্টের কবিতা। কাল রাত এগারটায় বৈশাখীতে এ কবিতাটি আবৃত্তি হবে। 🙂

  2. বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন বলেই জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশ নামক ভূ-খন্ডের-এই সত্য কেউ অস্বীকার করতেই পারবে না।
    আপনার কবিতাটি অসম্ভব ভাল লাগলো।

    1. বসুন্ধরার ফুড কোর্টে বসে এ কবিতাটির থিম মাথায় এসেছিলো। এরপর দুই দিনের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমে দাঁড় করিয়েছি কবিতাটি। আমারও ভালো লাগে এ কবিতাটি। ভালো থাকবেন। -{@

  3. অনেক শ্রদ্ধা জাতির পিতাকে।

    কবিতাটি-ও খুবই ভাল লিখেছেন। আপনার আবেগকে শ্রদ্ধা করি আমি।

    শেষ লাইনের আগের লাইনে লিখেছেন ‘নইলে ভেঙ্গে যাবে ঘুম তাঁদের, ভেঙ্গে যাবে ঘুম’, কীজন্য লিখেছেন এটি, বুঝিয়ে বললে ভাল হোত। কবিতা একটু কম বুঝিতো।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।