মূল লেখায় যান

শান্তির কপোত রাখাইনের

[রোহিঙ্গা হত্যা এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে]

মৃত্যুর পাখিটি উড়ে আসে এখানে
বার্মিজ নির্মমতার অশুভ অরণ্য থেকে
হাঙরের অধিক হিংস্রতায়__
আর প্রকম্পিত করে তোলে
রোহিঙ্গা পল্লীগুলো রাখাইনের

বর্বর সামরিক বাহিনী আর মিলিশিয়া
যেখানে জ্বালিয়ে দেয় গ্রামগুলো
আর নির্বিচারে গুলি করে
পলায়নরত নিরীহ মুসলমানদের___
যেখানে সম্ভ্রম হারায় কিশোরী আর নারী
সীমান্তে পুঁতে রাখে বিষাক্ত মাইন!

গগনবিদারী বিলাপ আর সকরুণ চিৎকারে
অনাগত সন্তানসহ যেখানে ভেসে আসে জননীর লাশ
যার গলে যাওয়া চোখ, ছিন্নভিন্ন দেহ__
আর মৃত মায়ের স্তনে মুখ গুজে দেয় শিশু!
যেখানে
নবী মুহাম্মদের অনুসারীও অংশীদার
ভূমি আর সংস্কৃতির পবিত্র ইতিহাসের

বনাঞ্চল, নদী আর পাহাড়ে
ছড়িয়ে ছটিয়ে অর্ধমৃত মানুষ আর লাশের সারি
আর লোকালয় সাফ হয়ে যেখানে বিরানভূমি!
কেনো না এখানেই,
অহিংসার ধর্মবুলি জপতে থাকা
মানবীয় অং সান সূচী আর জেনারেলগণ
শান্তি আওড়াতে আওড়াতে উগরে দেয়
নিউট্রন বোমা আর মারণাস্ত্রে আতঙ্কদৃশ্য!

এইসব লাশমিছিল আর শোকাদহ বুকে চেপে
ফলে ছুটে আসে শরণার্থী
নাফের জল নোনা রক্ত আর সমুদ্রের হাওয়া ছুঁয়ে
ঠাঁই নেয় খোলা আকাশের নিচে
আর কেউ পাহাড়ের বুক কেটে!
সীমান্তের এইপারে, ফলে___
ব্যস্ততা বাড়ে গোরখোদক আর স্বেচ্ছাসেবীর
আহতদের তোলা হয় স্ট্রেচারে, মৃতদের কবরে

নগর বন্দরে আর ছেয়ে যায় কাদা আর লাশের বাতাস
স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মত
আর নিশ্চল ভঙিমায়
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সঙ দেখে, মহা মোড়ল
আর আশকারা দেয় অবিশ্বাস্য ধ্বংসলীলায়___
অথচ, প্যারালাইজড বিশ্ববিবেক
নেতিয়ে থাকে জাতিসংঘে
ফলে বছর থেকে বছর ফাইলবন্দী থাকে
শান্তির কপোত রাখাইনের, মুসলমানদের!

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত্রি, বরগুনা।

মোট পড়েছেনঃ ৮৮৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?